সরাইল কালীকচ্ছের দুই কেন্দ্রে অস্বাভাবিক ভোটগ্রহণ ও কারচুপির অভিযোগ

মোঃ আল মামুন,জেলা প্রতিনিধি,ব্রাহ্মণবাড়িয়া: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলের কালীকচ্ছ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনে দুইটি কেন্দ্রে অস্বাভাবিক ভোটগ্রহণ, ব্যপক কারচুপির অভিযোগ ।  ওই ইউনিয়নে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে চেয়ারম্যানপ্রার্থী ছিলেন ৮ জন। এতে বিজয়ী হয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী মোটরসাইকেল প্রতীকে মোঃ ছায়েদ হোসেন। ঘোড়া প্রতীকে স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী মোঃ শরাফত আলীসহ কয়েকজন প্রার্থী ধর্মতীর্থ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও গলানিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের বুথগুলোতে এই অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন।
জানা গেছে, সরাইলের কালীকচ্ছ ইউনিয়নের ৩নং কেন্দ্র ধর্মতীর্থ সরকার প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৬টি বুথের মাধ্যমে ভোট গ্রহণ করা হয় ২৪৯৮টি। এই কেন্দ্রে বৈধ ভোট হিসেবে বিবেচিত হয়েছে ৩৩৯৩টি ভোট। প্রশ্ন উঠেছে- মাত্র ৬টি বুথের মাধ্যমে কিভাবে এতগুলো ভোট গ্রহণ সম্ভব। হিসেব করলে দেখা যায় এক মিনিটের কম সময়ে মধ্যে একটি ভোট দেয়া হয়েছে যা জাল ভোট ও ভোট ছাপা ছাড়া আর কিছুই না।  নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা কয়েকজন চেয়ারম্যান প্রার্থী দাবী করেছেন- এই কেন্দ্রে ভোট ছাপা ও জাল ভোট দেয়া হয়েছে প্রবাসী ও মৃত ব্যক্তিদের ভোট ও দেয়া হয়েছে। অভিযোগ বিজয়ী প্রার্থী মোঃ ছায়েদ হোসেনের দিকে, মোটরসাইকেল প্রতীকের প্রার্থী অবৈধ যোগসাজশে এ তেলেসমাতি কান্ড ঘটিয়েছেন। হিন্দু ভোটারদের ভোট না নিয়ে তাদেকে তারিয়ে দেয়ার কথা ও শোনা গেছে। একই অভিযোগ গলানিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের বিরুদ্ধেও। এই কেন্দ্রে বৈধ ১৮৬৪ ভোট গ্রহণ করা হয়েছে।
এদিকে ইউনিয়নের কেন্দ্রয়ারী ভোটের রেজাল্ট শীট পর্যালোচনায়ও ধর্মতীর্থ কেন্দ্রে অন্যান্য কেন্দ্রের চেয়ে অনেক বেশি ভোট গ্রহণের তথ্য উঠে এসেছে। এই ইউনিয়নে যিনি নির্বাচিত হয়েছেন তিনি ওই ধর্মতীর্থ ও গলানিয়াতে যথাক্রমে ১৯২২ ও ১২২০ ভোট পেয়েছেন। অথচ অন্যান্য কেন্দ্রে অনেক কম ভোট পেয়েছেন।
নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা স্বতন্ত্র চেয়ারম্যানপ্রার্থী মোঃ শরাফত আলী বলেন- এই কেন্দ্রের রেজাল্টই সব হিসাব-নিকাশ পাল্টে দিয়েছে। দুই কেন্দ্রের মাধ্যমে পুরো নির্বাচনী ফলাফল ছায়েদ হোসেন নিজের করে নিয়েছেন। তিনি এই অনিয়মের সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী জানিয়েছেন।