শরীয়তপুরে জন্মসনদ জালিয়াতির মাধ্যমে নাবালিকা মেয়ের বিয়ে

মোঃ ফারুক হোসেন, জেলা প্রতিনিধি শরীয়তপুর: শরীয়তপুর সদর উপজেলাধীন শৌলপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের অনলাইন জন্ম সনদ জালিয়াতি করে প্রায় দুই থেকে আড়াই শত লোকের সমাগমে জাঁকজমকপূর্ণভাবে বিয়ে দেয়া হয় একটি নাবালিকা মেয়েকে।

জানাযায়, গত বুধবার (৯ ফেব্রুয়ারি) রাতে শৌলপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের ৪নং ওয়ার্ড চর চিকন্দী এলাকার মোঃ আরশেদ হাওলাদারের মেয়ের সাথে বিয়ে হয়, নিকটস্থ কোয়ারপুর এলাকার সুলতান বেপারীর ছেলে কামাল হোসেন বেপারীর সাথে। মেয়ের অনলাইন জন্ম সনদে দেখা যায়, সাবেক চেয়ারম্যান ইয়াসিন হাওলাদার ও বর্তমান সচিব মোঃ তুহিন মিয়ার সিল ও স্বাক্ষর রয়েছে।  তবে জন্ম সনদ অনলাইনে যাচাই করে দেখা যায় সনদ কি ভুয়া।

ভুয়া সনদকে কেন্দ্র করে সাবেক চেয়ারম্যান ইয়াসিন হাওলাদার ও বর্তমান চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান খান ভাসানীর রয়েছে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ।

সাবেক চেয়ারম্যান ইয়াসিন হাওলাদার জানান, আমি এ সনদ তাকে দেইনি। আরশেদ হাওলাদার বর্তমান চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান খান ভাসানীর ড্রাইভার। নির্বাচন সংক্রান্ত বিষয়ে আমি বর্তমান চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে মামলা করেছি, হয়তো বা বর্তমান চেয়ারম্যান ও তার ড্রাইভারের যোগসাজশে আমার সুনাম ক্ষুন্নর লক্ষ্যে এ ধরনের নকল সনদ তৈরি করতে পারে। আমি চিকিৎসার কাজে ঢাকায় রয়েছি, এলাকায় এসে এ বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করব।

অপরদিকে বর্তমান চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান খান ভাসানী বলেন, আমার পরিষদের রেকর্ড অনুযায়ী আরশেদ হাওলাদারের মেয়ের বয়স ১৭। আমি এ বিয়ে দিতে নিষেধ করেছিলাম এবং আমাকে দাওয়াত করেছিল, আমি তা অস্বীকার করেছি। আরশেদ হাওলাদারের জমজ মেয়ে, তার আরেক মেয়েকে ২০২১ সালে বিয়ে দিয়েছে ওই এলাকার রব মেম্বারের বাসায় এবং সেখানে সাবেক চেয়ারম্যান নিজে উপস্থিত ছিলেন, সেটা কিভাবে হয়েছে?

বিবাহ রেজিস্ট্রার (কাজী) এ কে এম আব্দুল আলীম জাবেদী বলেন, মেয়ের পরিবার আমাকে অনলাইন জন্মনিবন্ধনের ফটোকপি দিয়েছে, সে ডকুমেন্ট এর উপর ভিত্তি করে বিবাহ রেজিস্ট্রি করেছি।

মেয়ের বাবা আরশেদ হাওলাদার জানান, আমাকে এ জন্ম সনদ টি দিয়েছে সাবেক চেয়ারম্যান ইয়াসিন হাওলাদার। মূল কপি স্কুলে জমা দেয়া। মেয়ের বয়স কম এজন্য শুধু বিবাহ রেজিস্ট্রি করে রেখেছি। বয়স হলে উঠিয়ে দেবো। সনদ টি ভুয়া এবং কিভাবে পেলেন এমন বিভিন্ন প্রশ্নের পরিপ্রেক্ষিতে তিনি রাগান্বিত হয়ে বলেন, আপনার এতো প্রশ্নের জবাব দিতে আমি বাধ্য নই।

শরীয়তপুর সদর উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা (ইউএনও) মন্দীপ ঘরাই বলেন, বাল্যবিয়ের সংবাদে আমরা সর্বদা তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নিয়ে থাকি। সনদ জালিয়াতির মাধ্যমে নাবালিকা মেয়ের বিয়ের বিষয় কোনো অভিযোগ পাইনি। জন্ম সনদ জালিয়াতি একটি প্রতারণা এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ। আমরা সনদটি যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করব।