ষাটোর্ধ্বদের বুস্টার ডোজ ডিসেম্বর থেকেই: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক: ৬০ বছরের বেশি বয়সীদের করোনা প্রতিরোধে বুস্টার ডোজ (তৃতীয় ডোজ) দেওয়া চলতি ডিসেম্বর মাস থেকেই শুরু হবে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

সোমবার (১৩ ডিসেম্বর) মন্ত্রিসভা বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষ থেকে বের হওয়ার সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রী এ কথা জানান।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বুস্টারের সিদ্ধান্ত আমরা নিয়েছি, আমরা বুস্টার ডোজ দেব। আমরা ষাটোর্ধ্ব ব্যক্তি, ফ্রন্টলাইন ওয়ার্কার যারা আছেন, তাদের দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছি। এ বিষয়ে কার্যক্রম চলছে। নির্দেশনা আমরা দিয়েছি। সুরক্ষা অ্যাপে কিছু আপডেট করতে হবে। আমরা আশা করছি, এ মাসেই কাজ শুরু করতে পারব।’

এদিকে, করোনা টিকার বুস্টার ডোজ দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে কোভিড-১৯ সংক্রান্ত জাতীয় কারিগরী পরামর্শক কমিটি। পরামর্শক কমিটির ৪৯তম সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে সোমবার কমিটির প্রধান অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ সহিদুল্লাহ স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক কোভিডের টিকার বুস্টার ডোজ দেওয়ার বিষয়ে জাতীয় কমিটির কাছে মতামত চেয়েছিলেন। সে অনুযায়ী কমিটি বৈঠক করে তাদের সুপারিশ জানিয়েছে।

সেখানে আরও বলা হয়, ‘কোভিডের নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রমের জন্য পর্যাপ্ত টিকা নিশ্চিত করে ষাটোর্ধ্ব ও ফ্রন্টলাইনার, যাদের দুই ডোজ টিকা অন্তত ছয় মাস আগে দেওয়া হয়েছে, এমন জনগোষ্ঠীকে কোভিডের বুস্টার ডোজ দেওয়া যেতে পারে।’

বুস্টার ডোজ দিতে প্রস্তুতি চলছে জানিয়ে মন্ত্রী আরও বলেন, ‘স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের যে প্রস্তুতি, সেটাও হয়ে যাবে। আইসিটির প্রস্তুতিটাও আমরা করে ফেলতে পারব। একটা প্রায়োরিটি সেট (নির্ধারণ) করতে হয়। সেই অনুযায়ী যারা বয়স্ক বা মৃত্যু-ঝুঁকি বেশি তাদের আমরা আগে দেব। যারা ফ্রন্টলাইন ওয়ার্কার তাদেরও দেব। সবাইকে দেওয়ার পর উন্মুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে আমাদের।’

স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমাদের হাসপাতালগুলো যেভাবে ছিল আমরা সেভাবেই রেখেছি। এটাকে আরও জোরদার করা হয়েছে। আমরা প্রায় ৮০টি জেনারেটর স্থাপন করছি, অক্সিজেন জেনারেটর। এর মধ্যে ৩০টি স্থাপনের কাজ প্রায় সমাপ্তির পথে। বাকিগুলো আগামী অল্পদিনের মধ্যে দেশে এলে আমরা লাগিয়ে দেব।’

টিকা প্রদান ও মজুদ প্রসঙ্গে জাহিদ মালেক বলেন, ‘আমরা এ পর্যন্ত ১১ কোটি টিকা দিয়েছি। এ মাসে আরও দেড় থেকে দুই কোটি টিকা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। টিকা আমাদের হাতে প্রায় চার কোটি আছে। আজও ইউকে থেকে ৪০ লাখ ডোজ টিকা পাব। টিকার কোনো অসুবিধা নেই।’

অমিক্রনের বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা যেটা জানেন, বাংলাদেশ ক্রিকেট টিম জিম্বাবুয়ে থেকে এসেছিল এবং তারা সোনারগাঁওয়ে কোয়ারেন্টিনে ছিল। আমরা তাদের বেশ কয়েকবার টেস্ট করেছি এবং দুজনের অমিক্রন পাওয়া গেছে। জিনোম সিকোয়েন্সিং করে আমরা এ তথ্য পেয়েছি। তারা এখন ভালো আছে, সুস্থ আছে। অন্য কোনো তৃতীয় ব্যক্তির গায়ে আমরা অমিক্রন পাইনি। যারা হোটেলে আছে ও তাদের সংস্পর্শে এসেছে তাদেরও টেস্টের ব্যবস্থা আমরা করেছি। আমরা এখনো ভালো আছি। বর্ডার স্ক্রিনিং, এয়ারপোর্ট স্ক্রিনিংও আমরা এ কারণে জোরদার করেছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই ভাইরাসটি এখনো খুব ক্ষতিকারক না। এটি সাংঘাতিক সংক্রামক কিন্তু মৃত্যুর খবর কোথাও আমরা পাইনি। আমাদের এজন্য সজাগ থাকতে হবে। গতকালও আমরা দেখেছি, ১ দশমিক ৫ সংক্রমণের হার। এটি এখন কিছুটা বাড়তির দিকে। আমাদের মৃত্যুও ৬ হয়েছে গতকাল, এটা শূন্য, ১ বা ২-এ ছিল। স্বাস্থ্যবিধি মেনে আমাদের চলতে হবে। টিকা যারা নেননি তাদের আহ্বান করব, টিকা নিয়ে আপনারা সুরক্ষিত হয়ে যান।’