যুব বিশ্বকাপ ক্রিকেটে প্রতিপক্ষ ভারত বাংলাদেশের এগিয়ে যাওয়া না ফিরে আসা

নিজস্ব প্রতিবেদক: যুব বিশ্বকাপ ক্রিকেটে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ। বাংলাদেশ এই একবারই চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। সেখানে সবচেয়ে বেশি শিরোপা জিতেছে ভারত চারবার। এরপর অস্ট্রেলিয়া জিতেছে তিনবার। দুইবার জেতার রেকর্ড আছে পাকিস্তানের। বাংলাদেশের মতো একবার করে জিতেছে ইংল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকা। এখন চলছে সেমি ফাইনালে উঠার লড়াই। একে একে শিরোপা জেতা দলগুলো থেকে বাদ পড়েছে পাকিস্তান, দক্ষিণ আফ্রিকা। সেমিতে গিয়ে টিকে আছে অস্ট্রেলিয়া-ইংল্যান্ড। ইংল্যান্ড তাদের প্রতিপক্ষ পেয়ে গেছে। আফগানিস্তানের বিপক্ষে খেলবে ১ ফেব্রুয়ারি। কিন্তু অস্ট্রেলিয়ার প্রতিপক্ষ এখনো নির্ধারিত হয়নি। অপেক্ষায় আছে তারা। কে হবে তাদের প্রতিপক্ষ। সেই লড়াইয়ে অবতীর্ন হবে বাংলাদেশ ও ভারত। এখান থেকে খসে পড়বে শিরোপা জয়ী একটি দল। জেতা দল ২ ফেব্রুয়ারি অস্ট্রেলিয়্রা বিপক্ষে খেলবে ফাইনালে উঠার জন্য দ্বিতীয় সেমিতে। অ্যান্টিগায় শনিবার বাংলাদেশ সময় সন্ধ্য সাড়ে সাতটায় শুরু হবে ম্যাচটি।

বর্তমান চ্যাম্পিয়ন হলেও বাংলাদেশের এবারের টার্গেট সেমি ফাইনাল পর্যন্ত খেলা। এই ম্যাচে জিতলে সেই চাওয়া পূর্ন হবে। হেরে গেলে কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বিদায়। প্রতিপক্ষ ভারত মানেই যে কোন দলের জন্য বাড়তি এক টেনশন। জয়ের পাল্লা ভারতের দিকেই হেলে পড়ে। বাংলাদেশের জন্যও তাই এক টেনশনের নাম। এইতো মাত্র কয়েকদিন আগের ঘটনা। উইন্ডিজে বিশ্বকাপ খেলতে যাওর্য়া আগে সংযুক্ত আরব আমিরাতে এশিয়া কাপের সেমিতেই মুখোমুখি হয়েছিল দুই দল। গ্রæপ পর্বে দাপুটে খেলা বাংলাদেশ সেমিতে লড়াই-ই করতে পারেনি। তবে ভারত মানেই যে বাংলাদেশের জন্য হার, তা কিন্ত নয়। বাংলাদেশ যে বর্তমানে যুব বিশ্বকাপের মুকুটধারী, তা কিন্তু এই ভারতকে৩ উইকেটে হারিয়েই জিতেছিল ২০২০সালে দক্ষিণ আফ্রিকায়। কাজেই ভারত মানেই হারের ভয় নয়, আছে বিজয়ের ঝান্ডাও। দুই দল ২৪ বারের মোকাবেলাতে ভারতের জয়ের পাল্লাই ভারী ১৯ বার। বাংলাদেশ জিতেছে চারবার। একবার ফয়সালা হয়নি।

গ্রুপ পর্বে বাংলাদেশ ‘এ’ গ্রুপের রানার্সআপ এবং ভারত ‘বি’ গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন হয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে আসে। গ্রুপ পর্বে বাংলাদেশ প্রথম ম্যাচে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে যাচ্ছেতাই রকমের বাজে খেলে হেরে ছিল ৭ উইকেটে। এরপর তারা ঘুরে দঁড়ায়। একে একে উড়িয়ে দেয় কানাডাকে ৮ উইকেটে ও সংযুক্ত আরম আমিরাতকে ৯ উইকেটে। ‘বি’ গ্রুপে ভারত ছিল অপ্রতিদ্বন্দ্বী। প্রথম ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ৪৫ রানে হারানোর পর শেষ দুই ম্যাচে আয়ারল্যান্ড ও উগান্ডাকে রীতিমতো উড়িয়ে দেয়। আয়ারল্যান্ডকে ১৭৪ ও উগান্ডাকে ৩২৬ রানে পরাজিত করে। উগান্ডার বিপক্ষে আগে ব্যাট করে ভারত ৫ উইকেটে ৪০৫ রান করে।

ভারত গ্রুপ পর্বে আগে-পরে ব্যাট করে জয়ী হলেও বাংলাদেশ জয়ী হয়েছিল পরে ব্যাটিং করে। যদিও সেখানে বোলারদের দাপটে কারণে প্রতিপক্ষ অল্পতেই গুটিয়ে গিয়েছিল। সেই রান তাড়া করতে নেমে আবার ব্যাটসম্যানদের তেমন কোনো প্রতিরোধের মুখেই পড়তে হয়ন। বাংলাদেশের ভরসার জায়গা বোলিং শক্তি। বল হাতে স্পিনার রিপন মন্ডল আছেন দারুণ ফর্মে। গ্রুপ পর্বে প্রতিটি ম্যাচেই তিনি উইকেট পেয়েছেন। তার ঝুলিতে আছে ৮ উইকেট। মেহরব একটি ম্যাচে পেয়েছেন ৪ উইকেট। পেসার আশিকুর জামান ইংল্যান্ডের বিপক্ষে কোনো উইকেট না পেলেও পরের দুই ম্যাচে দুইটি করে উইকেট নিয়েছেন। বর্তমান চ্যাম্পিয়ন দলের সদস্য তানজিম হাসান সাকিব শেষ দুই ম্যাচ খেলে নিয়েছেন দুই উইকেট। শিরোপা জয়ী দলে আরেক সদস্য দলতি রকিবুল হাসান প্রতি ম্যাচেই হাত ঘুরিয়েছেন। উইকেটে পেয়েছেন দুইটি।

ব্যাট হাতে যতো ব্যর্থতা, তা ছিল শুধু ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচেই। পরের ম্যাচ থেকেই ব্যাটসম্যানরা নিজেদের চেনা রূপে ফিরেছেন। মোহাম্মদ মফিজুল ইসলাম সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে খেলেন অপরাজিত ৬৪ রানের ইনিংন। আগের ম্যাচে কানাডার বিপক্ষে আরেক ওপেনার ইফতেখার হোসেনও খেলেন অপরাজিত ৬১ রানের ইনিংস। আরব আমিরাতের বিপক্ষে তিনি করেন ৩৭ রান। প্রান্তিক নওরোজ নাবিলের ব্যাট থেকে এসেছে ০, ৩৩, ও অপরাজিত ৫। মিডল অর্ডারের আইচ মোল্লা আরব আমিরাতের বিপক্ষে ব্যাট করতে নামেননি। আগের দুই ম্যাচে করেন ১৩ ও অপরাজিত ২০ রান। উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান মোহাম্বমদ ফাহিমকে ব্যাট হাতে পরীক্ষা দিতে হয়নি। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ১ রান করেন। তবে উইকেটের পেছনে দাঁড়িয়ে তিনটি ক্যাচ ও একটি স্ট্যাম্পিং করেছেন তিনি।

ভারতকে হারাতে শনিবারের ম্যাচে রকিবুলকে তার বাহিনী নিয়ে ব্যাটে-বলে দুই জায়গাতেই জ্বলে উঠতে হবে ।