সরকারি চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে টাকা আত্মসাৎ, গ্রেফতার ৩

ইমন হোসেন: সরকারি চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে টাকা আত্মসাৎকারী চক্রের মূল হোতাসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। চক্রটি সরকারি চাকরি দেওয়ার কথা বলে তিন থেকে পাঁচ লাখ টাকা অগ্রিম নিতো।

সিআইডি বলছে, চক্রটি অভিনব কায়দায় বিশ্বাস অর্জন করে চাকরি দেওয়ার কথা বলে হাতিয়ে নিয়েছে লাখ লাখ টাকা। টাকা আত্মসাতের জন্য তারা ভুয়া নিয়োগপত্র দিতেন। চাকরির নিশ্চয়তা দিয়ে অগ্রিম টাকা নেওয়ার সময় ভুক্তভোগীর বিশ্বাস অর্জনে তারা ব্লাঙ্ক চেক ও ব্লাঙ্ক স্ট্যাম্প নিতেন ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে।

সোমবার (১৭ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর মালিবাগ সিআইডি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ঢাকা মেট্রো সিআইডির অতিরিক্ত ডিআইজি মো. ইমাম হোসেন।

তিনি বলেন, পল্টন থানায় মামলার ভিত্তিতে গতকাল (১৬ জানুয়ারি) সিআইডির একটি টিম পল্টন মডেল থানা এলাকা থেকে ভিকটিম মো. মিরাজুল ইসলাম (৩১)সহ আরও ৪ জনের অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্ত এই চক্রের মূলহোতাসহ ৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়।

মূলহোতা মো. হারুন অর-রশিদ (৩৬) এবং দুই সহযোগী সেকেন্দার আলী (৩৪) ও মাসুদ রানাকে (২৩) গ্রেফতার করা হয়।

এ সময় তাদের কাছ থেকে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের ভূয়া নিয়োগপত্র ৪টি। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের আবেদনপত্র ৩টি।

ভিকটিমদের স্বাক্ষরিত বিভিন্ন ব্যাংকের ব্লাঙ্ক চেক ৬ টি, ভিকটিমদের স্বাক্ষরিত ব্লাঙ্ক স্টাম্প ২৪টি। ৫ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর সরকারি চাকরির জন্য সুপারিশকৃত ভূয়া ডিও লেটার ও বিভিন্ন ব্যক্তিদের ছবি ও অন্যান্য কাগজপত্র সম্বলিত বায়োডাটা উদ্ধার করা হয়।

সিআইডির এই কর্মকর্তা আরও বলেন, বিশ্বাস অর্জনের জন্য চক্রটি চাকরি পাবার পর বাকি টাকা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়। আবার ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে ব্লাঙ্ক চেক ও ব্লাঙ্ক স্ট্যাম্প নিয়ে নিয়ে বিশ্বাস করানোর চেষ্টা করে যে, চাকরি আপনার হবেই। এভাবেই প্রতারক চক্রটি ভুয়া নিয়োগপত্র দিয়ে চাকরিপ্রত্যাশীদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছে।

শুধু তাই নয়, চক্রটি বদলি বাণিজ্যের সঙ্গেও জড়িত। বিভিন্ন মানবিক কারণ দেখিয়ে প্রতিষ্ঠান থেকে বদলিতে আগ্রহীদের জন্য তদবির করতো চক্রটি। গ্রেফতারদের বিরেদ্ধে আইনানুগ পদক্ষেপ প্রক্রিয়াধীন বলেও জানান অতিরিক্ত ডিআইজি ইমাম হোসেন।