শরীয়তপুরে পিতার বিরুদ্ধে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ

মোঃ ফারুক হোসেন, জেলা প্রতিনিধি শরীয়তপুর: শরীয়তপুর জাজিরা উপজেলার পশ্চিম নাওডোবা ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের হাজী আব্দুল মান্নান ফকির কান্দি এলাকায় ১৭বছরের এক কিশোরী কন্যা কে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে পিতার বিরুদ্ধে।

অভিযুক্ত পিতা উপজেলার পশ্চিম নাওডোবা ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ড এলাকার মৃত আবদুল মান্নান ফকিরের পুত্র টিপু সুলতান ওরফে লিটন। ধর্ষণ চেষ্টার শিকার মেয়েটি স্থানীয় একটি স্কুলের দশম শ্রেণীর ছাত্রী।

ভুক্তভোগী মেয়েটি গণমাধ্যমকে জানান, আমার পিতা দেড় বছর যাবত আমাকে বিভিন্ন সময় বিভিন্নভাবে উত্তাক্ত করে আসছে। আমি এ বিষয়টি আমার দাদি, ফুপু, চাচাসহ পরিবারের কাছে জানালেও কোন প্রতিকার পাইনি। তারা আমার কথাগুলো অবিশ্বাস করে, উল্টো আমাকে শাসন করেছে। মাকে জানালে, মা বাবাকে বলতো, বাবা তখন মাকে নির্যাতন করতো, এমনকি প্রাণনাশের হুমকি ও দিতো।

পিতা মাঝেমধ্যেই আমাকে আপত্তিকরভাবে শরীর মেসেজ করতে বলতো। আমি অস্বীকার করলে আমাকে শারীরিক ভাবে অত্যাচার করত।

ওই কিশোরী আরো জানান, সর্বশেষ গত ২৮ জানুয়ারী সকালে আমার মা বাজারে গেলে, এ সময় খালি ঘরে পিতা আমাকে একা পেয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা করে। আমার সাথে জবরদস্তির একপর্যায়ে আমার পরনের জামা ছিড়ে ফেলে। আমি নিজের ইজ্জত বাঁচাতে গায়ে ওড়না জরিয়ে ঘর থেকে দৌড়ে পালিয়ে দাদির ঘরে চলে যাই। মা বাড়ি ফিরে আসলে তাকে ঘটনাটি জানাই। মা বিষয়টি বাবাকে জিজ্ঞেস করলে, বাবা আমাকে ও আমার মাকে প্রাণনাশের হুমকি দেয় এবং এ বিষয়টি অন্যকাউকে বলতে নিষেধ করে।

আমরা এখন নিরুপায় হয়ে মা সহ আমি বাড়ি থেকে প্রাণের ভয়ে বের হয়ে আসছি। পিতার বিচারের জন্য কোর্টে মামলা করেছি।

ভুক্তভোগী মেয়ের মা জানান, আমার স্বামী দীর্ঘদিন যাবৎ আমার মেয়ের সাথে ঘৃণিত আচরন করে আসছে। বিষয়টি মেয়ের মুখ থেকে জানার পর পরিবারের লোকজনকে জানানো হয়। তারা বিষয়টি কর্ণপাত কররেনি। স্বামীর অত্যাচারে সব সময় ভয়ে ভয়ে থাকতাম।

কিশোরির মা আরো জানান সর্বশেষ গত ২৮ জানুয়ারী সকাল সাড়ে আটটার দিকে আমার অনুপস্থিতিতে নিজ সন্তানকে পূণরায় ধর্ষণের চেষ্টা করে, আমার স্বামী। বিষয়টি স্বামীকে জিজ্ঞাসা করা হলে আমাকে শারীরিক ভাবে নির্যাতন করে এবং প্রাণনাশের হুমকি দেয়।

গত ৪ ফেব্রুয়ারী স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসা করে ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করে। আমি নিরুপায় হয়ে গত ৬ ফেব্রুয়ারী নিজে বাদী হয়ে স্বামীর বিচার চেয়ে বিজ্ঞ আদালতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে ২০০০ (সংশোধনী ২০০৩) এর ৯(৪)খ ধারায় মামলা করেছি। আমি এমন নরপশু পিতার সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করছি।