৮ মাস বন্ধ বাগাতিপাড়ার ” জামনগর পকেটখালি” পুলিশ ফাঁড়ি আবারও পকেটখালি হওয়ার আতঙ্কে চার উপজেলার পথচারী!

রিয়াজুল ইসলাম রিয়াজ,নাটোর থেকেঃ আলোচিত জেলার বাগাতিপাড়ার ’জামনগর-পকেটখালি’ ক্রাইম পয়েন্টের স্থাপিত পুলিশ ফাঁড়ি বন্ধ হয়ে গেছে। এতে রাজশাহী ও নাটোরের চারটি উপজেলার মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। আলোচিত পকেটখালি পুলিশ ফাঁড়ি বাগাতিপাড়া মডেল থানার অধীনে। কিন্তু এলাকাটি বাগাতিপাড়া, রাজশাহীর বাঘা, চারঘাট ও পুঠিয়া উপজেলার সীমান্তে জামনগর এলাকায় অবস্থিত। চারটি উপজেলার মানুষ ওই এলাকা দিয়ে যাতায়াত করে। সেখানে রাতের আঁধারে এমনকি দিন-দুপুরেও ছিনতাইকারী ও ডাকাতরা অস্ত্রের মুখে জনপ্রতিনিধি ও ব্যবসায়ীসহ সকল শ্রেণিপেশার মানুষের সবকিছু কেড়ে নিত। এ কারণে এলাকার প্রকৃত নাম ‘জামনগর’ ছাপিয়ে নতুন নামকরণ হয়েছে ‘পকেটখালি মোড় ‘। এর আগে ফাঁড়ি চালুর মাত্র দুই বছরের ব্যবধানে নিরাপত্তার অজুহাতে পুলিশ ফাঁড়িটি তুলে নেয়া হচ্ছে বলে লোকমুখে খবর ছড়িয়ে পড়ায় উল্লেখিত চার থানার মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু এবার সে কথা সত্যি হলো ১০ বছর পর। প্রায় ৮মাস ধরে বন্ধ হয়ে পড়ে আছে বাগাতিপাড়া উপজেলাধীন ’জামনগর-পকেটখালি’ নামক ওই ফাঁড়িটি।জানাযায়, জামনগর ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি রাস্তায় পর পর ছিনতাইয়ের ঘটনায় ২০১১ সালে পকেটখালি পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের উদ্বোধন করেন রাজশাহী রেঞ্জের তৎকা

লীন ডি.আই.জি সিদ্দিকুর রহমান। ফাঁড়ি স্থাপনের পর ছিনতাইকারীরা সোটকে পরে ওই স্থান থেকে। তারপর থেকে ভালোই চলছিল সবকিছু। কিন্তু আবার ২০২১ সালের শুরুর দিকে কোনো কারণ ছাড়াই ফাঁড়িটি হটাৎ বন্ধ করে দেয়া হয়। শরিফুল ইসলাম নামের স্থানীয় এক দোকান মালিক জানায়, পুলিশদের সুবিধা ও আমাদের দুটো টাকা লাভ হবে এ আশায় দোকান দিয়েছিলাম। সবকিছু ভালোই চলছিলো কিন্তু হটাৎ ফাঁড়িটা বন্ধ হওয়ার কারণে এ রাস্তা দিয়ে খুব একটা মানুষ চলাফেরা করেনা আর পুলিশরাও নেই। বেচা কেনা না হওয়ায় সন্তান ও পরিবারের মুখে খাবার তুলে দিতে হিমশিম খাচ্ছি।

জামনগর পশ্চিমপাড়া গ্রামের ভ্যান চালক আখতার আলী জানান, দিনের বেলা কোনো রকম গাড়ি ঘোড়া চলে। কিন্তু যখন সন্ধ্যা পড়ে তখন মনেহয় শ্মশানের রাস্তার থেকেও ভয়ানক এই পকেটখালির রাস্তা। পুলিশ ছিল তাই বুকে বল নিয়ে চলাফেরা করতাম এখন পুলিশও নেই তাই সন্ধ্যার আগেই ভ্যান ঘরে তুলতে হয়। রাস্তাটা দ্রত নিরাপদ করা প্রয়োজন, পুলিশ ফাঁড়িটি চালু করার অনুরোধও জানান ।

বাগাতিপাড়া মডেল থানার ও.সি সিরাজুল ইসলাম জানান, শুধু পকেটখালি নয়, ফোর্স সংকটের কারনে দেশের একাধিক পুলিশ ক্যাম্প বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে নিয়মিত টহল টিম পাঠানো হচ্ছে।

নিরাপদ সড়ক চাই সংগঠনের নাটোর জেলা শাখার সভাপতি গোলাম মোস্তফা বলেন, সড়ক নিরাপদ রাখার স্বার্থে ও পথচারীদের নিরাপত্তার বিষয়ে খেয়াল করে ফাঁড়িটি দূত চালু করার জন্য কর্তৃপক্ষের নিকট জোর দাবি জানাচ্ছি।
পুলিশ সুপার লিটন কুমার সাহা বলেন, ফাঁড়ি বন্ধ নয়, ফোর্স কম থাকায় স্থায়ী ভাবে পুলিশ রাখা সম্ভব হয়নি। তবে টহলটিম প্রতিনিয়ত ওই এলাকায় নজর রাখছে। ফোর্স বাড়লেই আগের মতো স্থায়ী ভাবে পুলিশ মোতায়েন করা হবে।