সুরাজ নির্বাণের সুরের মূর্ছনায় মুগ্ধ ঢাকাবাসী

মোঃ রাকিব হাসান, স্টাফ রিপোর্টার:শাস্ত্রীয় সংগীত ব্যক্তির আত্মার আলোড়ন প্রকাশের একটি উৎস। সহস্র বছর ধরে সুরের স্বকীয়তা বজায় রেখে শাস্ত্রীয় সংগীত ভিন্ন সংস্কৃতির সঙ্গে রূপান্তরিত হচ্ছে এবং মিথস্ক্রিয়া করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশের শাস্ত্রীয় সংগীত প্রসারণের উদ্দেশ্যে ভারতীয় হাইকমিশনের উদ্যোগে সুদূর দিল্লী থেকে আমন্ত্রিত অতিথি হয়ে বাংলাদেশে এসেছেন উপমহাদেশের প্রখ্যাত শিল্পী সুরাজ নির্বাণ। সুরাজ নির্বাণের জন্ম ও বেড়ে ওঠা শিক্ষা সবকিছুই দিল্লিতে। দিল্লির শাস্ত্রীয় সংগীতের অনন্য দিকপাল প্রয়াতঃ সুভাষ নির্বাণের ছেলে সুরাজ নির্বাণ। তবলা বাদন শৈলী রয়েছে প্রাচীনতম রীতিনীতি। তার মধ্যে বহুল প্রচলিত রীতি দিল্লি ঘরানা। দিল্লি ঘরানার ওস্তাদ ( দিল্লি বাজ ) সুরাজ নির্বাণ। সুরাজ তার তবলা বাজানো, গান গাওয়া এবং সঙ্গীত রচনার বহুমুখী দক্ষতার মাধ্যমে ভারতীয় ঐতিহ্যগত সংস্কৃতি সমৃদ্ধ করেছেন এবং প্রাচীন শিক্ষা ও ধারণাগুলোকে প্রচার করার অভিনব দৃষ্টি স্থাপন করেছেন। সুরাজ নির্বাণ খুব অল্প বয়স থেকেই জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায় সঙ্গীত পরিবেশন তবলা বাদন শৈলী এবং অন্যান্য সংগীত কর্মকাণ্ডের জন্য স্বীকৃতি পেয়ে আসছেন ও বিশ্বের বিভিন্ন মঞ্চে অত্যন্ত সুনামের সঙ্গে পরিবেশন করে আসছেন। তার পরিবেশনের মধ্যে উল্লেখযোগ্য টেডেক্স এন এম আই এস– এ বক্তব্য দেওয়া, সংকট মোচন সংগীত সম্মেলন, হরিদাস সম্মেলন, হরবোলা সংগীত সম্মিলন সহ অগণিত জায়গায় সংগীত পরিবেশন করে এসেছেন। এরইমধ্যে বাংলাদেশ এ ভারতীয় হাইকমিশনের উদ্যোগে আয়োজন করা হয় “তবলায় সঙ্গীতসন্ধ্যা” নামক একটি অনুষ্ঠান। যেখানে ভারতীয় রাষ্ট্রদূত শ্রী বিক্রম দরাই স্বামী, আসাদুজ্জামান নূর,ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়, লাইলি ইসলাম,ডালিয়া নওশীন পূজা সেনগুপ্ত সহ অসংখ্য কূটনীতিবিদ এবং সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বের উপস্থিতিতে মুখরিত ছিল অনুষ্ঠানটি। তারা সকলেই সুরাজ নির্বাণের বাদনশৈলীতে প্রশংসা করেছেন। উক্ত অনুষ্ঠানে এই শিল্পীর দুই অঙ্গুল দিয়ে তবলা বাজানোর বিশেষ পারদর্শিতা দেখিয়েছেন এমনকি তার নিজস্ব কম্পোজিশনে বিভিন্ন একক ও অসংখ্য ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বাদন শৈলী ছিলো। এছাড়াও তিনি দিল্লি ঘরানার বিভিন্ন দিক নিয়ে বক্তব্য প্রদান করেন। উল্লেখ্য যে তিনি দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগে শিক্ষক হিসেবে নিযুক্ত রয়েছেন। এছাড়াও তিনি সাহিত্য বিষয়ের উপর সিসিআরটি, সাহিত্য কলা পরিষদ ও  ভারতের জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে বৃত্তি পেয়েছেন। বাবা সুভাষ নির্বান এর উপর শ্রদ্ধা রেখে তিনি প্রতিষ্ঠা করেছেন “সুভাষ নির্বাণ ফাউন্ডেশন” যেখানে তিনি সম্পূর্ণ বিনা পয়সায় হতদরিদ্র ও অসহায় মানুষদের আর্থিক সহায়তা সংগীত এর উপর শিক্ষাদান প্রশিক্ষণ কর্মসূচি এমনকি বিভিন্ন অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করে থাকেন। যেখানে বঞ্চিত মানুষরা তাদের নিজেদের তুলে ধরতে পারেন এবং নিজেদেরকে জ্ঞানের আলোয় আলোকিত করতে পারেন। করোনা মহামারীর সময় তার ফাউন্ডেশন থেকে অসংখ্য অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করা হয় এবং এই অর্থ দিয়ে গরীব অসহায় মানুষদের বিভিন্নভাবে সহায়তা প্রদান করা হয়। বাবার উপর শ্রদ্ধা এবং নিজের ভালোবাসা থেকে তিনি এ কাজ করে যাচ্ছেন। বর্তমানে তিনি ভারতীয় হাইকমিশনের অধীনস্থ সংস্থা ইন্ডিয়ান কাউন্সিল ফর কালচারাল রিলেশন এ তবলা শিক্ষক হিসেবে আগামী এক বছরের জন্য নিয়োজিত আছেন। যেখানে বিভিন্ন বয়সের মানুষ তার কাছে তবলার প্রশিক্ষণ নিতে আসেন। এই মহান উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশে তবলার প্রাচীনতম যে রীতি দিল্লি ঘরানা তার সুদূর প্রচার ও প্রসার হচ্ছে।