সাকিবের কাছে লোভনীয় উইন্ডিজ বাংলাদেশের জন্য বিভীষিকা

নিজস্ব প্রতিবেদক: সাকিবের কাছে উইন্ডিজ সফর লোভনীয়। তিনি এ দ্বীপপুঞ্জের রীতিমতো প্রেমিক। সুযোগ পেলে দ্বীপরাষ্ট্রগুলোতে যাওয়ার সুযোগ হাতছাড়া করতে চান না। এখানকার লোকজন, প্রকৃতি সবই সাকিবের পছন্দের তালিকায়। এমন কী খেলতেও ভালো লাগে ১৩টি দ্বীপরাষ্ট্র নিয়ে গড়া উইন্ডিজে। ২০০৭ সালে তার প্রথম আসা। এরপর এসেছেন আরও বেশ কয়েকবার। তাইতো তার কণ্ঠ দিয়ে বের হয়েছে প্রেমিকের মতো আবেগ মাখানো কথা, ‘ক্যারিবিয়ান আমার হৃদয়ের খুব কাছে। প্রথম এসেছিলাম ২০০৭ বিশ্বকাপে। তখন থেকেই আমার হৃদয়ের খুব কাছে এটি। আমি এখানকার মানুষ, এ জায়গা ভালোবাসি অনেক। এখানে আসতে ভালোবাসি। বাংলাদেশ যখন ওয়েস্ট ইন্ডিজ আসে তখন কখনোই মিস করতে চাই না। আমি এর অংশ হতে চাই।’

উইন্ডিজ নিয়ে এ যখন সাকিবের অনুভূতি, তখন দল হিসেবে বাংলাদেশকে তাড়া করছে দুর্বিসহ স্মৃতি। উইন্ডিজ সফরে একবারই বাংলাদেশ টেস্ট জেতার পাশাপাশি সিরিজও জিতেছিল তাদের দ্বিতীয় সারির দলের বিপক্ষে। আর্থিক বিষয় নিয়ে সৃষ্ট জটিলতার অবসান না হওয়াতে সিনিয়র ও সেরা ক্রিকেটাররা সরে দাঁড়িয়েছিলেন। পরে উইন্ডিজ ক্রিকেট বোর্ড তাদের দ্বিতীয় সারির দল নামালে বাংলাদেশ তাদের দুই টেস্টের সিরিজে হোয়াইটওয়াশ করেছিল। এ ছাড়া সাদা পোশাকে নেই আর কোনো সাফল্য। এদিকে সর্বশেষ ২০১৮ সালের সফরে বাংলাদেশকে যে টেস্ট ক্রিকেটে নিজেদের সর্বনিম্ন রানের লজ্জায় ফেলেছিল উইন্ডিজ মাত্র ৪৩ রানে অলআউট করে। খেলা হয়েছিল যে অ্যান্টিগাতে আজ শুরু হবে টেস্ট, সেই অ্যান্টিগাতেই। কিন্তু অতীত নিয়ে বসে থাকতে চান না সাকিব। নতুন করে দায়িত্ব পাওয়ার পর তিনি রং বদলে দিতে চান দলের।

৪৩ রানের ঘটনাকে তিনি চার বছর আগের উল্লেখ করে বলেন, ‘আমার মনে হয় পুরোপুরি আলাদা উইকেট চার বছরের আগে থেকে। তবে আমার কাছে মনে হচ্ছে উইকেট ব্যাটিংয়ের জন্য ভালো। অবশ্য চতুর্থ ইনিংসে ব্যাটিং কঠিন হবে। স্পিনাররা কাজে আসবে তখন। গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে, প্রথম ইনিংসে কেমন ব্যাটিং করি। শুরুতে ব্যাটিং বা বোলিং যাই করি না কেন, তেমন কোনো পার্থক্য হবে না। যতক্ষণ পর্যন্ত না আপনি ভালো করছেন। আমাদের সব কিছুর জন্যই প্রস্তুতি থাকতে হবে। ছেলেরা চ্যালেঞ্জ নিতে প্রস্তুত।’

সাকিব দলের হাল ধরেছেন দুঃসময়ে। ব্যর্থতার ভারে নুয়ে পড়া দল। জয়-পরাজয় তো খেলারই অংশ। কিন্তু বাংলাদেশের হারের পাশে লেখা ছিল খুবই বাজে খেলা। বিশেষ করে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে দুই টেস্টেই দ্বিতীয় ইনিংসে ৫৩ ও ৮০ রানে অলআউট হওয়ার লজ্জা। সাকিবকে তাই নেতৃত্বের ঝাণ্ডা নিয়ে দিতে হবে সেই ব্যর্থতার উত্তাল সাগর পাড়ি।

সাগর দিতে পাড়ি দিতে গিয়ে সাকিব কিন্তু দলের সেরা কয়েকজন অস্ত্রধারীকে পাচ্ছেন না। সর্বশেষ শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দারুণ খেলা ব্যাক টু ব্যাক সেঞ্চুরি করা মুশফিকুর রহিম নেই পবিত্র হজ করতে যাওয়ার কারণে। ইনজুরির কারণে নেই গতি মাস্টার তাসকিন, সঙ্গে শরিফুলও। শেষ মুহূর্তে গিয়ে ইনজুরিতে শামিল হয়েছেন ইয়াসীর আলীও। এদের অনুপস্থিতিতে সাকিব তাকিয়ে আছেন মাহমুদুল হাসান, মেহেদি হাসান মিরাজ, রেজাউর রহমান রাজা, নুরুল হাসান সোহানের দিকে।

সাকিব চান ব্যাটিং আগে করলে ভালো একটা সূচনা। কারণ গত বেশ কয়েকটি টেস্টে বাংলাদেশের টপ অর্ডাররা খুবই চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছেন। তিনি চান এখানে ভালো করা। শুরুতে ভালো করতে না পারলে পিছিয়ে পড়তে হয় বলে জানান সাকিব। যেখানে থেকে রিকোভারি করা কঠিন হয়ে উঠে পরবর্তীতে। পিচ যেমন দেখছেন, তাতে করে পেসারদের কাছে ভালো কিছু আশা করছেন। এমন পিচে পেস বোলাররা ভালো করতে না পারলে তা হবে হতাশজনক বলে জানান সাকিব।

বাংলাদেশ টেস্ট দল ছিল ১৬ জনের। ইনজুরির কারণে তা এখন নেমে এসেছে ১৪ জনে। প্রথমে পেসার শহিদুল, পরে ইয়াসীর আলী ইনজুরিতে পড়েন। তাদের বিকল্প নেওয়া হয়নি প্রথম টেস্টে যে কারণে বাকি ১৪ জন থেকে গড়া হবে সেরা একাদশ। যতোটুকু আভাস পাওয়া গেছে তাতে করে তিন পেসার আর দুই স্পিনার নিয়ে সেরা একাদশ সাজাতে যাচ্ছে বাংলাদেশ টিম ম্যানেজমেন্ট।

২০২১ সালের পর আবার বল হাতে তুলে নিতে যাচ্ছেন মোস্তাফিজ। তার সঙ্গে থাকছেন সৈয়দ খালেদ ও এবাদত হোসেন। যদি কোনো কারণে বাংলাদেশ তিনজন পেসার না খেলায় সে ক্ষেত্রে এবাদতের জায়গায় তাইজুল ঢুকে পড়বেন। স্পিনে সাকিবের সঙ্গে থাকছেন মিরাজ। মুশফিক না খেলাতে লিটন দান উপরে ব্যাটিং করবেন। পড়বেন না কিপিং গ্লাভস। তার পরিবর্তে কিপিং গ্লাভস হাতে দেখা যাবে নুরুল হাসান সোহানকে।

বাংলাদেশ সম্ভাব্য একাদশ: তামিম, মাহমুদুল, নাজমুল, মুমিনুল, লিটন, সাকিব, মিরাজ, নুরুল হাসান, মোস্তাফিজ, খালেদ, এবাদত/ তাইজুল।