সাগর উত্তাল থাকায় চরণদ্বীপের সেন্টমার্টিন পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল সাময়িক বন্ধ ঘোষনা

দিদারুল আলম সিকদার, কক্সবাজার জেলা প্রতিনিধিঃ ঘূর্ণিঝড় জাওয়াদের কারণে সাগর উত্তাল থাকায় আজ রোববার থেকে টেকনাফ-সেন্টমার্টিন নৌপথে চলাচলকারী পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে আবার চলাচল শুরু হবে।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডবিøউটিএ) সূত্র জানায়, চলতি বছরের ১৬ নভেম্বর থেকে এ নৌপথে পর্যটক পরিবহনের জন্য বিভিন্ন মেয়াদে ছয়টি জাহাজকে অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। জাহাজগুলো হলো,সুকান্ত বাবু,গ্রিন লাইন-১, এমভি পারিজাত,,এমভি ফারহান-১, কেয়ারি সিন্দাবাদ, কেয়ারি ক্রুজ অ্যান্ড ডাইন। জাওয়াদের প্রভাবে বঙ্গোপসাগরে পানি  কিছুটা উত্তাল থাকলেও দেশের নানা প্রান্ত থেকে আসা পর্যটকরা তা উপেক্ষা করে সেন্টমার্টিন সমুদ্রে ঘুরাঘুরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডবিøউটিএ) টেকনাফ অঞ্চলের ট্রাফিক সুপারভাইজার জহির উদ্দিন ভূঁইয়া জানান, কক্সবাজারসহ দেশের সমুদ্রবন্দর গুলোকে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেতের কারণে দুর্ঘটনা এড়াতে এই রুটে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে বেড়াতে এসে কিছু পর্যটক স্বেচ্ছায় দ্বীপে আটকে গেছেন। আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে জাহাজ চলাচলে আবার অনুমতি দেওয়া হবে ।
আবহাওয়ার বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগর ও আশেপাশের এলাকায় অবস্থানরত ঘূর্ণিঝড় ‘জাওয়াদ’ আরও উত্তর-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে একই এলাকায় অবস্থান করছে। এটি চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দর থেকে সকালে ছিল ১ হাজার ৩০ কিলোমিটার দূরে, এখন আছে ১ হাজার ৫ কিলোমিটার দক্ষিণপশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্র বন্দর থেকে ছিল ১ হাজার ৯৫ কিলোমিটার দূরে। এজন্য চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরগুলোকে ২ নম্বর দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সংকেত নামিয়ে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে উপক‚লের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে। তাদেরকে গভীর সাগরে বিচরণ না করার জন্যও বলা হলো।
সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুর আহমদ বলেন, ঘূর্ণিঝড় জাওয়াদের প্রভাবে সমুদ্র উত্তাল থাকায় জাহাজ চলাচল বন্ধ করা হয়েছে। এখানে কিছু পর্যটক দ্বীপে রাত্রীযাপন করছেন। তারা ভালো আছেন। তাদের খোঁজ খবর রাখা হচ্ছে।
জাহাজ কেয়ারি সিন্দবাদ ও কেয়ারি ক্রুজ অ্যান্ড ডাইনের টেকনাফের ব্যবস্থাপক মোঃ শাহ আলম বলেন, জেলা প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ঘূর্ণিঝড় ‘জাওয়াদের প্রভাবে রোববার সেন্টমার্টিন নৌপথে সব পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল বন্ধ থাকবে। দ্বীপে বেড়াতে যাওয়া  কিছু পর্যটক অবস্থান করছে। বৈরি আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে পর্যটকদের ফেরত আনা হবে।
এব্যাপারে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পারভেজ চৌধুরী বলেন, ঘূর্ণিঝড় জাওয়াদ শক্তিশালী হয়ে উপক‚লের দিকে অগ্রসর হওয়ায় রোববার সকালে টেকনাফ-সেন্টমার্টিন নৌপথে জাহাজ চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে পরদিন জাহাজ চলাচল শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সেটি আবহাওয়ার ওপর নির্ভর করবে।
তিনি জানান, যেসব পর্যটক টিকিট কেটেছিলেন, তাদের টাকা ফেরত দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ভ্রমণে এসে দ্বীপে রাত্রীযাপনকারী পর্যটকরা যাতে হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়েও সেখানকার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সর্তক থাকতে বলা হয়েছে।