১০০ শহীদ মিনার নির্মানে লায়ন্স আব্দুস সালাম চৌধুরী কাজ করে যাচ্ছে

মাকসুমুল মুকিম, দোহার-নবাবগঞ্জ (ঢাকা): ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা এবং ভালোবাসার নিদর্শনস্বরূপ এক’শ শহীদ মিনার নির্মাণ করতে চাই ঢাকার দোহার উপজেলার বিলাশপুরের কৃতিসন্তান, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী, সমাজসেবক, দোহার উপজেলা আওয়ামী লীগের অন্যতম সদস্য ও লায়ন্স ক্লাব অব ঢাকা ফ্রিডমের চার্টার প্রেসিডেন্ট লায়ন্স আব্দুস সালাম চৌধুরী। ব্যক্তিগত অর্থায়নে তিনি এ পর্যন্ত ২০টি শহীদ মিনার নির্মাণ করেছেন এবং আরও ১০টি শহীদ মিনার নির্মাণ কাজ চলমান।

শহীদ মিনার নির্মাণ করার কারন জানতে চাইলে তিনি জানান, গত ২০০৮ সালে বাড়ির অদূরে উপজেলার বিলাশপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ২১ ফেরুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের অনুষ্ঠানে অতিথি হয়ে স্কুলে যান তিনি।

সেখানে দেখতে পান বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থীরা কলা গাছ দিয়ে অস্থায়ী শহীদ মিনার তৈরি করে ফুল দিয়ে ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধা জানাচ্ছে। এক দিন পর গিয়ে দেখেন সেখানে শহীদ মিনারটি আর নেই। তখন তিনি ভাবলেন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্থায়ী শহীদ মিনার দরকার। সে ভাবনা থেকেই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নেন।

২০০৮ সালে বিলাশপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শহীদ মিনার নির্মাণের স্বপ্ন দেখলেও এর ব্যয়ভার জোগাড় করতে না পারায় সময়মতো কাজ শুরু করা যায়নি। অবশেষে ২০১৮ সালের মাঝামাঝি সময়ে নিজ গ্রামে অবস্থিত বিলাশপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শহীদ মিনারের কাজ শুরু করেন এবং পরের বছর ২১ ফেব্রুয়ারি শিক্ষার্থীরা নির্মিত শহীদ মিনারে শহীদদের ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানোর মাধ্যমে এ মহৎ কাজে নিজেকে আত্মনিয়োজিত করেন।

এ পর্যন্ত ২০টি শহীদ মিনারের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। শহীদ মিনারগুলো হলো- গণি সিকদার উচ্চবিদ্যালয়, মাঝিরচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পালামগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাহমুদপুর উচ্চবিদ্যালয়, মধুরখোলা উচ্চবিদ্যালয়, জয়পাড়া সরকারি পাইলট উচ্চবিদ্যালয়, বেগম আয়েশা উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় ও কলেজ, মেঘুলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ড্যাফোডিল উচ্চবিদ্যালয়, কার্তিকপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, জামালচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বাহ্রা হাবিল উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়, লটাখোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বেগম ফজিলাতুন নেছা কলেজ, রংপুর বিজ্ঞান ও কারিগরি কলেজ, ইসলামাবাদ উচ্চবিদ্যালয়, বর্ণমালা আদর্শ স্কুল ও কলেজ (ইকুরিয়া-কেরানীগঞ্জ) ও চতরাহাট বহুমুখী দাখিল মাদরাসা (পীরগঞ্জ-রংপুর)।

নির্মাণাধীন রয়েছে কাটাখালী মিছের খান উচ্চবিদ্যালয়, অরঙ্গবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, হাতনি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ঘাটা ১নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কাটালীঘাটা মাসুম মিয়া উচ্চ বিদ্যালয়, সাতভিটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মারুয়াপোতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পীরগঞ্জ চতরা কারিগরি কলেজ, হাতিবান্ধা বালিকা উচ্চবিদ্যালয়।

এভাবে প্রতি বছর ১০টি শহীদ মিনার নির্মাণের মাধ্যমে ১০০ শহীদ মিনার সম্পন্ন করতে চান তিনি।

শহীদ মিনার দীর্ঘদিন টিকিয়ে রাখার জন্য মিনার নির্মাণে ব্যবহার করা হয়েছে স্টিলের পাত আর পাদদেশ নির্মাণ করা হয়েছে ইট, বালু, রড, সুরকি দিয়ে পাকাকরণ করা হয়েছে, তার ওপরে লাগানো হয়েছে কালো রঙের মার্বেল পাথর। প্রতিটি শহীদ মিনার নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ২ লাখ থেকে সাড়ে ৪ লাখ টাকা।

ঢাকার দোহার উপজেলার বিলাশপুর ইউনিয়নের বিলাশপুর গ্রামের ক্বারী আব্দুস হাসেম চৌধুরীর ছেলে লায়ন আব্দুস সালাম চৌধুরী। ছয় ভাই ও এক বোনের মধ্যে সালাম মেজো। তিনি শহরে বেড়ে উঠলেও গ্রামের মানুষের প্রতি তার অগাধ ভালোবাসা। ১৯৬৮ সালে তাদের পৈতৃক ভিটাবাড়ি পদ্মা নদীর করাল গ্রাসে বিলীন হয়ে গেলে সালামের পিতা ক্বারী আব্দুস হাসেম চৌধুরী সপরিবারে ঢাকায় চলে আসেন। বয়স তখন মাত্র তিন বছর। ঢাকাতেই তিনি বাবার দেখানো পথে ব্যবসা দেখাশোনা করছেন।শহীদ মিনার কারিগর আবদুস সালাম চৌধুরী ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার বিষয়ে জানান, মানুষ বিত্তশালী হলে টাকা-পয়সা দিয়ে শখের জিনিসপত্র কেনে। আর আমার স্বপ্ন বীর শহীদদের সম্মানে শহীদ মিনার বানানো। আমি সুস্থ থাকলে ১০০টি শহীদ মিনার নির্মাণ করার পরিকল্পনা রয়েছে।