সিলেটের প্রথম এক্সেল লোড কন্ট্রোলার স্টেশন বিশ্বনাথের লামাকাজীতে

ফারুক আহমদ বিশ্বনাথ সিলেট: সড়ক-মহাসড়কে ট্রাক কিংবা অন্য কোনো যানবাহন ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত পণ্য পরিবহনের ফলে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে সংশ্লিষ্ট সড়ক-মহাসড়ক। এসব রাস্তা সংস্কারে ব্যয় করতে হয় বিপুল অঙ্কের টাকা। এমন পরিস্হিতিতে সড়কের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে সড়ক ও জনপদ বিভাগ গুরুত্বপূর্ণ সড়কে স্হাপন করছে এক্সেল লোড কন্ট্রোলার স্টেশন।

সিলেট জেলার প্রথম এক্সেল লোড কন্ট্রোলার স্টেশন স্হাপন করা হয়েছে বিশ্বনাথ উপজেলার লামাকাজীতে। যানবাহনে অতিরিক্ত বা ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশী পণ্য পরিবহন নিয়ন্ত্রণ কাজে ব্যবহৃত হবে এই এক্সেল লোড কন্ট্রোলার, স্টেশনটির নির্মাণ কাজ প্রায় শেষের দিকে।

সিলেট-সুনামগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের লামাকাজী পয়েন্ট সংলগ্ন কাজিরগাঁওয়ে অবস্থিত ওই কন্ট্রোলার স্টেশনে নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ১৫ কোটি ১২ লাখ টাকা।
সিলেট সড়ক ও জনপদ বিভাগ কর্তৃক সড়ক মন্ত্রণালয়ে এ সংক্রান্ত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।

এ ব্যাপারে লামাকাজী এক্সেল লোড কন্ট্রোলার স্টেশনের দায়িত্বে থাকা সিলেট সড়ক বিভাগের উপ সহকারী প্রকৌশলী সুমন দাস বলেন, ১৫ কোটি ১২ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত লামাকাজী এক্সেল লোড কন্ট্রোলার স্টেশনটির কাজ প্রায় শেষের দিকে, এখন চালুর অপেক্ষায় আছে। ২০১৯ সালে কাজ শুরু হলেও করোনার কারণে কাজ শেষ হতে একটু বেশী সময় লেগেছে। স্টেশনের সকল তথ্য সড়ক ও সেতু মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করা হয়েছে। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি পেলে স্টেশনটি খুব শীঘ্রই চালু হবে। আর এটি চালু হলে সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কে ধারণক্ষমতার বেশী পণ্যবহন করার সুযোগ থাকবেনা। অতিরিক্ত বোঝাই হলে জরিমানা গুনতে হবে। ওই স্টেশনে কারো ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার সুযোগ নেই। কম্পিউটারাইজড পদ্ধতিতে এটি পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত হওয়ার কারণে এর কার্যকারিতা নিয়ে কোন প্রশ্ন তোলার সুযোগ নেই।

সড়ক ও জনপথ অধিদফতর সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী মোস্তাফিজুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, সিলেটের সড়ক-মহাসড়কের কোথাও কোনো এক্সেল লোড তথা অতিরিক্ত ধারণক্ষমতা নিয়ন্ত্রণ করার কেন্দ্র ছিলনা। প্রথম কেন্দ্র হিসেবে বিশ্বনাথের লামাকাজী এক্সেল লোড স্টেশন কাজ প্রায় ৯৫ ভাগ শেষ, এখন চালুর অপেক্ষায় রয়েছে।

উল্লেখ্যঃ ২০১৯ সালে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক-মহাসড়কে ক্ষয়ক্ষতি কমাতে সারাদেশে ২৮টি এক্সেল লোড নিয়ন্ত্রণকেন্দ্র স্থাপনের প্রকল্প গ্রহণ করে সড়ক ও জনপথ অধিদফতর (সওজ)।
সেই বছরের সেপ্টেম্বরে জাতীয় অর্থনৈতিক কাউন্সিলের নির্বাহী কমিটি (একনেক) প্রকল্পটির অনুমোদন দেয়। এর মেয়াদকাল ধরা হয় আগামী বছরের জুন পর্যন্ত। এই প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয় ১ হাজার ৬৩০ কোটি ২৮ লাখ টাকা। প্রকল্প গ্রহণ হলেও জমি অধিগ্রহণে জটিলতা ও করোনার ধাক্কায় পিছিয়ে যায় প্রকল্প শুরুর বিষয়টি। গত জুন মাসে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি এই প্রকল্পের জন্য ঠিকাদার ও পরামর্শদাতা নিয়োগের বিষয়টি অনুমোদন দেয়।