রাজশাহী আঞ্চলিক শিক্ষা অফিসের অনিয়ম ও দুর্নীতির তদন্ত শুরু

আল আমিন হোসেন, রাজশাহী: রাজশাহী আঞ্চলিক শিক্ষা অফিসের নানা অনিয়ম আর দুর্নীতি নিয়ে দৈনিক আমার সময় সহ বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে এমপিওভুক্তির নামে কোটি কোটি টাকা লোপাটের সংবাদ প্রকাশের জেরে দুদক একটি তদন্তপত্র প্রেরণ করে মন্ত্রণালয়ে। আর এই পত্রের পরিপ্রেক্ষিতে গত ১২ জানুয়ারি তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। তারা হলেন- রাজশাহী কলেজের অধ্যক্ষ, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের উপ পরিচালক (শারীরিক শিক্ষা) ও সহকারী পরিচালক।

পত্রে কমিটিকে ১৫ কর্মদিবসের মধ্যে সরেজমিন তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন করে জমা দেয়ার নির্দেশন দেয়া হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের পক্ষে তদন্তের নির্দেশ প্রদান করেন আঞ্চলিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের উপ পরিচালক মো. এনামুল হক হাওলাদার।

উল্লেখ্য, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের মান্থলি পেমেন্ট অর্ডারের (এমপিওভুক্তি) নামে রাজশাহী আঞ্চলিক শিক্ষা অফিসে কোটি কোটি টাকার বাণিজ্যের অভিযোগ পাওয়া যায়। বিভাগের আট জেলায় গত এক বছরে আড়াই হাজার শিক্ষককে এমপিওভুক্ত করতে ঘুষ লেনদেন হয়েছে প্রায় সাড়ে ১২ কোটি টাকা। শিক্ষা অফিসের পরিচালক অধ্যাপক ড. কামাল হোসেন ও সহকারী পরিচালক ড. আবু রেজা আজাদ এসব দুর্নীতি করেছেন বলেও অভিযোগ উঠে এসেছে বিভিন্ন পত্রিকায়।

তদন্তের বিষয়ে জানতে তদন্ত কমিটির সদস্য ও রাজশাহী কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর আব্দুল খালেক বলেন, এ বিষয়ে একটি চিঠি পেয়েছি। তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি করা হয়েছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত বলতে পারবো।

আঞ্চলিক শিক্ষা অফিস রাজশাহীর পরিচালক ড. মো. কামাল হোসেন ও সহকারী পরিচালক ড. আবু রেজা আজাদকে তাদের অফিসে না পাওয়ায় মুঠোফোনে চেষ্টা করা হয়। কিন্ত দুজনের কাউকেই ফোনে না পাওয়ায় তাদের বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

প্রসঙ্গত, রাজশাহী আঞ্চলিক শিক্ষা অফিসের পরিচালক অধ্যাপক ড. কামাল হোসেন ও সহকারী পরিচালক ড. আবু রেজা আজাদ এর নানা অনিয়ম দুর্নীতি সংবাদ প্রকাশের জেরে দৈনিক বাংলাদেশের আলো পত্রিকার রাজশাহী ব্যুরো প্রধান ফারুক আহমেদের নামে মিথ্যা মামলা করেন তারা। মামলার প্রতিবাদে গত ৩১ অক্টোবর’২১ তারিখে তাদের বিরুদ্ধে রাজশাহী বরেন্দ্র প্রেসক্লাব আয়োজিত মানববন্ধনে উক্ত কর্মকর্তাদের অপসারণ দাবি করা হয়। এসময় সন্ত্রাসী হামলাসহ মিথ্যা মামলার স্বীকার হতে হয় ক্লাবের সকল সাংবাদিকদের।

এদিকে, গত ১০ ডিসেম্বর’২১ তারিখে উক্ত কর্মকর্তাদের নানা অনিয়ম ও হয়রানির প্রতিবাদে তাদের অপসারণের দাবিতে বাংলাদেশ কলেজ শিক্ষক সমিতি রাজশাহী জেলা শাখাও সংবাদ সম্মেলন করে।