শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিজ উদ্যোগে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা চালুর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক: দুর্ঘটনা হ্রাস করতে সকলকে ট্রাফিক রুলস মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘প্রত্যেকটি স্কুল নিজ উদ্যোগে বিশেষ ট্রাফিকের ব্যবস্থা নেবে। ট্রাফিক পুলিশ থাকবে তাদের সহযোগিতা করতে।’

বুধবার (১২ জানুয়ারি) সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের বিভিন্ন প্রকল্পের আওতায় নবনির্মিত: ঢাকা এয়ারপোর্ট মহাসড়কে শহীদ রমিজ উদ্দীন ক্যান্টনমেন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজ সংলগ্ন পথচারী আন্ডারপাস, সিলেট শহর বাইপাস-গ্যারিসন লিংক-৪ মহাসড়ক, বালুখালী (কক্সবাজার)-ঘুনধুম (বান্দরবান) সীমান্ত সংযোগসড়ক, রাঙ্গামাটি জেলার নানিয়ারচর চেংগী নদীর উপরে ৫০০ মিটার দীর্ঘ সেতুর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে একথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী এ ব্যাপারে শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে প্রত্যেকটি স্কুলকে নির্দেশ দিতে বলেন। একেবারে প্রাথমিক শিক্ষা থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত চালু হবে এ নিয়ম। তিনি বলেন, ‘শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে বলব আপনারা উদ্যোগ নেন। প্রত্যেকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সেই নির্দেশটা দেবেন। তাহলেই দুর্ঘটনা অনেক কমবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, কোনো একটা দুর্ঘটনা হলেই সবার আগে গাড়ির ড্রাইভারকে ধরে পিটানো হয়। এমনকি কখনও কখনও গণপিটুনি দিয়ে মেরে ফেলা হয়, হত্যা করা হয়। যখন দুর্ঘটনা ঘটে, সে দুর্ঘটনা কেন ঘটল? কী কারণে ঘটল? কার দোষে ঘটল? সেটা বিবেচ্য বিষয়। সেটা খুঁজে দেখা দরকার। সেখানে আমি পথচারীদের উদ্দেশে বলব ট্রাফিক ‍রুলস সম্পর্কে সবার জ্ঞান থাকা দরকার এবং সেটা মেনে চলা দরকার।’

তিনি বলেন, ‘ট্রাফিক রুলস সকলে মেনে চলবেন। মোবাইল ফোন কানে নিয়ে কথা বলতে বলতে সড়ক দিয়ে চলা বা রেললাইনের পাশ দিয়ে হাঁটা বা রেললাইন পার হওয়া, এটা কখনও কেউ করবেন না। এটা বন্ধ করতে হবে। আর যেখান সেখান থেকে হঠাৎ করে দৌঁড় দিয়ে রাস্তা পার হবেন না। রাস্তা পার হতে গেলেই দুর্ঘটনা ঘটে। সে ব্যাপারে সকলকে সতর্ক থাকতে হবে। প্রতিটি জায়গায় ফুটওভার ব্রিজ করা আছে বা আন্ডারপাস করে দিচ্ছি সকলকে সেটা মেনে চলতে হবে। একটা দুর্ঘটনা হলে সঙ্গে সঙ্গে সেখানে যখন পুলিশ যায়, অবশ্যই এটা দেখবেন যে দোষটা কার।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘প্রায়ই ছাত্ররা মারা যায়। কিন্তু অধিকাংশের ক্ষেত্রে দেখা যায়, হাতে মোবাইল ফোন নিয়ে কথা বলতে বলতে রাস্তায় চলছে অথবা ফুটপাত ছেড়ে দিয়ে রাস্তার মাঝখান দিয়ে হাঁটা শুরু করেছে। যখন একটা যানবাহন চলাচল করে সেই চালককে কিন্তু সঙ্গে সঙ্গে ব্রেক কষা সম্ভব হয় না। এটা যান্ত্রিক বিষয়, সেটা মাথায় রাখা দরকার।’

গাড়ির চালক ও হেলপারদের উদ্দেশে বলেন, চালকরা দীর্ঘ সময় গাড়ি চালালে অনেক সময় ক্লান্ত হয়ে পড়ে। অনেক সময় ঝিঁমিয়ে পড়ে, সেটা হয়। সেজন্য এখন মহাসড়কের পাশে চালক ও যাত্রীদের বিশ্রামের ব্যবস্থা করছি। কোনো চালক যদি ক্লান্ত হয় সেটা তারা বলতে পারেন বা কিছুক্ষণ গাড়ি থামাতে পারবেন। কিন্তু ড্রাইভার পাশে বসে হেলপার দিয়ে গাড়ি চালানো যাবে না। যার কোনো ভারী যান চালানোর দক্ষতা নেই, তাকে দিয়ে চালানোটা ঠিক না, এটা অন্যায় কাজ। এই বিষয়গুলোর দিকে সকলের দৃষ্টি দিলে বিশেষ করে পথচারী যদি সতর্ক থাকে তাহলে দুর্ঘটনা অনেক কম হবে।’

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, ‘ট্রাফিক রুলস মেনে চলতে হবে। যখন স্কুল ছুটি হয় তখন ছাত্র-ছাত্রীরা যেখান দিয়ে পার হয় সেখানে প্রত্যেকটা স্কুল নিজ উদ্যোগে বিশেষ ট্রাফিকের ব্যবস্থা করবে। ট্রাফিক পুলিশ থাকবে তাদের সহযোগিতা করতে। কিন্তু স্কুল কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে যথাযথ সচেতন থাকতে হবে, তাদেরও নিজস্ব লোক থাকতে হবে ওখানে। যাতে ছেলে-মেয়েরা নিরাপদে সড়কটা পার হতে পারে। অনেক সময় অন্যের কথা শুনতে চায় না। কিন্তু স্কুলের কর্তৃপক্ষ যদি থাকেন তার কথা ছাত্র-ছাত্রীরা শুনবে। এ ব্যপারে শিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রত্যেকটা স্কুলকে নির্দেশ দিতে পারেন। তাহলেই দুর্ঘটনা অনেক কমবে। যানবাহনগুলোর যান্ত্রিক ত্রুটি আছে কি না সেটাও বিভিন্ন সময় পরীক্ষা করতে হবে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রত্যেকটা স্কুল কলেজে ট্রাফিক রুলস সম্পর্কে একদম ছোট্ট বেলা থেকে শিক্ষা দেওয়া উচিত। এটা প্রতিটা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ব্যবস্থা নিতে হবে। রাস্তা ফুটপাত ধরে হাঁটলেও সব সময় যেদিক থেকে যান চলাচল করে বা যেদিক থেকে গাড়ি আসে তার উল্টো দিক থেকেই হাঁটতে হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কেউ আইন হাতে তুলে নেবেন না। দুর্ঘটনা, ‍দুর্ঘটনাই। দোষ কার সেটা পরে দেখা যাবে, কিন্তু সঙ্গে সঙ্গে ড্রাইভারকে মারধর ঠিক না। অনেক দুর্ঘটনা এরকম হয়, হয়তো ধাক্কা লাগলে পড়ে গেল কিন্তু ড্রাইভার ভয়ে থাকে যে সে যদি গাড়ি থামায় তাহলে গণধোলাই দিয়ে মেরে ফেলবে, সেই ভয়ে গাড়ি চালিয়ে যায় এবং যে পড়ে থাকে সে হয়তো বেঁচে থাকত কিন্তু পরে ভীত হয়ে যখন গাড়ি চালায় তখন ওই লোক চাকায় পিষ্ট হয়ে যায়। একটা মানুষের জীবন চলে যায়। কাজেই যারা এভাবে কিছু হলেই ড্রাইভারকে ধরে পিটান, গাড়ি ভাঙেন, গাড়িতে আগুন দেন, এটা কিন্তু ঠিক না। আইন কেউ হাতে তুলে নেবেন না। আইন-শৃঙ্খলাবাহিনী আছে তারাই দেখবে যে, আইনগত কী ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে।’