রাজশাহীতে বিনম্র শ্রদ্ধায় শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবস পালিত

আল আমিন হোসেন, রাজশাহী: আজ মঙ্গলবার (১৪ ডিসেম্বর) শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবস। দিবসটি বাঙালি জাতির ইতিহাসে এক শোকাবহ দিন। ১৯৭১ সালের এই দিনে দখলদার পাকিস্তানি বাহিনি এদেশীয় দোসরদের সহযোগিতায় জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের নৃশংসভাবে হত্যা করে। ইতিহাসের বর্বরোচিত এই দিনটি বাঙালি জাতি গভীর শোক ও শ্রদ্ধার সঙ্গে পালন করছে।

সারাদেশের মত রাজশাহীতে দিনটি যথাযোগ্য মর্যাদায় ও বিনম্র শ্রদ্ধার সঙ্গে পালিত হচ্ছে। এ উপলক্ষ্যে সকাল সাড়ে ১০টায় রাজশাহী জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় জাতীয় জীবনে শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবসের গুরুত্ব, তাৎপর্য ও মহান মুক্তিযুদ্ধে শহিদ বুদ্ধিজীবীদের অবদান তুলে ধরে বিশদ আলোচনা করা হয়।

বিভাগীয় কমিশনার ড. মোঃ হুমায়ুন কবীর উক্ত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

ড. মোঃ হুমায়ুন কবীর বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে বাঙালি জাতি যখন মুক্তির দ্বারপ্রান্তে ঠিক তখনই দখলদার পাক বাহিনি অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে জাতিকে মেধাশূন্য করার কূট-কৌশলে লিপ্ত হয়। তারা এদেশীয় দোসর রাজাকার, আলবদর, আল-শামসদের সহায়তায় জাতির মেধাবী সন্তানদের হত্যা করে। তারা এদেশের বুদ্ধি বৃত্তিক চর্চাকে হত্যা করে।

বিভাগীয় কমিশনার বলেন, পাকিস্তানি শাসক গোষ্ঠী বাঙালিদেরকে মেধাশূন্য করে পঙ্গু করতে চেয়েছিল। কিন্তু বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, আমাদেরকে কেউ দাবায়ে রাখতে পারবে না। আমরা সকল ক্ষেত্রে সফলতা অর্জন করার মাধ্যমে তা প্রমাণ করেছি।

তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বরে বুদ্ধিজীবীদের হত্যার কথা সারা পৃথিবীকে জানিয়ে দেয়া উচিত। দেশের জন্য তাঁদের অবদান এ জাতির ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।

মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস আমাদের নতুন প্রজন্মকে জানাতে হবে উল্লেখ করে বিভাগীয় কমিশনার প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ক্লাস শেষ করার আগে অন্তত পাঁচ মিনিট করে শিক্ষার্থীদের মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস সম্পর্কে ধারণা দেওয়ার পরামর্শ প্রদান করেন। তিনি বলেন, আমাদের শোককে শক্তিতে রূপান্তর করে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্নের পথে এগিয়ে যেতে হবে।

অনুষ্ঠানে রাজশাহী এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ড. তসিকুল ইসলাম রাজা মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। জেলা প্রশাসক আব্দুল জলিলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মোঃ আবু কালাম সিদ্দিক উপস্থিত ছিলেন।

আলোচনা সভার শুরুতে শহিদ বুদ্ধিজীবীদের স্মরণ করে ১ মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। সভা শেষে প্রধান অতিথি শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষ্যে রচনা প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী বিজয়ীদের হাতে সনদ ও পুরস্কার তুলে দেন। এর আগে সকাল ১০টায়  বিভাগীয় কমিশনার জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরে শহিদ স্মৃতিস্তম্ভে পুস্পস্তবক অর্পণ করেন।