শাবিতে তদন্ত কমিটি গঠন, সব হলে শিক্ষার্থীদের তালা

নিজস্ব প্রতিবেদক: শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবি) উদ্ভুত পরিস্থিতি তদন্ত করতে আট সদস্যের কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব হলে তালা দিয়ে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখেছেন শিক্ষার্থীরা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভৌত বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. রাশেদ তালুকদারকে আহ্বায়ক ও রেজিস্ট্রার মুহাম্মদ ইশফাকুল হোসেনকে সদস্য সচিব করে আট সদস্যের এ কমিটি গঠন করা হয়।

সোমবার (১৭ জানুয়ারি) দুপুর ১টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমদ।

তিনি বলেন, ‘রোববারের ঘটনা খতিয়ে দেখে দ্রুত প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে গঠিত কমিটিকে। দুপুর ১২টার মধ্যেই শিক্ষার্থীদের হল ছাড়ার কথা। কিন্তু তারা হল ছাড়েননি, উল্টো উপাচার্যের পদত্যাগ চাইছেন। সেই সঙ্গে সব হলে শিক্ষার্থীরা তালা দিয়ে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখেছেন। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাউকেই হলে প্রবেশ করতে দিচ্ছেন না।’

এদিকে সোমবার (১৭ জানুয়ারি) সকাল ৮টা থেকে শিক্ষার্থীরা চতুর্থ দিনের মতো আন্দোলন অব্যাহত রাখেন। শিক্ষার্থীরা নানা রকম স্লোগান দিয়ে ক্যাম্পাস হল ত্যাগ না করার বিষয়ে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। ‘ক্যাম্পাস কারো বাপের না, হল আমরা ছাড়ব না’, ‘এক দুই তিন চার, ফরিদ তুই গদি ছাড়’, ‘আমাদের রক্ত বৃথা যেতে দেব না, হল আমরা ছাড়ব না’, ‘যে ভিসি ছাত্র মারে, তারে আমরা চাইনা’-

বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তমঞ্চে জড়ো হয়ে উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে এসব স্লোগান দিচ্ছেন তারা।

সকাল থেকে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনো শিক্ষার্থীকে হল ছাড়তে দেখা যায়নি। এর আগে গতকাল রোববার রাতে উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটক বন্ধ করে দিয়েছিল প্রশাসন। এ সময় মূল ফটকের বাইরে স্লোগান দিয়ে জড়ো হতে থাকেন শিক্ষার্থীরা। তবে কিছু সময় পর প্রশাসন সরে গেলে ফের ক্যাম্পাস অভ্যন্তরে প্রবেশ করেছেন শিক্ষার্থীরা।

রাত সাড়ে ১০টার দিকে স্লোগান দিয়ে শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে দ্বিতীয় ছাত্রী হলের সামনের রাস্তায় অবস্থান নেন। এবার তিন দফা দাবির সঙ্গে উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিও যুক্ত করেছেন আন্দোলনকারীরা। তাদের আন্দোলনে আকাত্মতা প্রকাশ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের উপদপ্তর সম্পাদক সজীবুর রহমান, সাব্বির হোসেন, সুমন সরকার, তারেক হালিমী ও তাদের অনুসারীরা। এ নিয়ে শিক্ষার্থীদের দাবি চার দফায় উত্তীর্ণ করা হয়েছে।

আন্দোলনের শুরুতে শিক্ষার্থীদের তিন দফা দাবির মধ্যে ছিল- প্রভোস্ট কমিটির পদত্যাগ, হলের সব অব্যবস্থাপনা নির্মুল করে সুস্থ পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং ছাত্রীবান্ধব ও দায়িত্বশীল প্রভোস্ট কমিটি নিয়োগ দেওয়া।