মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীন সাহিত্য পুরস্কার পেলেন শিশুসাহিত্যিক ফারুক হোসন


আপন অপু: শিশুসাহিত্যিক ও ছড়াকার ফারুক হোসেন পেলেন ‘মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীন সাহিত্য পুরস্কার-২০২১’।  শিল্প-সাহিত্যের সংগঠন সাহিত্য মঞ্চের চতুর্থ বর্ষে পর্দাপণ উপলক্ষে ৩১শে ডিসেম্বর শুক্রবার বিকেল ৩টায় চাঁদপুর রোটারী ক্লাবে  ‘সৃজনের সম্মিলনে করি অমৃত মন্থন’ এই শ্লোগানে অনুষ্ঠিত চাঁদপুর সাহিত্য সম্মেলন-২০২১ এ তাকে এ সম্মাননা দেওয়া হয়। ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সাহিত্য সম্মেলন উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি এমপি।

সাহিত্যের বিভিন্ন শাখায় অবদান রাখায় ‘মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীন সাহিত্য পুরস্কার-২০২১’ প্রদান করা হয়। প্রবন্ধ ও গবেষণায় ড. মাসুদুজ্জামান, কথাসাহিত্যে প্রশান্ত মৃধা, কবিতায় জাহিদ হায়দার ও শেখ ফিরোজ আহমদ, শিশুসাহিত্যে ফারুক হোসেন এবং সংগঠন হিসেবে ইলিয়াস ফারুকী এ পুরস্কার পান।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে সাহিত্যের নানান বিষয় নিয়ে কথা বলেন, চাঁদপুর পৌরসভার মেয়র মো. জিল্লুর রহমান জুয়েল, স্বাধীনতা পুরস্কারপ্রাপ্ত নারী মুক্তিযোদ্ধা ডা. সৈয়দা বদরুন্নাহার চৌধুরী, বরেণ্য প্রাবন্ধিক ও গবেষক ড. সরকার আব্দুল মান্নান, কবি কামরুল হাসান, লেখক মনসুর আজিজ, জামশেদ ওয়াজেদ, সৈয়দ আহমাদ তারিক, দৈনিক বানিজ্য প্রতিদিনের সম্পাদক রাশেদ শাহরিয়ার পলাশ প্রমুখ।

বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা শেষে জাতীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে শুরু হয় সাহিত্য সম্মেলনের কার্যক্রম। চার পর্বের অনুষ্ঠানে স্থানীয় এবং দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আগত বরেণ্য শব্দশিল্পীরা কবিতা, গল্প, শিল্পআড্ডাসহ শিল্প-সাহিত্যের বিভিন্ন বিষয়ের উপর আলোচনা ও কথা বলবেন। এছাড়াও দলীয় আবৃত্তি পরিবেশন করেন মতলব কবিতাঙ্গণ ও বঙ্গবন্ধু আবৃত্তি পরিষদের শিল্পীরা। উদ্বোধন পর্বে সভাপতিত্ব করেন সাহিত্য মঞ্চের সভাপতি মাইনুল ইসলাম মানিক। সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক আশিক বিন রহিম।

উল্লেখ্য, বাংলা শিশুসাহিত্য ও ছড়াসাহিত্যে এক উজ্জ্বল নক্ষত্র ফারুক হোসেন। তার ছড়া যেমন পাঠক মহলে আলোড়ন তুলেছে তেমনিভাবে তার গল্প, প্রবন্ধ ও ভ্রমণ কাহিনী পাঠক হৃদয়কে আকৃষ্ট করেছে। বক্তব্যপ্রধান, ছন্দ, মাত্রা অন্তমিলের নৈপূণ্যতায় তার ছড়া পাঠককে বারবার তার কাছে টানে। তার লেখা গল্প, ভ্রমণ কাহিনীতে গল্পকথার ধরণ, ভঙ্গিমা, শব্দ চয়ন, বাক্য গঠন, সহজবোধ্যতা তাকে একজন ‘গ্রেট স্টোরি টেলার’ হিসেবে প্রমাণ করে। তার লেখায় ওঠে আসে নৈতিকতা, মানবিকতা, সহিষ্ণুতা, সততা, পরোপোকারের শিক্ষা। তার গল্প-ছড়ায় ছোটরা আনন্দের সাথে শিখতে পারে। সুখপাঠ্য বলতে যা বোঝায় তার প্রতিটি লেখাই তেমন।

সত্তর দশকে লেখালেখি শুরু করেন ফারুক হোসেন। তার প্রথম লেখা প্রকাশিত হয় দৈনিক আমোদ পত্রিকায়। শুরু থেকেই তিনি ছড়ায় পাঠকের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তার প্রথম ছড়ার বই ‘লুটোপুটি’ প্রকাশিত হয় ১৯৮৪ সালে। ১৯৮৫ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাহিত্য পুরস্কার লাভ করেন। এ পর্যন্ত প্রকাশিত তার বইয়ের সংখ্যা সত্তরের অধিক।