হরিরামপুরে ফুটেছে বিরল প্রজাতির দোলন চাঁপা

সায়েম খান,  হরিরামপুর (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ দোলনচাঁপার নাচন দেখে রবীন্দ্রনাথ লিখেছিলেন, দোলে দোলে দোলে প্রেমের দোলন-চাঁপা হৃদয়-আকাশে…। বহু কবি কবিতায় দোলনচাঁপা ফুল নিয়ে কবিতা লিখেছেন।দোলন চাঁপা বলতেই আমরা সাদা রং এর থোকা থোকা সুগন্ধি ফুলের কথাই সকলের মনে হয়। দোলনচাঁপা মূলত সাদা ফুল হলেও মানিকগঞ্জের হরিরামপুরের তানভীরের বাগানে ফুটেছে বিরল প্রজাতির গাঢ় মিস্টি রঙ এর দোলন চাঁপা।

জানা যায়, দোলনচাঁপা একটি বুনো ফুল। হাল্কা সুগন্ধি দোলন চাঁপা আদা গোত্রের গাছ।  বৈজ্ঞানিক নাম Hedychium  coronarium.  এটি Zingiberaceae পরিবারের অন্তর্ভুক্ত।  এর অন্যান্য নামের ভেতর Ginger lily,Dolon champa । আদি নিবাস নেপালের  হিমালয় অঞ্চল।  ভারতীয় প্রজাতির দোলনচাঁপাও রয়েছে।   দোলন চাঁপা গাছ আদার মতো রাইজোম বা কন্দ থেকে গজায়। এটি ১ থেকে ২ মিটার লম্বা হয়ে থাকে। এর পাতা বল্লমাকৃতির এবং অগ্রভাগ সূঁচালো।

ভিন্ন রঙ এর দোলন চাঁপা সম্পর্কে বাগান মালিক তানভীর বলেন, ‘২০১৬ সালে বিদেশি একটা ফুলের গ্রুপে এই ধরনের দোলন চাঁপা দেখতে পাই। পরের বছর থাইল্যান্ড থেকে এই প্রজাতি সহ আরো দশ রঙ এর দোলন চাঁপা সংগ্রহ করি।  তানভীর আরো বলেন, আমার বাগানের বিশেষত্ব হচ্ছে বিভিন্ন ধরনের বিরল প্রজাতির ফুলের সমাহার’।  দেশের বিভিন্ন স্থানের মানুষ প্রতিদিন ই আমার বাগানে বিরল ও দূর্লভ প্রজাতির ফুল দেখতে আসেন’। আমি দুশো টাকা বিনিয়োগ করে প্রথমে বাগান করি। এখন আমার তিনটি বাগানে বিনিয়োগ চল্লিশ লক্ষ টাকার বেশি।  আমার বাগানে বিদেশি ফুল আর ফল গাছের সমাহার রয়েছে।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক সাব্বির আহমেদ বলেন, দোলন চাঁপা গাছের বৈজ্ঞানিক নাম Hedychium coronarium; এটি Zingiberaceae পরিবারের অন্তর্ভুক্ত একটি সপুস্পক উদ্ভিদ। এর অন্যান্য নামের মধ্যে Butterfly Ginger Lily, White Ginger Lily, Dolan champa ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। এর আদি নিবাস নেপাল ও ভারতের হিমালয় অঞ্চল। এটি ব্রাজিলে প্রথম নেয়া হয় ক্রীতদাস যুগে; যেখানে ক্রীতদাসগণ এর পাতাকে তোষকের মত ব্যাবহার করতেন। বর্তমানে ব্রাজিলে এর ব্যাপকতা একে রাক্ষুসে আগাছারূপে পরিচিত করেছে । হাওয়াই অঞ্চলেও একে আগাছা হিসেবে গণ্য করা হয়। এটি কিউবার জাতীয় ফুল। । ফুল ঝরে গিয়ে বীজাধার উন্মুক্ত হয়; যাতে উজ্জ্বল লাল রঙের অনেকগুলো বীজ হয়।

এটি আদিতে ভারতবর্ষের ফুল হলেও দুনিয়ার বহু জায়গায় বিস্তার লাভ করেছে। যেমন- ফ্লোরিডা, ক্যারিবিয়ান অঞ্চল, গালফ কোস্টসহ দুনিয়ার সমগ্র ক্রান্তীয় উপক্রান্তীয় অঞ্চল। এটি ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার অল্প ঠান্ডা অঞ্চলেও জন্মে; তবে শীতকালে মরে যায় এবং গ্রীষ্মে আবার গজিয়ে ওঠে। বাংলাদেশ, ভূটান, মায়ানমার, থাইল্যান্ড,     চীন ও তাইওয়ানে প্রচুর পরিমাণে এই উদ্ভিদ পাওয়া যায়।

হরিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ সাইফুল ইসলাম বলেন, তানভীরের সাথে হরিরামপুরে এক অনুষ্ঠানে কথা হয়েছে।  মেধাবি তানভীরের বাগানে অনেক প্রজাতির দেশি বিদেশি ফুল রয়েছে। ভিন রঙের দোলনচাঁপা  ফুল দেখতে শিগগিরই তার বাগানে যাব।