১৫ দিনের মধ্যে কর্ণফুলীতে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের আহ্বান

জাহাঙ্গীর আলম ব্যুরো প্রধান চট্টগ্রাম: চট্টগ্রাম কর্ণফুলী রক্ষায় আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে বক্তরা বলেছেন, ২০১৬ সাল থেকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ সাতটি নোটিশ দিয়েছে জেলা প্রশাসন ও সহযোগি সংস্থা। বাস্তবায়ন হয়নি একটিও। প্রশাসনের প্রদত্ত সকল উচ্ছেদ নোটিশ ও নতুন করে দখল সকল তথ্য উপাত্ত নিয়ের্  সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা প্রার্থনা করে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে উচ্চ আদালতের দারস্থ হচ্ছে চট্টগ্রাম নদী ও খাল রক্ষা আন্দোলন।

বক্তারা জানান, ২০১৬ সাল থেকে কর্ণফুলী দখল করে গড়ে উঠা মাছ মাজার ও অন্যান্য স্থাপনা উচ্ছেদে তৎকালীন ডিসি মেজবাহ উদ্দিন, বতর্মান ডিসি মোহাম্মদ মমিনুর রহমান প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে পরিচালক থাকাকালীন ২০১৮ সালে উচ্ছেদ নোটিশ প্রদান করেন। এছাড়া ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে উচ্ছেদ নোটিশ প্রদান করেন তৎকালীন জেলা প্রশাসক ইলিয়াস হোসেন। এছাড়াও চারবার উচ্ছেদ নোটিশ ও অবৈধ স্থাপনা বন্ধের নির্দেশ দিয়ে নোটিশ দিয়েছেন, চট্টগ্রাম সদর ও বন্দর ভূমি সার্কেলের সহকারী কমিশনার।

জেলা প্রশাসক ইলিয়াস হুসেন প্রদত্ত উচ্ছেদ নোটিশে ভিত্তিতে গত নভেম্বরের ১২ তারিখ একমাসের মধ্যে উচ্ছেদ অভিযান শুরু করেবেন বলে চট্টগ্রাম নদী ও খাল রক্ষা আন্দোলনের সভাপতি সাধারণ সম্পাদককে জানিয়েছিলেন বর্তমান জেলা প্রশাসক। কিন্তু দুইমাস অতিবাহিত হলেও এখনও উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়নি।

সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ২০১০ সালে মামলাটি দায়ের হওয়ার পর মাননীয় হাইকোর্ট কর্ণফুলী নদী ও তীর দখলকারী ব্যক্তিদের তালিকা প্রকাশ করার নির্দেশ দেয়। যার প্রেক্ষিতে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন ২০১৪ সালে কর্ণফুলী তীর জরিপ করে ২১৮১ ব্যক্তি প্রতিষ্ঠানকে কর্ণফুলী নদী দখলকারী হিসাবে চিহ্নিত করে মাননীয় হাইকোর্টকে অবহিত করেন।

জেলা প্রশাসন প্রতিবেদন দেয়ার পর মামলা চলাকালীন সময়ে ২০১৬ সালে   বিএস ১নং খতিয়ানের ৮৬৫১ দাগ অনুযায়ী কর্ণফুলী নদী জাতীয় মৎসজীবী সমবায় সমিতি লিমিটেডকে ০৮/১২/২০১৫খ্রিঃ তারিখে ১৫ বছরের চুক্তিনামা দিয়ে লিজ দেয় চট্টগ্রাম বন্দর কর্তপক্ষ।

লিজ গ্রহিতাগণ কর্ণফুলী নদী দখল ও ভরাট করে মাছ বাজার ও বরফকল নির্মানকালে তা বন্ধ রাখতে ৮/সেপ্টেম্বর ২০১৬ তারিখে তৎকালীন চট্টগ্রামে জেলা প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিন এবং  একই তারিখে ৮ সেপ্টেম্বর ২০১৬ সালে চট্টগ্রাম সদর সার্কেল ভূমি এর সহকারী কমিশনার আছিয়া খাতুন বিএস ১নং খতিয়ানের ৮৬৫১ দাগের ১৪৭.১০ একর জায়গা কর্ণফুলী নদী হিসাবে চিহ্নিত করে উচ্ছেদ নোটিশ দিয়ে চাক্তাই ও রাজাখালী খালের মুখ বন্ধ ও ভরাট করে জাতীয় মৎস্যজীবি সমবায় সমিতি লিঃ এর ব্যানারে স্থাপনা নির্মান বন্ধ রাখতে নির্দেশ দেয়। সেইসাথে মাছ বাজারকে বরাদ্দকৃত ১,৭৫,২৬৩ বর্গফুট বা ৪.০২৬৩ একর নদীর অংশে নতুন মাছ বাজার গড়ে উঠেছে উল্লেখ করে তা উচ্ছেদ করতে বলা হয় (কপি সংযুক্ত)। জেলা প্রশাসনের সাথে ২০১৬ সালের ২০ অক্টোবর চাক্তাই ও রাজাখালী খালের মোহনা দখল করে মাছ বাজার নির্মান বন্ধ রাখতে নোটিশ প্রদান করে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ।

জেলা প্রশাসন ও ভূমি সদর সার্কেল সহকারী কমিশনারের নির্দেশকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে মাছ বাজার নির্মান করে তা পরিচালনা করতে থাকে। পরবতর্ীতে ২০১৮ সালে জাতীয় মৎসজীবি সমবায় কর্তৃক কর্ণফুলী নদী ভরাট করে দৃর্শমান বরফ কারখানাটি নির্মান করতে থাকলে বন্দর ভূমি অফিসের সহকারী কর্মকর্তা খোরশেদুল আলম বিগত ৭ ফ্রেব্রুয়ারি ২০১৮ তারিখে তা বন্ধ রাখতে জাতীয় মৎস্য সমবায় সমিতিকে নোটিশ প্রদান করেন

একই বছর ২৫ নভেম্বর ২০১৮ তারিখে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের উপসচিব মল্লিকা খাতুন কর্ণফুলী নদী ভরাট করে অবৈধভাবে নির্মিত স্থানে চট্টগ্রাম ফিশারীঘাট সরিয়ে নেয়ার আদেশ দিয়ে জেলা প্রশাসনকে নোটিশ প্রদান করেন। উক্ত পত্রে সমস্ত অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগকে অবহিত করতে বলা হয়।

সর্বশেষ বিগত ২০/১২/২০১৯ তারিখে ফিরিঙ্গি বাজার মোড় থেকে মেরিনার্স পার্ক নতুন মাছ বাজার, ভেড়া মার্কেট থেকে বাকলিয়া চরের মোড় পর্যন্ত ৪৭ ব্যক্তি প্রতিষ্ঠানের দখলে থাকা সহস্রাধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করতে উচ্ছেদ নোটিশ প্রদান করে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন।  উক্ত নোটিশ প্রদানের পর দুই বছর অতিবাহিত হলেও রহস্যজনক কারনে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করছে না জেলা প্রশাসন।  যা মহামান্য হাইকোটের্র আদেশের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

ভাসমান জলযানে ৩ জানুয়ারী রবিবার সকাল ১১ টায় নগরীর ফিরিঙ্গিবাজার অভয়মিত্র ঘাট থেকে শুরু হওয়া উক্ত সম্মেলন চাক্তাই রাজাখালী খালের মোহনা হয়ে কালুরঘাট ব্রিজের হয়ে বাংলাবাজার গিয়ে শেষ হয়। এই সময় চট্টগ্রাম নদী ও খাল রক্ষা আন্দোলনের সংগঠকবৃন্দ কর্ণফুলীর বিবর্ণ দশা সরেজমিন সাংবাদিকদের দেখানোর পাশাপাশি সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর প্রদান করেন। সংবাদিক সম্মেলনে সভাপতিত্বে করেন চৌধুরী ফরিদ। লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মনোজ কুমার দেব । সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন সাধারণ সম্পাদ আলীউর রহমান। অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, নদী ও খাল রক্ষা আন্দোলনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক প্রদীপ কুমার দাশ , সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম পেয়ার আলী, নির্বাহী সদস্য জাফর আহমদ, লোকমান দয়াল, জসিম উদ্দিন, এরাশাদ উল্লাহ প্রমুখ।

সাংবাদিক সম্মেলনে বক্তারা বলেন, প্রাকৃতিক জলাধার সংরক্ষণ আইনে“ধারা ৫ এ খেলার মাঠ, উন্মুক্ত স্থান, উদ্যান ও প্রাকৃতিক জলাধারের শ্রেণী পরিবর্তনের বাধা নিষেধ। এই আইনের বিধান অনুযায়ী ব্যতীত খেলার মাঠ, উন্মুক্ত স্থান, উদ্যান এবং প্রাকৃতিক জলাধার হিসাবে চিহ্নিত জায়গার শ্রেণী কর্তন করা যাইবে না এবং উক্ত করা যাইবে না বা উক্তরূপ অন্য কোন ভাবে ব্যবহারের করা যাইবে না বা অনুরূপ ব্যবহারের জন্য ভাড়া ইজারা বা অন্য কোনোভাবে হস্তান্তর করা যাইবে না

“ধারা-৮ শাস্তি ইত্যাদি।- ১) কোন ব্যক্তি এই আইনের বিধান লংঙ্ঘন করিলে তিনি অনধিক পাঁচ বছরের কারাদন্ডে বা অনধিক ৫০ (পঞ্চাশ)  হাজার টাকা অর্থদন্ড অথবা উভয় দন্ডে দন্ডিত হইবে।

এই আইনের বিধান লঙ্ঘন করিয়া  যদি কোন নির্মানকার্য সম্পাদিত বা অবকাঠামো তৈরি হইয়া থাকে সেই সকল অবকাঠামো আদালতের আদেশে সংশি­ষ্ট কর্তৃপক্ষের বরাবরে বাজেয়াপ্ত হইবে।

বিএস ১নং খতিয়ানের ৮৬৫১ দাগ অনুযায়ী কর্ণফুলী নদী জাতীয় মৎসজীবী সমবায় সমিতি লিমিটেডকে ০৮/১২/২০১৫খ্রিঃ তারিখে ১৫ বছরের চুক্তিনামা দিয়ে কর্ণফুলী নদী দখল ও ভরাট করে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ মহামান্য হাইকোটের্র আদেশ অমান্য করেছেন।

যা মহামান্য হাইকোর্টকে তথ্য উপাত্তসহ উপস্থাপন করার কথা জানান সংগঠনের সদস্যবৃন্দ।