লঞ্চ দুর্ঘটনা নিয়ে বিএনপি ও সমমনাদের বক্তব্য রাজনৈতিক দেউলিয়াপনার বহিঃপ্রকাশ -তথ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিনিধি: তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, লঞ্চ দুর্ঘটনা নিয়ে বিএনপি ও সমমনা দলগুলোর বক্তব্য তাদের রাজনৈতিক দেউলিয়াপনার বহিঃপ্রকাশ।

শনিবার সন্ধ্যায় ঢাকার রামপুরায় বিটিভি ভবনে বাংলাদেশ টেলিভিশনের ৫৮ বর্ষে পদার্পণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্যদানের পূর্বে গত বৃহস্পতিবার রাতে ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীতে যাত্রীবাহী লঞ্চে অগ্নিকান্ডে হতাহতের ঘটনাকে বিএনপিনেতারা ‘সরকারের দু:শাসনের ফল’ বলে মন্তব্য করা নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী একথা বলেন।

দুর্ঘটনাটিকে অত্যন্ত দু:খজনক বলে অভিহিত করে এবং নিহতদের আত্মার শান্তি এবং আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, এক্ষেত্রে তদন্ত হচ্ছে এবং এটি দুর্ঘটনা না নাশকতা সেটি তদন্তে বেরিয়ে আসবে এবং যারা দোষী সাব্যস্ত হবেন, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। ইতিমধ্যেই নিহতদের পরিবারের জন্য নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রাথমিক সাহায্য দেয়া এবং আহতদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি মনিটর করছেন।

‘কিন্তু এবিষয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল সাহেব এবং মান্না সাহেবসহ অন্যান্য নেতারা যেসব বক্তব্য রাখছেন, সেগুলো তাদের রাজনৈতিক দেউলিয়াত্ব থেকেই বলছেন’ বলেন ড. হাছান মাহমুদ। তাহলে উন্নত দেশগুলোসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে এবং এদেশে আগেও যেসব দুর্ঘটনা ঘটেছে, সেবিষয়ে তারা কি বলবেন প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, এর সাথে তো রাজনীতির কোনো সম্পর্ক নেই।

হাছান মাহমুদ বলেন, ‘সবকিছুর সাথে রাজনীতি নিয়ে আসা অবান্তর। কেউ যদি বলেন, মান্না সাহেব ছয়বার দলবদল করেছেন, সেটিও কি সুশাসনের অভাবে! মির্জা ফখরুল সাহেবসহ অন্যান্য বিএনপিনেতারাও যারা খোলস বদলেছেন, সেটিও কি সুশাসনের অভাবে! এসব বক্তব্য রাজনৈতিক দেউলিয়াপনার বহিঃপ্রকাশ ছাড়া কিছু নয়।’

বিটিভির ৫৮ বছরে পদার্পণ উপলক্ষে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেন, বাংলাদেশ টেলিভিশন ১৯৬৪ সালে যাত্রা শুরু করেছিল। এই উপমহাদেশে তথা সমগ্র বিশ্বে এটি প্রথম বাংলা ভাষার টিভি চ্যানেল। ভারতেও টেলিভিশন চালু হয় আমাদের পরে। সুতরাং বিটিভি একটি প্রাচীন চ্যানেল। প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরে দেশে এখন ৪৫টি টিভি চ্যানেলের লাইসেন্স দেয়া আছে, ৩১টি টিভি চ্যানেল সম্প্রচারে আছে, বাকিগুলো সম্প্রচারের অপেক্ষায়।

সম্প্রচারমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে বেসরকারি টেলিভিশনগুলো যারা পরিচালনা করছেন এবং প্রথিতযশা যেসব টিভি সাংবাদিকরা রয়েছেন, তাদের অনেকেরই হাতেখড়ি বাংলাদেশ টেলিভিশনে। তাই বিটিভি হচ্ছে টেলিভিশন চ্যানেলের আতুরঘর। এখন বিটিভির চারটি চ্যানেল সম্প্রচারে আছে এবং আগামী সংসদ নির্বাচনের আগেই আমরা আরো ৬টি চ্যানেল চালু করতে যাচ্ছি। বিটিভি, বিটিভি চট্টগ্রাম এবং সংসদ বিটিভি এ তিনটি টেরেস্ট্রিয়াল চ্যানেল ক্যাবল নেটওয়ার্ক ছাড়া এবং ক্যাবল নেটওয়ার্কেও সারাদেশে সবাই দেখতে পায়। একইসাথে মোবাইল এপসের মাধ্যমে সারা বিশ্বে সবাই দেখতে পায়।

এসময় দেশ গঠনে এবং আবহমান বাংলার সংস্কৃতি লালনের জন্য বাংলাদেশ টেলিভিশনে নানা অনুষ্ঠান প্রচারিত হয়ে আসছে এবং আজকে এইচডি সম্প্রচার উদ্বোধনসহ বিটিভিকে আরো এগিয়ে নেয়ার নানা পরিকল্পনা রয়েছে জানান তথ্যমন্ত্রী।

পরে মন্ত্রী হাছান মাহমুদ বাংলাদেশ টেলিভিশন এর ৫৮তম বর্ষে পদার্পণ উপলক্ষে বিটিভিত ভবনে বঙ্গবন্ধু কর্ণার, রঙতুলিতে বঙ্গবন্ধু চিত্রকর্ম ও এইচডি সম্প্রচার কার্যক্রম উদ্বোধন করেন।

বাংলাদেশ টেলিভিশনের মহাপরিচালক সোহরাব হোসেনের সভাপতিত্বে তথ্য ও সম্প্রচার সচিব মোঃ মকবুল হোসেন বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন। মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট দপ্তর প্রধানগণ, বিটিভির সাবেক মহাপরিচালক ম. হামিদ প্রমুখ অনুষ্ঠানে অংশ নেন।