রাজশাহীতে শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কলেজ শিক্ষক সমিতির সংবাদ সম্মেলন

আল আমিন হোসেন, রাজশাহী: রাজশাহীতে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা, রাজশাহী অঞ্চল, রাজশাহীর পরিচালক ড. কামাল হোসেন ও সহকারী পরিচালক ড. আলী রেজা আজাদ এর দূর্ণীতি, অনিয়ম ও শিক্ষক-কর্মচারীদের সাথে দূর্ব্যবহারের অভিযোগে তাদের অপসারণ দাবী করে সংবাদ সম্মেলন করেছে বাংলাদেশ কলেজ শিক্ষক সমিতি (বাকশিস) রাজশাহী জেলা ও মহানগর।

শুক্রবার (১০ ডিসেম্বর) সকাল ১০ টায় রাজশাহী বরেন্দ্র কলেজের সম্মেলন কক্ষে বাকশিস রাজশাহী জেলা সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যক্ষ শফিকুর রহমান বাদশার সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ রাজ কুমার সরকার’র পরিচালনায় এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তারা বলেন, বর্তমানে বঙ্গবন্ধু কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অনুপাত প্রথা বাতিল করে এম.পি.ও ভুক্তির তারিখ হতে ষোল বছর পূর্ণ হলে শিক্ষক-কর্মচারীগণ উচ্চতর বেতন স্কেল পাবেন মর্মে সিদ্ধান্ত গ্রহন করেছেন। কিন্তু রাজশাহী অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালক ড. কামাল হোসেন ও সহকারী পরিচালক ডঃ আলী রেজা আজাদ শিক্ষক-কর্মচারীদের উচ্চতর বেতন স্কেল প্রাপ্তির পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছেন। গতবারে ৮টি জেলা থেকে প্রায় ৪৫০০ জন শিক্ষক-কর্মচারী এম.পি.ও এবং উচ্চতর বেতন স্কেল এর জন্য আবেদন করে। এর মধ্যে শুধুমাত্র ১৭০ জনের আবেদনপত্র গৃহীত হয়েছে। শিক্ষক-কর্মচারীদের আবেদনে তুচ্ছ কারণ দেখিয়ে তা বাতিল করে দিয়েছেন।

আরো অভিযোগ করেন, আদর্শ কলেজ কাটাখালী রাজশাহীতে সিনিয়রের ভিত্তিতে সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতি প্রদানের ক্ষেত্রে সিরাজুল হককে না দিয়ে অর্থের বিনিময়ে জুনিয়র ৩ জনকে সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতি দিয়েছেন। এ বিষয়ে সিরাজুল হক লিখিতভাবে পরিচালক বরাবর অভিযোগ করলেও তদন্ত ছাড়াই জুনিয়র ৩ শিক্ষককে সহকারী অধ্যাপকে পদোন্নতি দিয়েছেন, যাহা সরকারের জনবল কাঠামোর সুস্পষ্ট পরিপন্থি।  কেশবপুর স্কুল এন্ড কলেজ, বাঘায় একজন জুনিয়র শিক্ষককে অর্থের বিনিময়ে সহকারী অধ্যাপকের পদে পদোন্নতি দিলেও, সিনিয়র শিক্ষকের অভিযোগের ভিত্তিতে ড. কামাল হোসেনকে শোকজ করেছিলেন। সেই সাথে জুনিয়র শিক্ষককে সমস্ত টাকা ফেরৎ দিতে হয়েছে। তালন্দ কলেজ, তানোরে ২ জন শিক্ষকের নাম একই হওয়ায় ২য় জনকে সহকারী অধ্যাপকের পদে পদোন্নতি দেয় নাই। আদমদীঘি, পাইলট মহিলা কলেজের একজন শিক্ষকের ফলাফল সিট সঠিক না বলে পরপর ৩ বার বাতিল করে। পরবর্তীতে অর্থের বিনিময়ে ঐ ফলাফল সিটের মাধ্যমেই এম.পি.ও ভূক্ত হয়। ধোপাঘাটা ডিগ্রী কলেজের একজন শিক্ষকের নামের বানানে হাইপেন না থাকায় তার সহকারী অধ্যাপকের পদোন্নতির আবেদন বাতিল করেছেন। স্মারক নং না থাকায় অনেক আবেদনপত্র বাতিল করেছেন। নামের সাথে গউ এর পরে ঋঁষষ ঝঃড়ঢ় না থাকায় আবেদনপত্র বাতিল করেছেন। বঙ্গবন্ধু কলেজ, হাট রামচন্দ্রপুর কলেজ ও মহব্বতপুর খানপুর ডিগ্রী কলেজ, কমেলা হক ডিগ্রী কলেজ এর তুচ্ছ কারণে সকল আবেদন পত্র বাতিল করেছেন। সরনজাই ডিগ্রী কলেজ, তানোর এর সহকারী অধ্যাপকের আবেদন করলে, সিনিয়রকে বাদ দিয়ে জুনিয়রকে সহকারী অধ্যাপকের স্কেল প্রদান করা হয়। শিক্ষকরা প্রয়োজনে তার সাথে অফিসে দেখা করতে গেলে তাঁর পিয়ন বাধা দেয়। কেউ প্রবেশের অনুমতি পেলে তাকে অন্য ভাষায় গালিগালাজ ও দূর্ব্যবহার করে। নতুন এম.পি.ও ভূক্তির ক্ষেত্রে অর্থের প্রত্যাশায় খুঁজে খুঁজে কারণ বের করে আবেদনপত্র বাতিল করে। আবেদনপত্র বাতিলের ক্ষেত্রে সকল কারন একবারে চিহ্নিত না করে কৌশল হিসাবে একটির পর একটি কারণ বাহির করে, যাতে অর্থ আদায় করা যায় ।

এহেন ঘুষখোর দুর্নীতিবাজ, স্বেচ্ছাচারী এবং সরকারের ভাবমূর্তি বিনষ্ঠকারী আঞ্চলিক পরিচালক রাজশাহীর ড. কামাল হোসেন ও সহকারী পরিচালক ড, আলী রেজা আজাদকে অনতিবিলম্বে অপসারন করার জন্য মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী মহোদয়কে বিশেষভাবে অনুরোধ করেন তারা। অন্যথায় শিক্ষক সমাজ বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচী ঘোষনা করে তাদের অপসারন না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচী অব্যাহত রাখবে বলেও জানান।

লিখিত বক্তব্যে তারা সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, এই দুই শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করায় সাংবাদিকের নামে মামলা হলে সাংবাদিকরা গত ৩১ অক্টোবর’২১ নগরীর শহীদ কামারুজ্জামান চত্বরে রাজশাহী বরেন্দ্র প্রেসক্লাব সহ চারটি সাংবাদিক সংগঠনের ব্যানারে তাদের বিরুদ্ধে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে। কিন্তু এই দুই দূর্নীতিবাজ কর্মকর্তা টাকার বিনিময়ে সন্ত্রাসী ভাড়া করে সেই মানববন্ধনে হামলা চালায়। আমরা সেই হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি, সেই সাথে এঘটনায় জড়িত সকল দোষীদের শাস্তিরও দাবি জানাচ্ছি।

সংবাদ সম্মেলন আরো উপস্থিত ছিলেন বাকশিস রাজশাহী মহানগর সভাপতি অধ্যক্ষ নূরুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যক্ষ রনজিৎ সাহা, বাকশিস জেলা সহ সভাপতি অধ্যক্ষ আঃ আজিজ, মোঃ সিরাজুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান মধু, অধ্যক্ষ রুহুল আমিন, সদস্য আশরাফুল ইসলাম, কারিগরি শিক্ষক সমিতি রাজশাহী মহানগর সভাপতি অধ্যক্ষ মোঃ আব্দুর রাজ্জাক, অধ্যক্ষ সাইফুর রহমান জেন্টু সহ জেলা, মহানগর ও বিভিন্ন উপজেলা কমিটির শতাধিক শিক্ষক।