লঞ্চের কেবিনে ‘জ্বীনের বাদশার’ লাশ, সাবেক স্ত্রী পিবিআই কর্তৃক গ্রেপ্তার 

ইমন হোসেন,স্টাফ রিপোর্টার: ঢাকা থেকে ভোলাগামী লঞ্চে কথিত ‌‘জীনের বাদশা’ জাকির হোসেনের খুনের ঘটনায় তার সাবেক দ্বিতীয় স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করেছে পিবিআই।

বুধবার (৩ আগস্ট) দুপুরে ধানমন্ডি পিবিআই হেডকোয়ার্টার্সে এক সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানান, ঢাকা জেলা পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ খোরশেদ আলম।

গ্রেফতারকৃত  আরজু আক্তার  খুন হওয়া কথিত ‘জীনের বাদশা’ জাকির হোসেন বাচ্চুর দ্বিতীয় স্ত্রী।

পিবিআই বলছে, জীনের বাদশার নামে প্রতারণার নানা কার্যক্রমের সময় আরজু আক্তারের সাথে পরিচয়ের কিছু দিনপরে তারা বিয়ে করেনে। বিয়ের কয়েকমাস পরে জাকির হোসেনের পরকীয়াসহ নানা বিষয়ে বিচ্ছেদ হয় তাদের। এরপর জাকিরকে শিক্ষা দিতেই তাকে খুন করে আরজু।

পুলিশ সুপার জানান, জাকির হোসেন ২৯ জুলাই ঢাকা থেকে লঞ্চে গ্রামের বাড়ি যাবেন বলে জানতে পেরে আরজুও তার সঙ্গে যেতে কেবিন ভাড়া করেন। এরপর পরিকল্পনা অনুযায়ী দুধের সঙ্গে পাঁচটি ঘুমের ট্যাবলেট মিশিয়ে লঞ্চে উঠেন। জাকির হোসেন এক বাটি রসমালাই কিনে লঞ্চে ওঠেন। কেবিনে ওঠার পর তারা শারীরিক মেলামেশা করেন। অনুমান এক ঘণ্টা পর আরজু আক্তার ঘুমের ওষুধ মেশানো দুধ জাকির হোসেনকে খাইয়ে দেন। দুধ খাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যে জাকির অচেতন হয়ে পড়লে ওড়না দিয়ে তার হাত-পা বেঁধে ফেলেন। পরে আরেকটি ওড়না দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন।  হত্যার পর কেবিনের স্টিলের খাটের নিচে লুকিয়ে রাখেন লাশ। লঞ্চটি ইলিশা ঘাটে পৌঁছালে আরজু আক্তার নেমে যান।
ওইদিন দুপুর আড়াইটার দিকে লঞ্চটি ইলিশা থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেয়। লঞ্চের কর্মচারীরা ওই কেবিনটি তিনজন বাচ্চা সহ দুই জন মহিলাকে ভাড়া দেন। লঞ্চটি ছেড়ে আসার প্রায় এক থেকে দেড় ঘণ্টা পর একটি বাচ্চা খাটের নিচে প্রবেশ করে। তখন একজন মহিলা ঘাটের নিচ থেকে বাচ্চাটিকে আনতে গেলে লাশ দেখতে পান।

পিবিআই ঢাকা মেট্রো উত্তর এর ক্রাইমসিন টীম নিহত জাকির হোসেন বাচ্চুর পরিচয় সনাক্তের পর বিষয়টি পিবিআই ঢাকা জেলা পুলিশকে অবহিত করলে পরে নানা অভিযান শেষে ভোলা থেকে ঢাকায় ফেরার পথে তাকে সাভারের নবীনগর এলাকা থেকে গ্রেফতার করে পিবিআই।