হবিগঞ্জে সাবেক অর্থমন্ত্রী এসএম কিবরিয়ার ১৭তম মৃত্যু বার্ষিকী পালিত। কিবরিয়া হত্যা মামলার আজ বিচার হয়নি

কামরুল হাসান কাজল, হবিগঞ্জ প্রতিনিধি: যথাযোগ্য মর্যাদায় হবিগঞ্জে সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়ার ১৭তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হয়েছে।এ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার সকালে শহরের আরডি হল প্রাঙ্গণে এএমএস কিবরিয়ার প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদনের মধ্যে দিয়ে শুরু হয় বিভিন্ন কর্মসূচি। কিবরিয়া ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আয়োজিত দিনভর এ কর্মসূচি পালন করে বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠন।আরডি হল প্রাঙ্গণে এএমএস কিবরিয়ার প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের পর বেলা ১২ টার দিকে শুরু হয় দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভা। এসময় উপস্থিত নেতৃবৃন্দ সাবেক এই অর্থমন্ত্রীর জীবনের নানা দিক নিয়ে স্মৃতিচারণ করেন। করা হয় বিচার দাবীও।বক্তারা বর্তমান সরকারের আমলেই নির্মম নৃশংস এ হত্যাকান্ডের দৃষ্ঠান্তমূলক বিচার দাবী করেন। আলোচনা সভা শেষে অসহায় দুঃস্থ নারী পুরুষদের মধ্যে বিতরণ করা হয় শীতবস্ত্র।এতে বক্তব্য রাখেন- সাবেক সংরক্ষিত এমপি আমাতুল কিবরিয়া কেয়া চৌধুরী, কিবরিয়া ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা অধ্যাপক ইকরামুল ওয়াদুদ, সাধারণ সম্পাদক অনুপ কুমার দেব মনা, বীরমুক্তিযোদ্ধা গোলাম মর্তুজা, পীযুষ চক্রবর্তী প্রমূখ। উল্লেখ্য, ২০০৫ সালের ২৭ জানুয়ারি বিকেলে হবিগঞ্জ সদর উপজেলার বৈদ্যের বাজারে ঈদ পরবর্তী এক জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন তৎকালীন হবিগঞ্জ-৩ আসনের এমপি সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়া। জনসভা ছিল কানায় কানায় পূর্ণ। বক্তব্য শেষে যখন তিনি মঞ্চ থেকে নেমে সহকর্মীদের নিয়ে বৈদ্যের বাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গেইটে আসেন তখনই দিনের আলো নিভে প্রায় সন্ধ্যা। হঠাৎ করেই বিকট শব্দ। হুড়োহুড়িতে চারদিকে গগনবিদারী চিৎকার। আর্জেস গ্রেনেডের আঘাতে অনেকেই ক্ষতবিক্ষত। সেখানে শাহ এ এমএস কিবরিয়া গুরুতর আহত হলে ঢাকা নেয়ার পর মৃত্যু বরণ করেন। ঘটনাস্থলে মারা যান তার ভাতিজা শাহ মঞ্জুরুল হুদা ও এলাকার তিনজন। আহত হন আরও ৭০জন।এ ঘটনার পরদিন ২৮ জানুয়ারি তৎকালীন হবিগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও বর্তমান জাতীয় কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট আবদুল মজিদ খান এমপি বাদী হয়ে হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে দু’টি মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্তে কাজ করে দেশী-বিদেশী বিভিন্ন সংস্থা। কিন্তু মামলাটির স্বাভাবিক তদন্ত না হয়ে দলীয় বিবেচনায় পরিচালিত হতে থাকে।পরে মামলার তিন দফা চার্জশীট দেয়ার পর হত্যা এবং বিস্ফোরক মামলা দুটি সিলেটের দ্রুত বিচার আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। কিন্তু স্বাক্ষীদের উপস্থিতি না থাকায় থমকে আছে বিচার কাজ। উভয় মামলায় ১৭৩জন স্বাক্ষী থাকলেও হত্যা মামলায় ৪৪ জনের স্বাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে। বিস্ফোরক মামলায় স্বাক্ষ্য প্রদান আরও কম হয়েছে।