শুল্কমুক্ত চালানে চট্টগ্রাম বন্দরে এলো কম্বল, জায়নামাজ ও  প্রসাধনী সহ  ইলেক্ট্রনিক্স পণ্য 

জাহাঙ্গীর আলম চট্টগ্রাম: শুল্কমুক্ত সুবিধার চালানে ১ হাজার ৫৫১টি কম্বল, ৪৮৩টি জায়নামাজ, ১২০ কেজি প্রসাধনী, ২০০ কেজি ইলেক্ট্রনিক্স পণ্য আটক করেছে কাস্টম হাউস।
২০ নভেম্বর (শনিবার) দুপুরে কাস্টমস কর্মকর্তারা জানান, পাবনা রফতানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকার আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান এমজিএল কোম্পানি বাংলাদেশ  লিমিটেডের (ঠিকানা: এসএফবি-২, প্লট সং-৬৪-৬৯, ইশ্বরদী ইপিজেড, পাকশী, পাবনা, BIN: 001954825-1105) নামে মরিশাস থেকে চালানটি এসেছে।
১০০ ভাগ BLANKETS FABRICS FOR READYMADE GARMENTS INDUSTRY ঘোষণায় চালানটি আমদানি করা হয়েছিল। ২৪০ প্যাকেজে এক কনটেইনারে ৮ হাজার ৪০০ কেজি পণ্য থাকার কথা ছিল।
কাস্টম হাউস সূত্রে জানা গেছে, গত ৮ ফেব্রুয়ারি মরিশাসের পোর্ট লুইস থেকে কোটা নাজের জাহাজ যোগে কনটেইনারটি (DFSU6691599) চট্টগ্রাম বন্দরে আসে। এরপর নিয়ম অনুযায়ী পণ্য খালাসের জন্য আমাদানিকারকের মনোনীত চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ নূর চেম্বারের সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট প্রত্যয় ইন্টারন্যাশনাল ১৭ জুলাই বিল অব এন্ট্রি (নম্বর: সি-১৬১৫১৭) জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড সিস্টেমে নোটিং করে।
কিন্তু এ পণ্যচালানের বিষয়ে গোপন সংবাদ থাকায় কাস্টম হাউস কর্তৃক পণ্য চালানটি  অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড সিস্টেমে লক করা হয়, যাতে খালাস নিতে না পারে আমদানিকারক। চট্টগ্রাম বন্দরের জেআর কনটেইনার ইয়ার্ডে কনটেইনারটি চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের অডিট, ইনভেস্টিগেশন অ্যান্ড রিসার্চ (এআইআর) টিম ফোর্স কিপ-ডাউন করে বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে শতভাগ কায়িক পরীক্ষা করা হয়।
কায়িক পরীক্ষাকালে আমদানিকারকের ঘোষণা মোতাবেক কম্বলের কাপড়ের পরিবর্তে কম্বল, জায়নামাজ, বিভিন্ন প্রকার প্রসাধন সামগ্রী, খাদ্যদ্রব্যাদিসহ ব্যাগেজ প্রকৃতির প্রায় ৭৫ ধরনের পণ্য পাওয়া যায়।
কায়িক পরীক্ষাকালে কনটেইনার থেকে সব পণ্য বের করে আনার পর ২৩৮টি প্যাকেজের প্রায় প্রতিটি প্যাকেজে ইনার প্যাকেজের গায়ে প্রেরক ও প্রাপকের  নাম, ঠিকানা, মোবাইল নম্বরসহ কাপড় সেলাই করা অবস্থায় পাওয়া যায়। নতুন ও পুরাতন মিলিয়ে এতে  ১ হাজার ৫৫১টি কম্বল (৪ হাজার ৫৫৭ কেজি), ৪৮৩টি জায়নামাজ ( ৪৭৬ কেজি), ১২০ কেজি বিভিন্ন প্রকার প্রসাধনী, ২০০ কেজি বিভিন্ন প্রকার ইলেক্ট্রনিকস সামগ্রীসহ মোট ৭ হাজার ৫৭০ কেজি পণ্য পাওয়া যায়।
এআইআর শাখার ডেপুটি কমিশনার শরিফউদ্দিন জানান, চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস প্রশাসনের কঠোর নজরদারি এবং কর্মকর্তাদের নিষ্ঠা ও আন্তরিকতায় শুল্কমুক্ত সুবিধার অপব্যবহারের অপচেষ্টা নস্যাৎ করে দেওয়া সম্ভব হয়েছে।
প্রাপ্ত পণ্যের শুল্কায়নযোগ্য মূল্য আনুমানিক প্রায় ২০ লাখ টাকা। ফাঁকি দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে প্রায় ১৭ লাখ টাকার রাজস্ব।  এ ঘটনায় পরবর্তী আইনানুগ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।