সিআরবির শত বছর ধরে ব্যবহার হয়ে আসা সড়কটি বন্ধ

জাহাঙ্গীর আলম ব্যুরো প্রধান চট্টগ্রাম: নাগরিক সমাজ চট্টগ্রাম সাংস্কৃতিক ও পরিবেশবাদী সংগঠনগুলোর আন্দোলন সত্ত্বেও চট্টগ্রাম মহানগরীর সিআরবি এলাকায় হাসপাতাল নির্মাণের প্রক্রিয়া শুরু করেছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।

হাসপাতালের নির্মাণকাজ শুরুর আগেই প্রকল্প এলাকার পাশ দিয়ে সিআরবির ঐতিহাসিক সাতরাস্তার মোড় থেকে এনায়েত বাজারমুখী দেড় কিলোমিটারের গোয়ালপাড়া সড়কটি স্থায়ীভাবে বন্ধ করেছে রেল কর্তৃপক্ষ।

১৫ জানুয়ারী শনিবার সিআরবি সাতরাস্তার মোড় এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, প্রকল্প এলাকার পাশের সড়কে একটি সাইনবোর্ডে গণবিজ্ঞপ্তি দিয়ে সড়কটি স্থায়ীভাবে বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

ঐতিহাসিক এ সড়কটি বন্ধ করলে সিআরবির মূল কাঠামোর পরিবর্তন হয়ে যাবে বলে দাবি করছেন আন্দোলনকারীরা। এই সড়কসহ মোট সাতটি সড়ক সিআরবিতে একত্রিত হওয়ায় বহু বছর ধরে এলাকাটি সাতরাস্তার মোড় হিসেবে পরিচিত। শত বছর ধরে ব্যবহার হয়ে আসা সড়কটি বন্ধ হলে যোগাযোগের ক্ষেত্রে সমস্যায় পড়তে হবে বলেও দাবি করছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচিহ্ন রক্ষায় যেখানে সরকার তৎপর, সেখানে রেল কর্তৃপক্ষ এই চিহ্ন মুছে দিয়ে হাসপাতাল নির্মাণ করতে চাইছে। তাদের কর্মকাণ্ড এখনও ব্রিটিশ ঔপনিবেশকদের মতো।’

স্থানীয় বাসিন্দা নমিতা রানী দাশ বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধে আমাদের বাপ-দাদারা প্রাণ দিয়েছেন। এবার ঐতিহাসিক গোয়ালপাড়া বাঁচাতে আমরাও প্রাণ দেব। তবুও এখানে হাসপাতাল হতে দেব না। সিআরবির শতবর্ষী গাছ, পাহাড় ও প্রাকৃতিক সবুজ বেষ্টনী আমরা রক্ষা করবই।’

এনায়েত বাজার এলাকার বাসিন্দারা বলেন, ‘সাধারণ মানুষের চলাচলের রাস্তা একটি সংস্থা কীভাবে হঠাৎ বন্ধ করে দেয় তা বুঝতে পারছি না।’

পরিবেশবাদী সংগঠন বেলার পক্ষ থেকে আলীউর রহমান বলেন, ‘রেলওয়ের মতো সংরক্ষিত স্থানে হাসপাতাল নির্মাণের বিরুদ্ধে কঠোর আন্দোলন ও আইনি লড়াইয়ের কোনো বিকল্প নেই।

তবে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ বলছে, প্রকল্পের স্বার্থেই বন্ধ করা হয়েছে সড়ক। প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী আহসান জাবির আমার সময়কে বলেন, ‘জমিটি পুরোটাই হাসপাতালের জন্য প্রস্তাবিত। রাস্তাটি পার্মানেন্টলি বন্ধ করা হয়েছে।

পাহাড় কেটে, শতবর্ষী অর্ধশত গাছ ও প্রাকৃতিক সবুজ বেষ্টনী ধ্বংস করে হাসপাতাল নির্মাণের বিরুদ্ধে যারা আন্দোলন করছেন, তাদের মধ্যে নগর আওয়ামী লীগের আইনবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট ইফতেখার সাইমুল চৌধুরীও রয়েছেন।

নাগরিক সমাজ চট্টগ্রামের নেতৃবৃন্দরা বলেন, সিআরবি বৃটিশ বিরোধী আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বিজড়িত ঐতিহাসিক স্থান এবং  মুক্তিযোদ্ধাদের সমাধিস্থল। শতবর্ষী বৃক্ষরাজি আর জীববৈচিত্র্য এই এলাকাটি চট্টগ্রামের ফুসফুস হিসেবে চিহ্নিত। চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ সিআরবিকে গেজেট নোটিফিকেশনের মাধ্যমে হেরিটেজ জোন ঘোষণা করেছে। পরিবেশ অধিদপ্তর, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষসহ স্থাপনা অনুমোদনকারী কর্তৃপক্ষ সমূহ সিআরবিতে কোনো স্থাপনা করা যাবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে। এসব আইনী বাধ্যবাধকতা পেরিয়ে সরকারকে ভুল তথ্য দিয়ে হাসপাতাল প্রকল্প এগিয়ে চলছে। ‘সিআরবি নগরবাসীর নিঃশ্বাস ফেলার জায়গা। সেখানে হাসপাতাল চাই না। আর সড়ক বন্ধ করা মানেই তো সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ। নাগরিক সুবিধায় হাত দেয়া উচিত না৷ বহু বছরের একটি সড়ক চাইলেই কি এভাবে বন্ধ করা যায়?’