শেখ হাসিনার নেতৃত্বের ১৩ বছর

নিজস্ব প্রতিবেদক: বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের টানা ১৩ বছর পূর্ণ হলো বৃহস্পতিবার (৬ জানুয়ারি)। তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসা আওয়ামী লীগ সরকার দেশ পরিচালনায় তৃতীয় বছর পূর্ণ করে চতুর্থ বর্ষে পদার্পণ করবে আজ শুক্রবার (৭ জানুয়ারি)। ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি সরকার গঠন করে টানা তিন মেয়াদে ১৩ বছর ধরে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পালন করছে মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ।

ক্ষমতায় আওয়ামী লীগ সরকারের একটানা ১৩ বছরে বদলে গেছে বাংলাদেশের চিত্র। ক্ষমতার এই ১৩ বছর ধরেই দেশের মানুষসহ গোটাবিশ্ব দেখছে বাংলাদেশের উন্নয়ন-অগ্রগতি ও সফলতার ক্ষেত্রে রেকর্ডসংখ্যক টানা তৃতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসা বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার ক্যারিশমেটিক লিডারশিপ। চালকের আসনে থেকে পুরো দেশের চেহারাই বদলে দিয়েছেন তিনি।

সরকারের উন্নয়ন-অগ্রগতি ও সাফল্যের নিচে ঢাকা পড়ে গেছে অতীতের চক্রান্ত-ষড়যন্ত্র ও সাম্প্রদায়িক নেতিবাচক রাজনীতির ইতিহাস। দেশের শতভাগ মানুষের ঘরে এখন বিদ্যুতের ছোয়া, পুল-ব্রিজ-কালভার্ট, ফ্লাইওভার, এক্সপ্রেসওয়ে, পদ্মার বুক চিড়ে পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল এসবই বর্তমানে বাংলাদেশের বদলে যাওয়ার বাস্তব চিত্র। দেশের এই সত্যিকারের বদলে যাওয়ার প্রধান রূপকারই হচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ‘তলাবিহীন ঝুড়ির’ অপবাদকে চ্যালেঞ্জ করে বাংলাদেশ এখন সারাবিশ্বের সামনে উন্নয়নের রোল মডেল। জাতীয়-আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র এবং নানা চড়াই-উতরাই ও অন্ধকারের যুগ পেরিয়ে বাংলাদেশ আজ উন্নয়ন-সমৃদ্ধির মহাসোপানে। দেশ এগিয়ে চলেছে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণের পথে।

শেখ হাসিনার সাহসী নেতৃত্ব আর কৌশলী অবস্থানের কারণেই বাংলাদেশ আজ নবপরিচয়ে পরিচিতি পাচ্ছে। গত ১৩ বছরে বাংলাদেশ উন্নয়ন, অগ্রগতির সকল সূচকে যুগান্তকারী মাইলফলক স্পর্শ করেছে। অর্থনীতি ও আর্থ-সামাজিক ক্ষেত্রে বেশিরভাগ সূচকে দক্ষিণ এশিয়ার সকল দেশকে ছাড়িয়ে সারাবিশ্বে অগ্রগতির অভূতপূর্ব স্মারক বহন করছে। প্রাণঘাতী করোনা মহামারীসহ শত প্রতিকূলতার মধ্যেও এগিয়ে যাওয়ার রেকর্ড গড়েছে বাংলাদেশ।

২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা শেখ হাসিনা ‘দিন বদলের সনদ রূপকল্প ২০২১’ উপস্থাপন করেন। বাংলাদেশের জনগণ নিরঙ্কুশভাবে নৌকা প্রতীকে ভোট দিয়ে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগকে জয়যুক্ত করে। একইভাবে বাংলাদেশের জনগণ ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকা মার্কায় গণরায় প্রদান করে জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশে উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির চলমান অগ্রযাত্রাকে সমুন্নত রাখে। বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা বাংলাদেশের জনগণের আস্থা, সমর্থন ও সহযোগিতা নিয়ে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে টানা তেরো বছর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার ধারাবাহিকভাবে গত ১৩ বছরে বাংলাদেশ অর্থনীতি ও আর্থ-সামাজিক ক্ষেত্রে বেশিরভাগ সূচকে দক্ষিণ এশিয়ার সকল দেশকে ছাড়িয়ে সারাবিশ্বে অগ্রগতির অভূতপূর্ব স্মারক বহন করছে। দেশের গণতন্ত্র ও সুশাসনকে করেছে শক্তিশালী। করোনার মতো বৈশ্বিক মহামারী নিয়ন্ত্রণ ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় বিশ্বের বুকে আজ বিশেষভাবে অনুকরণীয় রাষ্ট্রের মর্যাদা পেয়েছে বাংলাদেশ। শেখ হাসিনার প্রজ্ঞা, দৃঢ়তা, সাহসিকতা, সততা ও কর্মনিষ্ঠা আজ বিশ্ব নন্দিত।

৪০ বছর ধরে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে থাকা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শত ষড়যন্ত্র ছিন্ন করে কঠোরহস্তে দুর্নীতি-সন্ত্রাস-মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে মানুষকে স্বস্তি এবং বাংলাদেশকে উন্নয়ন-অগ্রগতির মিছিলটি আরও বৃহৎ করতে সক্ষম হয়েছে বর্তমান সরকার। করোনার মধ্যেও নানাক্ষেত্রে রেকর্ড গড়েছে বাংলাদেশ। করোনার ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যেও দারুণ গতিতে আসছে রেমিটেন্স। আগের যে কোন সময়ের তুলনায় এখন রেমিটেন্স প্রবাহ সবচেয়ে বেশি। উপচে পড়ছে রিজার্ভেও। করোনার কারণে বড় বড় অর্থনৈতিক শক্তিশালী দেশও যেখানে প্রবৃদ্ধিতে ধস থামাতে ব্যর্থ হয়েছে, সেক্ষেত্রেও দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে রেকর্ড গড়েছে বাংলাদেশ।

কোন রাজনৈতিক দলের ক্ষমতায় থেকে স্বাধীনতার রজতজয়ন্তী (২৫ বছর) এবং সুবর্ণজয়ন্তী (৫০ বছর) পালন করার রেকর্ডও এখন আওয়ামী লীগ সরকারের ঝুলিতে। ১৯৯৬ সালে দীর্ঘ একুশ বছর পর ক্ষমতায় এসে আওয়ামী লীগ এক সাগর রক্তের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতার রজতজয়ন্তী পালন করেছিল বর্ণাঢ্য ও জাঁকজমকভাবে। সেই অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্বের বর্ণবাদবিরোধী মানুষের প্রাণপ্রিয় নেতা প্রয়াত নেলসন ম্যান্ডেলা, ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট প্রয়াত ইয়াসির আরাফাত, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট সুলেমান ডেমিরেলসহ বিশ্বের অনেক নেতা।

আর ক্ষমতার ১৩ বছরে পদার্পণের আগে ক্ষমতায় থেকেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী এবং স্বাধীনতার এবং বিজয়ের সুবর্ণজয়ন্তী পালনের দুর্লভ সুযোগ পায়। করোনা মহামারীর মধ্যেও বছরব্যাপী মুজিববর্ষের নানা কর্মসূচী এবং স্বাধীনতার এবং মুক্তিযুদ্ধের বিজয়ের সুবর্ণজয়ন্তী জমকালো অনুষ্ঠানমালার মাধ্যমে উদযাপন করে ক্ষমতাসীন সরকার।

এ উপলক্ষে ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস এবং ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিসহ সার্কভুক্ত পাঁচটি দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানরা এবং বিশ্বের প্রায় সকল বৃহৎ দেশ শুভেচ্ছা বাণী পাঠিয়ে দেশের উন্নয়ন-অগ্রগতির প্রশংসায় ছিলেন পঞ্চমুখ। সর্বশেষ বিজয়ের সুবর্ণজয়ন্তীতে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভারতের রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ। স্বাধীনতা ও বিজয়ের সুবর্ণজয়ন্তী, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে জমকালো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সারাদেশেই মুক্তিযুদ্ধের পক্ষ শক্তির মধ্যে একটি অভূতপূর্ব গণজাগরণ সৃষ্টি করতে পেরেছে আওয়ামী লীগ।