২০ লক্ষ টাকার জাল নোটসহ চক্রের অন্যতম মূলহোতা সহ গ্রেফতার-৩

মাসুদ রানাঃ গত ২৮ নভেম্বর ২০২১ তারিখ র‍্যাব-৪ এর একটি আভিযানিক দল মিরপুরমডেল থানাধীন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ২৮,৫৩,০০০/- টাকা মূল্য মানের জাল নোটসহজাল নোট তৈরী ও বিক্রয়কারী চক্রের সক্রিয় ০৪ সদস্যকে গ্রেফতার করতে সমর্থ হয়। গ্রেফতারকৃতআসামীদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এই চক্রটির মূলহোতা ও অন্যান্য সহযোগীদের সম্পর্কে জানা যায়।ফলশ্রুতিতে র‍্যাবের গোয়েন্দা নজরদারী বৃদ্ধি করে গত রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে  র‍্যাব সদরদপ্তরের গোয়েন্দা শাখা এবং র‍্যাব-৪ এর একটি আভিযানিক দল ঢাকার মিরপুর পল্লবী এলাকায়অভিযান পরিচালনা করে সংঘবদ্ধ জাল নোট তৈরী চক্রের মূল হোতা,মোঃ ছগির হোসেন (৪৭), মোছাঃসেলিনা আক্তার পাখি (২০)ও মোঃ রুহুল আমিন (৩৩)ঝালকাঠি’দেরকে গ্রেফতার করা হয়। এসময়ধৃত আসামীদের নিকট হতে ১,২০,০০,০০০/- টাকা মূল্যমানের জাল নোট, ০৫টি মোবাইল ফোন, ০২টিল্যাপটপ, ০১টি সিপিইউ, ০১টি মনিটর, ০৩টি প্রিন্টার, ০১টি হ্যান্ড এয়ারড্রয়ারসহ জাল নোট তৈরীরবিপুল পরিমান সরঞ্জামাদি জব্দ করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা তাদের অপরাধসংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য প্রদান করেছে।

জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা জানায় যে, তারা পরস্পর যোগসাজশে দীর্ঘদিন যাবৎ ঢাকা ও বরিশালসহবিভিন্ন এলাকায় এই জাল নোট তৈরী করে বাজারে সাপ্লাই দিতো।

গ্রেফতারকৃত মোঃ ছগির হোসেন ১৯৮৭ সালে বরগুনা থেকে ঢাকায় এসে প্রথমে একটি হোটেল বয়েরকাজ নেয়। পরবর্তীকে ভ্যানে ফেরি করে গার্মেন্টস পণ্য বিক্রয় করত। গার্মেন্টস পণ্য বিক্রয়ের সময়আসামী ছগির এর সাথে জনৈক ইদ্রিস নামক একজনের সাথে পরিচয় হয়। পরিচয়ের সুবাদে তাদের মধ্যেসু-সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ইদ্রিস এর মাধ্যমে তার জাল নোট তৈরীর হাতেখড়ি হয়। প্রথমে সে জাল নোটবিক্রি ও পরবর্তীতে সে জাল নোট তৈরীর বিষয় রপ্ত করে। ২০১৭ সালে জাল নোটসহ ইদ্রিস ও ছগিরআইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে গ্রেফতার হয়। ০১ বছর জেল খেটে পুনরায় সে ২০১৮ সাল হতেজাল নোট তৈরি শুরু করে।এ চক্রের মূলহোতা ছগির নিজেই স্থানীয় বাজার হতে জাল নোট তৈরিরপ্রয়োজনীয় উপকরণ যেমন টিস্যু পেপার, প্রিন্টার, ল্যাপটপ ও প্রিন্টারের কালি ক্রয় করে তার ভাড়াবাসায় গোপনে বিশেষ কৌশলে এ-৪ সাইজের ০২ টি টিস্যু পেপার একসাথে আঠা দিয়ে লাগিয়ে রঙ্গিনপ্রিন্টারে ডিজাইনকৃত টাকা তৈরি করত। সে স্থানীয় বাজার থেকে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন দোকান হতে এসবজাল নোট তৈরির সরঞ্জামাদি ক্রয় করত। সে নিজেই প্রিন্টিং ও কাটিং করত। প্রিন্টিং এর কাজেঅন্যান্যদের সম্পৃক্ত করা হতো না।

জাল নোট তৈরির পর সে তার অন্যান্য সহযোগীদের’কে মোবাইলে কল করে তার কাছ থেকে জাল নোটনিয়ে যেতে বলত। প্রতি ০১ লক্ষ জাল নোট ১০-১৫ হাজার টাকার বিনিময়ে বিক্রি করত। তারসহযোগিরা মাঠ পর্যায়ে সরবরাহ ও বিক্রি করত। টার্গেট বা চাহিদা অনুযায়ী ছগির প্রতিমাসে তারসহযোগীদেরকে বোনাসও দিত। জিজ্ঞাসাবাদে সে জানায়, করোনাকালীন সময়ে মাঝে মাঝে ছগিরনিজেও এ জাল নোট স্থানীয় বাজারে ব্যবহার করত; কয়েকবার সে সাধারণ জনগণের হাতে ধরাওপরেছিল বলে সে জানায়। আসামীরা সাধারণত কোন মেলায়, ঈদে পশুর হাটে ও অধিক জন-সমাগমঅনুষ্ঠানে তারা জাল নোট বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে ব্যবহার করত। বর্তমানে বাণিজ্য মেলা ওশীতকালীন প্রত্যন্ত অঞ্চলের বিভিন্ন উৎসব ও মেলাকে কেন্দ্র করে বিপুল পমিান জাল টাকা তারা তৈরীরপরিকল্পনা করে।সেলিনা আক্তারের স্বামীও জাল নোট তৈরি চক্রের একজন সক্রিয় সদস্য এবং বর্তমানেসে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে আটক হয়ে জেলে আছে। সেলিনা ঢাকা জেলার কামরাঙ্গীর চরে একটিবিউটি পার্লারে বিউটিশিয়ান হিসেবে কাজ করত। স্বামীর মাধ্যমে এ চক্রের মূলহোতা ছগিরের সাথে তারপরিচয় হয় এবং সে নিজেও এ চক্রে জড়িয়ে জাল নোট ব্যবসা শুরু করে।

অপর আসামী রুহুল আমিন মূলতঃ এ চক্রের মূলহোতা ছগিরের অন্যতম সহযোগী। রুহুল আমীনেরমাধ্যমে ছগিরের অন্যান্য সহযোগীদের পরিচয় হয়।

গ্রেফতারকৃত আসামীদের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা রুজুর কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন ।