যুবলীগ নেতার বিরুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধার জায়গা দখলের অভিযোগ

মোঃ আল মামুন,ব্রাহ্মণবাড়িয়া: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় যুবলীগ নেতা পরিচয়ধারী ইয়াকুব মোল্লার বিরুদ্ধে জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডারের মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদকের বিটেবাড়ির জায়গা দখল করে বাড়ী তৈরি করার অভিযোগ উঠেছে।
কসবা উপজেলার বাদৈর ইউনিয়ন শিকারপুর গ্রামের মোল্লাবাড়ির ইয়াকুব মোল্লার বিরুদ্ধে এই অভিযোগ করেন ওই ইউনিয়নের একই গ্রামের ডেংগুসার বাড়ির যুদ্ধকালীন সময়ের যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা মজনু মিয়া।
দীর্ঘ ৪বছর যাবত মজনু মিয়া ও তার-ভাই হাসেন মিয়া, হোসেন মিয়া, আনোয়ার মিয়া, আবুল কালাম, ফাকুল মিয়া ও দুলাল মিয়ার সর্বমোট ১৪ শতাংশ বিটেবাড়ির যায়গা ইয়াকুব মোল্লার দখলে। এসব বিষয় প্রতিবাদ করলে ইয়াকুব মোল্লা যুবলীগ নেতার পরচিয় দিয়ে হামলা-মামলা ও হুমকি-ধামকি দেন। এব্যাপারে বাদৈর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান জামাল খাঁ ও কসবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আলমগীর ভূইয়া বিষয়টি সমাধানের করতে গেলেও ইয়াকুব মোল্লা রাজি হয়নি।
দখলকৃত যায়গা উদ্ধারের জন্য ভুক্তভোগী সাত-ভাই বিটেবাড়ি যায়গা দখল ও দখলকৃত বিটেবাড়ির যায়গা থেকে ঘরবাড়ি উচ্ছেদ করার লক্ষ্যে জেলা বিজ্ঞ-নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ২টি ও ভুক্তভোগীদের বিরুদ্ধে মিথ্যে মামলা দিয়ে হয়রানি ও মামলা-হামলা এবং জানমাল নিরাপত্তা লক্ষে জেলার বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা মজনু মিয়া বাদি হয়ে ইয়াকুব মোল্লাসহ ৩-৪ জমের বিরুদ্ধে ৪টি মামলা দায়ের করে।
এছাড়াও যায়গার খারিজ বাতলের জন্যেও বিজ্ঞ কসবা সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে আরও একট মামলা দায়ের করা হয়। এসব মামলার প্রেক্ষিতে ইয়াকুম মিয়াও রাগান্বিত হয়ে মজনু মিয়া সহ তাদের ফ্যামিলির অধিকাংশ মানুষের বিরুদ্ধে ২-৩ টি মিথ্যা হামলা-মামলা দিয়ে হয়রানো করে যাচ্ছে। এসব মামলা দীর্ঘদিন যাবত জেলা আদালতে চলমান রয়েছে।
এবিষয়ে ভুক্তভোগী বীর মুক্তিযোদ্ধা মজনু মিয়া বলেন, ১৯৭১ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে মুক্তিযোদ্ধে অংশ গ্রহণ করেছি। একজন মুক্তিযোদ্ধার দলিলকৃত জমি প্রভাব খাটিয়ে দখল করে ইয়াকুব মোল্লা তাঁর বাড়ী তৈরি করেছে। এই জমির বিষয়ে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে।
এবিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহল বলেন, একজন যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধার জায়গা কিভাবে অন্য একজন দখল করে রাখেন। বিষয়টি সমাধান করার জন্য প্রশাসনের প্রতি আহবান জানান।
কসবা উপজেলা যুবলীগের সভাপতি এমএ আজীজ জানান, উপজেলা যুবলীগ কমিটিতে ইয়াকুব মোল্লা নামে কেউ নেই। আমি জেনেছি, অনেক যায়গায় ইয়াকুব মোল্লা উপজেলা যুবলীগের নেতা হিসেবে পরিচয় দিয়ে বেড়াচ্ছে। শিকারপুরের এক মুক্তিযোদ্ধা যায়গা দখলের অভিযোগের ঘটনাটি শুনেছি। ইয়াকুব মোল্লা উপজেলা যুবলীগের নাম বিক্রি করে যদি কোন ধরণের অপকর্মের সাথে সম্পৃক্ত পাওয়া যায় তাহলে ইয়াকুবের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হয়।
কসবা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলমগীর ভূইয়া জানান, দীর্ঘদিন যাবত  দু’পক্ষের মধ্যে বিটেবাড়ির যায়গা নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। এব্যাপার নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া বিজ্ঞ ও অতিরিক্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দু’পক্ষের মধ্যে একাধিক মামলা চলমান আছে।