চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে লক্ষাধিক টাকা মাসোহারায় চলছে নিষিদ্ধ যানবাহন

মো. এরশাদ আলম, লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম): চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের লোহাগাড়ায় লক্ষাধিক টাকা মাসোহারা দিয়ে অবাধে চলছে নিষিদ্ধ যানবাহন লেগুনা, সিএনজি অটো রিকশা। অভিযোগ রয়েছে, কিছু অসাধু ব্যাক্তি ও সাংবাদিক নামধারী চাঁদাবাজরা মোটা অংকের মাসোহারা নিয়ে রেজিষ্ট্রেশন বিহীন লেগুনা, সিএনজি অটো রিকশা সড়কে চলাচলের সুযোগ করে দিয়েছে। নিষিদ্ধ গাড়ি গুলো পুলিশের হাতে আটক হলে তারা অমুকের গাড়ী বলে পার পেয়ে যান।

এসব নিষিদ্ধ লেগুনা, সিএনজি অটো টেক্সি-রিকশা থেকে প্রতিমাসে হাতিয়ে নেয়া হচ্ছে কয়েক লক্ষ টাকা।

এসব যানবাহনের চালকসহ গাড়ির অধিকাংশেরই কোন বৈধ কাগজপত্র নেই।

চালকরাও অপ্রাপ্ত বয়স্ক। ফলে প্রতিনিয়ত সড়কে ছোট-বড় দূর্ঘটনা ঘটছে। আর সড়কে লেগে থাকে লাগামহীন যানজট। অন্যদিকে সড়কে চলাচলরত লেগুনা ও সিএনজি রিকশা নম্বর-রেজিস্ট্রেশনবিহীন। নাম্বর প্লেটে নেই কোন রেজিস্ট্রেশন নাম্বার। নাম্বার প্লেটে দেখা যায় চট্টগ্রাম থ-১৪, থ-১৭, থ-১২ ইত্যাদি।

লোহাগাড়া সদরের বটতলী মোটর স্টেশনের আইস পার্ক ও এমদাদিয়া মার্কেটের সামনে মহাসড়কে অবৈধ লেগুনার স্টেশন। নিষিদ্ধ লেগুনা আইস পার্ক থেকে চকরিয়া ও এমদাদিয়া মার্কেট থেকে কেরানীহাট, দোহাজারী পর্যন্ত যাত্রী নিয়ে যাতায়াত করে। এসব অবৈধ যানবাহনের অধিকাংশ চালক অপ্রাপ্ত বয়স্ক ও অদক্ষ। তারা লোকেন গ্লাসে

পেছনের গাড়ি না দেখে সড়কের উপরই যাত্রী উঠানামা করে থাকেন।ফলে প্রতিনিয়ত ছোট-বড় সড়ক দূর্ঘটনাসহ বিভিন্ন স্টেশনে যানজট লেগেই থাকে।

অথচ ঐ সব স্টেশনে ট্রাফিক বিভাগের অফিস রয়েছে। সেখানে ৩জন টিআই ৩জন সার্জেন্ট ও এটি এসআই সহ ট্রাফিক বিভাগের সদস্যরা নিয়োজিত রয়েছে। যদিও মহাসড়কের উভয় পাশে ৩০ ফুট পর্যন্ত দেখার দায়িত্ব হাইওয়ে পুলিশের। হিসেবে মতে, দোহাজারী হাইওয়ে থানার আওতাধীন মহাসড়ক ও উপসড়কে লেগুনা, সিএনজি অটোরিকশা মিলে প্রতিদিন কয়েকহাজার এসব অবৈধ যান চলাচল করে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন সিএনজি অটো রিকশা এবং লেগুনা চালক জানান, প্রতিমাসে ৩ থেকে ৪হাজার টাকা দিয়ে গাড়ি গুলো মহাসড়কে চলে। কাকে টাকা দেওয়া হচ্ছে জানতে চাইলে তারা নাম প্রকাশে অপরাগতা প্রকাশ করেন।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের চন্দনাইশ, সাতকানিয়া ও লোহাগাড়ায় মহামান্য হাইকোর্টের

আইনকে ফাঁকি দিয়ে প্রতিদিন ৫’ শতাধিক সিএনজি অটো রিকশা ও লেগুনা চলাচল করে।

নিরাপদ সড়ক চাই লোহাগাড়া শাখার সভাপতি মোজাহিদ হোসাইন সাগর জানান, মহাসড়কে নিষিদ্ধ যানবাহন লেগুনা, সিএনজি অটো রিকশা ও ব্যাটারি চালিত রিকশা অবাধে চলাচল করছে। ফলে সড়ক দূর্ঘটনা বাড়ছে। তিনি দ্রুত এসব অবৈধ যান বন্ধের দাবি জানান।

সড়কে সিএনজি অটো টেক্সি-রিকশা চলাচলের ব্যাপারে দোহাজারী হাইওয়ে থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: সিরাজুল ইসলাম জানান, মহাসড়কে অবৈধ যানবাহন চলাচলের বিরুদ্ধে তারা জিরো টলালেন্স। তিনি জানান, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের লোহাগাড়া অংশসহ চন্দনাইশ ও সাতকানিয়াতে নিষিদ্ধ গাড়ির বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে। তিনি যোগদানের পর গত দুই মাসে অভিযান চালিয়ে ২০টি সিএনজি অটোরিকশা জব্দ করেছেন। গত মাসে মামলা হয়েছে ৩০০টি। এর মধ্যে ত্রি-হুইলার-ইজিবাইকের নামে মামলা ২০০টি ও অন্যান্য মামলা ১০০টি। ইতোমধ্যে বহু অটো টেক্সি-রিকশার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। ত্রি-হুইলার-ইজিবাইকের বিরুদ্ধে অভিযান শুরুর পর থেকে মহাসড়কে অবৈধ গাড়ির চলাচল কমে গেছে এবং দূর্ঘটনাও কমেছে।

মহাসড়কে ত্রি-হুইলারসহ অবৈধ যানবাহনের বিরুদ্ধে সবসময় অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।