শ্রীপুরে এক পরিবারের ৮ জন সবাই জন্মান্ধ! চিকিৎসায় এগিয়ে এলেন সাদ্দাম

আফসার উদ্দিন আহমাদ,শ্রীপুর(গাজীপুর)প্রতিনিধি: একটি পরিবারের ৮জন সদস্য। পরিবারটির সকলেই জন্মান্ধ। এ যেন নিয়তির নির্মম পরিহাস। পরিবারে উপার্জনক্ষম কেউ না থাকায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন তারা। যদিও স্থানীয় এক স্বেচ্ছাসেবক পরিবারের সর্বকনিষ্ঠ শিশু ঝিনুকের চিকিৎসার ব্যায়ভার তুলে নিয়েছেন নিজ কাঁধে। নিয়েছেন তার পড়াশোনার দায়িত্বও। কিন্তু বাকি ৭ সদস্য নিয়ে হতাশার রেশ যেন কাটছেই না। গাজীপুরের শ্রীপুর পৌর এলাকার উজিলাব গ্রামের হলানিরচালা এলাকায় বসতি এ অন্ধ পরিবারটির। পরিবারের ৮ সদস্যরা হলেন, আমির হোসেন (৪৭),তাঁর স্ত্রী শিউলি আক্তার (৩৫),আমিরের বোন নাসরিন আক্তার (৩৪),হাসিনা আক্তার (৩২),আমিরের ভাই জাকির হোসেন (২৮),জাকির হোসেনের সন্তান জোনাকি আক্তার ঝিনুক (১০),হাসিনার সস্তান রূপা আক্তার (১৪) ও মারফ মিয়া (২)।

পরিবারের ১০ বছরের শিশু জোনাকি আক্তার ঝিনুক তার করুণ আর্তনাদ জানিয়ে বলেন, গল্প করতে করতে আশপাশের সমবয়সীরা স্কুলে যাচ্ছে, এমন আওয়াজ কানে আসলেও দেখতে পাইনা তাদের চেহারা। আমারও তো পৃথিবী দেখতে মন চায়। ইচ্ছে করে  সকলের সাথে খেলতে । দুঃখ প্রকাশ করে ঝিনুকের পিতা জাকির হোসেন বলেন, আমাদের সংসার জীবনের বাস্তবতা অনেক অবহেলা আর অপমানের। আমার অন্ধত্বের পর জন্মান্ধ ঝিনুক কোলে আসায় ফেলে চলে গেছে ঝিনুকের গর্ভধারিণী মা । পরিবারের আটজন অন্ধের মধ্যে সবচেয়ে বয়স্ক আমির হোসেন। তিনি বলেন, সামাজিক অবহেলা, পারিবারিক দৈন্য দশা, বিকল্প সক্ষমতা তৈরি করতে না পারায় এখন জীবনের আর কোনো লক্ষ্য নেই। শুধু বেঁচে থাকাটাই বড় চাওয়া পরিবারটির। তাই কষ্টের জীবনের বাস্তবতা প্রতিটি মুহূর্ত যন্ত্রণার।

দৃষ্টিহীন ঝিনুকের চিকিৎসা ও পড়াশোনার দায়িত্ব নিয়ে পরিবারটির পাশে দাঁড়িয়েছেন সমাজসেবক সাদ্দাম হোসেন অনন্ত। তিনি বলেন, পুরো পরিবার চরম কষ্টে থাকায় সরকারের পাশাপাশি সমাজের বিত্তশালীদের এগিয়ে আসা উচিৎ। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো.তরিকুল ইসলাম জানান, ইতোমধ্যে পরিবারটিকে সামাজিক নিরাপত্তা কার্যক্রমের আওতায় আনা হয়েছে। খোঁজ নিয়ে অন্যান্য সরকারি সুযোগ সুবিধার পাশাপাশি একটি ঘরের ব্যবস্থা করে দেওয়া হবে।