লোভের বলি

সাংবাদিক মহসিন কাজী

বিজ্ঞান মনস্ক ভদ্রলোক

ছিলেন সরকারী প্রতিষ্ঠানের বড়কর্তা। স্ত্রী, ছেলে, মেয়ে নিয়ে ছিল সাজানো সংসার। সন্তানরাও উচ্চ শিক্ষিত। একমাত্র ছেলে সরকারী প্রতিষ্ঠানের প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তা। ভালোই কাটছিল তাদের দিনকাল।
কে জানে পৈত্রিক সম্পত্তি হবে সাজানো সংসারের কাল। সম্পত্তির উপর নজর পড়ে কথিত আপনজনের। ভূমিদস্যু আপনজন একে একে ফাঁদ পাততে থাকে।

অবসরপ্রাপ্ত বৃদ্ধ আপনজনের নামে জুড়ে দেয় স্ক্যান্ডাল। বাধ্য করা হয় বাড়ির কাজের মেয়েকে বিয়ে করতে। পরিবারের কর্তার এই হীন কাজ মানতে পারেনি স্ত্রী, সন্তানরা। পারিবারিক কলহ উঠে তুঙ্গে। অশান্তিময় হয়ে উঠে সংসার। ওদিকে কুচক্রীদের চক্রান্ত থেমে নেই। কান কথায় স্ত্রী, সন্তানদের উপর বিষিয়ে উঠেন ভদ্রলোক।

সংসারে প্রথম ভাঙন প্রথম স্ত্রীকে তালাক। সম্ভ্রান্ত বংশের মেয়ে পারিবারিক সুনাম রক্ষায় এক কাপড়ে চলে যান বাপের বাড়ি। তারপর একমাত্র সুশিক্ষিত পুত্রকে ত্যাজ্য ঘোষণা। তাও পত্রপত্রিকায় বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে ঘোষণা দিয়ে। মুহূর্তেই অন্ধকার আলোকিত সংসার।

ঘরে আসে বৃদ্ধের যুবতী স্ত্রী। সে ঘরেও আসে সন্তান। এভাবে কিছু চলার পর জটিল রোগ ধরা পড়ে কর্তার। এদিক ওদিক চিকিৎসার নামে ওরা হাতিয়ে নেয় নগদ জমা। টান দেয় সম্পত্তিও। এক পর্যায়ে পরপারে চলে যান তিনি।

এবার পালা দ্বিতীয় স্ত্রীর। স্বামী হারানোর পর তার কপালে দেয়া হয় কঠিন কলঙ্ক। ওরা রটিয়ে দেয় তিনি দুশ্চিত্রা। তার সাথে অবৈধ সম্পর্ক বাড়ির কাজের লোকের। তাকেও রাখা যাবে না বাড়িতে। ইজ্জত যাবার অজুহাতে এক মুহূর্তও থাকতে দিতে রাজি নয় ওরা। তাড়ানোর আগে হাতিয়ে নেয় তার নামে থাকা সম্পত্তি। সেই অসহায় মহিলারও শিশু সন্তান নিয়ে ছাড়তে হয় স্বামীর বাড়ি।

এভাবে যবনিকা ঘটে একটি সাজানো সংসারের। স্বজনদের লোভের বলি হয় সেই সংসারের ভাঁজে থাকা সম্ভাবনাগুলো। আর ফুলে ফেঁপে থাকে কুচক্রী দস্যুরা।

লেখকঃ বিএফইউজে-বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের যুগ্ম মহাসচিব সাংবাদিক মহসিন কাজী