লাথামের সেঞ্চুরিতে দাপুটে সূচনা নিউ জিল্যান্ডের

নিজস্ব প্রতিবেদক: মাউন্ট মঙ্গানুইয়ে টেস্ট জতার পর উজ্জীবিত বাংলাদেশ। ক্রাইস্টচার্চেও একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটাতে চায়। হ্যাগলি ওভালের ২২ গজের জমিন সবুজ। টস জিতে প্রথম টেস্টে যদি নিউ জিল্যান্ডের ব্যাটসম্যানদের ছারখার করা যায়, তাহলে হ্যাগলি ওভালে নয় কেন? প্রয়োজন শুধু টস জয়। তাহলেই দেখবে খেলা। বুঝবে ঠেলা। ছিন্নভিন্ন করা হবে ব্যাটিং লাইন। প্রত্যাশামতো টসও জেতা হলো। বোলিংও নেওয়া হলো; কিন্তু কোথায় নিউ জিল্যান্ড ছারখার! উল্টো নিজেদের ধারালো আক্রমণই ভোতা হয়ে গেছে।

প্রথম সেশনে কোনো উইকেটই স্বাগতিকদের কোনো উইকেটই নেওয়া সম্ভব হয়নি। চা বিরতির আগে অবশ্য একটি উইকেট নেওয়া সম্ভব হয়েছে। নিউ জিল্যান্ডের রান ১ উইকেটে ২০২। উইল ইয়াং ৫৮ রান করে আউট হলেও দলপতি লাথাম তুলে নিয়েছেন সেঞ্চুরি। ১১৮ রানে তিনি অপরাজিত। তার সাথে ডেভন কনওয়ে অপরাজিত ১৮ রানে। একমাত্র উইকেট শিকারি শরিফুল।

ম্যাচ শুরুর আগে বাংলাদেশ যে রকম পরিকল্পনা করেছিল তার সব কিছুই পেয়েছিল। কিন্তু তারপরও তারা তার ফায়দা নিতে পারেনি। ক্রাইস্টচার্চের ইতিহাস বদলে দিয়ে নিউ জিল্যান্ড ছুটছে রানের ফুয়ারার দিকে। পরিসংখ্যান ওলট-পালট হয়ে গেছে। আরও কিছু হবে। ভেঙে যাচ্ছে পূর্বের সব ধারণা। এখানে প্রথম ইনিংসে তিন শ রানের নিচ হয়ে। এই তথ্য মিথ্যে প্রমাণ করে দিতে চলেছেন কিউই ব্যাটসম্যানরা। যেভাবে তারা আক্রমণাত্বক খেলছেন, তাতে করে মনে হচ্ছে প্রথম দিনই তারা তিনশ রান ছাড়িয়ে যাবেন। কারণ প্রথম দুই সেশনেই রান উঠেছে দুইশর উপরে। উদ্বোধনী জুটিতে শতরান এসেছে তা জানার জন্য পরিসংখ্যান ঘাটতে হয়েছে। দেখা যায় ২০১২ সালে ব্র্যান্ডাম ম্যাককালাম ও মার্টিন গাপটিল করেছিলেন। প্রতিপক্ষ ছিল জিম্বাবুয়ে। এর দায় আছে বাংলাদেশের পেসারদেরও।

মোটেই নামের প্রতি সুবিচার করতে পারেননি বাংলাদেশের তিন পেসার। প্রথম টেস্টে তিন পেসারের ক্ষুরধার বোলিং যেমন সর্বত্র সবার প্রশংসা কুড়িয়ে আশার প্রদীপ বাড়িয়েছিল দ্বিতীয় টেস্ট নিয়ে, সেখানে পানি ঢেলে দিয়েছেন পেসারত্রয়ী নিজেরাই। লাইন -লেন্থের বালাই ছিল না। প্রথম টেস্টে যেখানে উইকেট ট উইকেট বল করে এবাদত নিউ জিল্যান্ডের ব্যাটসম্যানদের বেকায়দায় ফেলেচিলেন। আজ সেখানে সবই ছিল উধাও। অফ স্ট্যাম্পের বাইরে, শর্ট পিচ বল করে গেছেন তিন পেসার।যার সদ্বব্যবহার করেছেন নিউ জিল্যান্ডের ব্যাটসম্যানরা।

এ রকম পরিস্থিতির জন্য ভাগ্যকেও দুষতে পারেন বাংলাদেশের পেসাররা। তাসকিন-শরিফুলকে এ দিন শুরু থেকেই খুবই স্বাভাবিকভাবে খেলছিলেন দুই ওপেনার লাথাম ও ইয়াং। প্রথম টেস্টের নায়ক এবাদত বল হাতে (ইনিংসের নবম ওভার ছিল) নেয়ার পরই সফল হয়ে ছিলেন। একই ওভারে একবার নয়, দুই দুইবার। সেঞ্চুরিয়ান লাথামকে দুই দুইবারই এলবিডব্লির ফাঁদে ফেলেছিলেন তিনি। আম্পায়ার দুইবারই সাড়া দিয়েছিলেন। কিন্তু দুইবারই রিভিউ নিয়ে বেঁচে যান তিনি। পরে প্রথম সেশনে করেন হাফ সেঞ্চরি। পরের সেশনে সেঞ্চুরি করেন ১৩৩ বলে ১৭ বাউন্ডারিতে। অথচ এই উইকেট পড়ে গেলে চিত্রনাট্য অন্যরকমও হতে পারত।

শুধু লাথাম কেন, আরেক ওপেনার ইউল ইয়াংও বেঁচে গেছেন আউট হওয়ার হাত থেকে। এবারো বোলার ছিলেন এবাদত। ব্যাটসম্যান বদল হয়েছিল। লাথামের পরিবর্তে ছিলেন উইল ইয়াং। স্লিপে তিনি ক্যাচ ধরেছিলেন। ওভার থ্রো হলে নিউ জিল্যান্ড তুলে নেয় ৭ রান।

নিউ জিল্যান্ডের প্রথম জুটি ভাঙ্গে দলীয় ১৪৭ রানে। উইল ইয়াংয়ের (৫৪) ক্যাচ ধরে অভিষেকে যাত্রা শুরু করেন মোহাম্মদ নাঈম শেখ।