যত্র-তত্র ইট ভাটা, পথচারী ও কৃষকের গলায় কাঁটা

আব্দুল্লাহ আল লোমান,জামালপুর জেলা প্রতিনিধি: জামালপুরে বিভিন্ন সড়ক, মহাসড়ক,শিক্ষা এবং সামাজিক প্রতিষ্ঠানের পাঁশেই গড়ে উঠেছে প্রায় একশতটি ইট ভাটা।সরকারি নিতিমালার তোয়াক্কা না করেই দেদারছে চলছে এই ভাটাগুলো।ফসলি জমি ও সড়ক,মহাসড়কের পাঁশেই গড়ে উঠা,এমন যত্র তত্র ইট ভাটা এখন যেন,পথচারী ও কৃষকের গলায় কাঁটা।

জানা যায় জেলার সাতটি উপজেলা ও আটটি পৌরসভায় ৯১টি ইট ভাটা রয়েছে।ভাটাগুলোর মধ্যে সরকারি নিতিমালা অনুযায়ী ১১টি বাদে বাকিগুলোর নেই কোন বৈধ কাগজপত্র।ইট তৈরির উপকরণ হিসাবে উত্তোলণ করা হচ্ছে ফসলি জমি থেকে মাটি।অবৈধ গাড়ি ও অপরিপক্ক চালক দিয়ে এসব মাটি বহন করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে ভাটাই।আর বহনকৃত এই মাটি রাস্তায় পরে সৃষ্টি হচ্ছে ধূলা।

এসব অবৈধ ভাটা চলমান থাকায়,সরকারের রাজস¦ ফাঁকির পাঁশাপাশিঁ একদিকে হারাচ্ছে ফসলের ফলন অন্যদিকে পথচারিদের চলাচলে পরতে হচ্ছে বিপাকে। সরেজমিনে গেলে মেলান্দহ উপজেলার পূর্ব শ্যামপুর এলাকার কৃষক নূরল হকসহ একাধিক কৃষক

জানায়,এক সময় আমাদের এই জমিগুলোতে ভালো ফসল হইতো।এই ইট ভাটাগুলো হওয়াতে এখন আর আগের মতো ফসল হয়না।শুধু ফসল কেন,বসত বাড়ির গাছপালার ফলও ঠিকমত ধরেনা।ধূলাবালি দিয়ে বাড়িঘর ভরে যায়।প্রশাসনের নিকট লিখিত অভিযোগ দিয়েও কোন লাভ হয়নি। ইসলামপুর উপজেলার চরগোয়ালিনি ইউনিয়নের আমডাঙা গ্রামের মেসের আলী,জুমোর

আলীসহ একাধিক কৃষক ও পথচারীরা জানায়,আমরা বলেও কোন লাভ নেই,প্রশাসন কেন নিরব!আমাদের মাথায় আসেনা।শুধু আবাদ ফসল কেন,শান্তিপূর্ণ ভাবে রাস্তায় একটু চলাফেরা করবো সেটাও পারিনা।

ইসলামপুর কৃষি কর্মকর্তা বলেন, ফসলি জমির উর্ববর মাটির তোলায় ও নিতিমালার বহিরভূত ভাটাগুলো জমির ফসলের ফলন বসত বাড়িতে ফলজ গাছের উপর বিরূপ প্রভাব ফেলছে।

ইসলামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা(চলতি দায়িত্বে)রোকনুজ্জামান খান বলেন,আমরা ইতিপূর্বেও ভাটাগুলোতে অভিযান পরিচালনা করেছি।এবারও আমরা নিতিমালার বহিরভূত ভাটাগুলেতে অভিযান পরিচালনা করে প্রয়োজনিয় ব্যাবস্থা নিবো।

ময়মনসিংহ বিভাগের পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক ফরিদ আহমেদ বলেন,আমরা অতি শীঘ্রই মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে,অবৈধ ভাটার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবো।