রাজশাহীতে করোনা মহামারির স্থবির জনজীবনেও থামাতে পারেনি নারী ও শিশু নির্যাতন

আল আমিন হোসেন, রাজশাহী: উন্নয়ন সংস্থা লেডিস অর্গানাইজেশন ফর সোসাল ওয়েলফেয়ার (লফস) অত্র জেলায় দীর্ঘদিন যাবৎ নারী ও শিশুর উন্নয়নে কাজ করছে। মানবাধিকার সংগঠন হিসেবে লফস সংস্থার ডকুমেন্টেশন সেল থেকে রাজশাহীর প্রচারিত দৈনিক পত্রিকার সংবাদের ভিত্তিতে নিয়মিত নারী ও শিশু নির্যাতনের পরিস্থিতি প্রকাশ করে। লফস মনে করে অত্র অঞ্চলে নারী ও শিশু নির্যাতন পরিস্থিতি বিভিন্ন মাত্রায় অবনতি ঘটছে। করোনা মহামরিও থামাতে পারেনি নারী ও শিশু নির্যাতন। একের পর এক কৌশলে নারী ও শিশু নির্যাতিত হচ্ছে। যৌতুক ও পরকীয়ার যেন নির্যাতনের এক ভয়ংকর রুপ। এ ক্ষেত্রে কিছু বিদেশি টিভি সিরিয়াল পরকিয়াকে উৎসাহিত করছে। এছাড়া পারিবারিক কলহ ও প্রেম ঘটিত কারনে হত্যা-আত্মহত্যা ও অমানবিক নির্যাতনের মতো ঘটনা ঘটছে। বিষয়গুলো কারও জন্য সুখকর নয়।

জানুয়ারী’২১ থেকে ডিসেম্বর’২১ সালে অমানবিক কিছূ ঘটে যাওয়া ঘটনার চিত্র তুলে ধরা হলো – নারী হত্যা ১৯ জন ও শিশু হত্যা করা হয়েছে ১০ জন, হত্যা চেষ্টা করা হয়েছে ৫ নারী ও ২ জন শিশুকে, আত্বহত্যা করেন নারি ২১ জন ও শিশু ১৮ জন, আত্বহত্যা চেষ্টা করেন ১ জন নারী, ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে ১ শিশুকে, ধর্ষনের শিকার হয়েছেন ২৪ জন শিশু ও ২১ জন নারী, গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন শিশু সহ ২ জন, ধর্ষন চেষ্টা করা হয় শিশু ৭ জনসহ ৩ জন নারীকে, যৌন নির্যাতনের শিকার হয় নারী ও শিশু সহ ২৮ জন, নির্যাতনের শিকার শিশু ১০ জন ও নারী ৩০ জন, ভিকটিম অফ পর্নোগ্রাফি ৮ জন নারী ও ২ জন শিশু, নারী ও শিশু সহ নিখোঁজ ১৫ জন, অপহরণ হয়েছে নারী ও শিশু সহ ১৬ জন। গত এক বছরে নারী ও শিশুরা বিভিন্নভাবে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন সর্বমোট ২৪৩ জন। এর মধ্যে নগরীতে দুই কলেজ ছাত্রীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগের ঘটনাটি সকলের জন্য উদ্বেগজনক।

লফস এর নির্বাহী পরিচালক শাহানাজ পারভীন বলেন, সংবাদপত্রে প্রকাশিত ঘটনার বাইরেও অনেক ঘটনা ঘটে যা প্রকাশিত হয় না বা কোন তথ্য জানা যায় না। এমন বাস্তবতায় ২০২১ সাল করোনা মহামারির মধ্যে সব কিছু স্থবির ছিলো। জনমানবে অজানা আতংক কাজ করছিলো। এমন সময়েও সবচেয়ে ঘৃনিত অপরাধ নারী ও শিশু নির্যাতন বাদ যায়নি বরং নির্যাতনের কৌশল পরিবর্তন হয়েছে। ধর্ষন বাড়ছে। সোসাল মিডিয়ায় অর্ন্তরঙ্গ মুহুর্তগুলো ছড়িয়ে দেওয়ার প্রবনতা বাড়ছে। একদিকে বাড়ছে বাল্যবিবাহ- অপর দিকে সংসার ভাঙ্গার তালিকা লম্বা হচ্ছে। প্রতিনিয়ত তুচ্ছ ঘটোনাতেও আত্মহত্যার প্রবনতা বাড়ছে। আমরা নারী ও শিশু নির্যাতনের প্রকাশিত তথ্যতে হতাশ। কারন বাস্তবে এই পরিসংখ্যান আরও বেশি হবে। তিনি রাজশাহী অঞ্চলে নারী – শিশু নির্যাতন সহ সার্বিক ঘটনাগুলোর সুষ্ঠ তদন্ত ও দায়ীদের দিষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।

তিনি আরও বলেন অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত করা না গেলে ক্রমশই অপরাধীরা উৎসাহিত হবে এবং অপরাধের মাত্রা বৃদ্ধি পাবে। লফস সকল নারী-শিশু নির্যাতন ঘটনাগুলোর সুষ্ঠ তদন্ত স্বাপেক্ষে অপরাধীর কঠোর শাস্তির দাবী জানায় এবং নারী – শিশু নির্যাতন বন্ধে রাজনৈতিকভাবে একমত পোষন করে নারী-শিশু নির্যাতনকারীকে সামাজিকভাবে বয়কট করার আহবান জানান।