‘মেরিন ড্রাইভ আল্ট্রা ২০২১’ ম্যারাথনে কেরানীগঞ্জের জহির আরিফ

এনামুল হাসান: স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন উপলক্ষে কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভে দ্বিতীয়বারের মতো অনুষ্ঠিত হয়েছে “মেরিন ড্রাইভ আল্ট্রা-ম্যারাথন” নামের একটি দৌড় প্রতিযোগিতা। ‘দেশ আমার, দায়িত্ব আমার’ এই স্লোগানকে সামনে রেখে গত ৩ ডিসেম্বর ইনানী থেকে টেকনাফ পর্যন্ত তিনটি ক্যাটাগরিতে সর্বোচ্চ ১’শ ৬১ কিলোমিটার দূরত্বের এই আলট্রা ম্যারাথন অনুষ্ঠিত হয়। যেখানে দেশি-বিদেশি প্রায় ৩’শ দৌড়বিদ অংশগ্রহণ করেছেন। যাদের একজন কেরানীগঞ্জের মোঃ জহিরুল ইসলাম আরিফ। একই সঙ্গে অনুষ্ঠিত এ দৌড়ে অংশ নিয়েছেন অর্ধশতাধিক তৃতীয় লিঙ্গ ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষ।
কেরানীগঞ্জের তেঘরিয়া ইউনিয়নের বেয়ারা গ্রামের নুরুল ইসলামের ছেলে মোঃ জহিরুল ইসলাম আরিফ (৩৫) পেশায় একজন প্রকৌশলী। যিনি ২০১৮ সাল থেকে দৌড়ানো শুরু করেন। পরে বেশ কয়েকটি স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের পূর্ণ এবং হাফ ম্যারাথনে অংশ নিয়েছেন। পাশাপাশি তিনি ‘কেরানীগঞ্জ রানার্স’ নামের একটি সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা। গত ৩ ডিসেম্বর মেরিন ড্রাইভ আল্ট্রা ম্যারাথনে পঞ্চাশ কিলোমিটার দৌড়ে তিনি অংশগ্রহণ করেন।
প্রকৌশলী জহির আরিফ বলেন, ‘মেরিন ড্রাইভ আল্ট্রা ২০২১’ ম্যারাথন তিনটি ক্যাটাগরিতে ইনানী থেকে টেকনাফ পর্যন্ত ৫০, ১০০ ও ১৬১ কিলোমিটার দূরত্বের এই ম্যারাথনের সময়সীমা ছিলো ১০, ২৪ ও ৩৬ ঘণ্টা। আমি ৫০ কিলোমিটারের দৌড় বেধে দেয়া ১০ ঘন্টার আগেই ৭ ঘন্টা ২০ মিনিট সময়ের মধ্যে কোনো ইনজুরি ছাড়া শেষ করেছি। এর আগে বহু ম্যারাথনে আমি অংশগ্রহণ করেছি তবে আমি বলবো এটিই ছিলো আমার জীবনের সবচেয়ে কঠিন ম্যারাথন। যেখানে শুধু আমি নই সকল দৌড়বিদকে দাঁত ভাঙ্গা পরীক্ষা দিতে হয়েছে। কারণ কক্সবাজারে রান শুরুর ২৫ মিনিট পর থেকেই সূর্য তাপ দেওয়া শুরু করে। যেখানে খোলা রাস্তার ৪০ কিলোমিটারে কোন গাছ ছিলো না। আমি ২০১৮ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ফুল ম্যারাথন, চাঁদপুর হাফ ম্যারাথন, গাজীপুর হাফ ম্যারাথন, টাটা স্টিল কলকাতা ম্যারাথন, ঢাকা হাফ ম্যারাথন, দ্যা,বিগ বাংলা ম্যারাথন সহ আরো বেশ কিছু ম্যারাথনে অংশগ্রহণ করেছি। সর্বশেষ ৬’শ ৫৪ কিলোমিটার দৌড় আমি একমাসে সম্পন্ন করেছি।
তিনি আরো বলেন, আমি ২০০৯ সাল থেকে বিভিন্ন সামাজিক কাজে নিয়োজিত আছি যেমন রক্তদান কর্মসূচি, সুবিধাবঞ্চিতদের জন্য চিকিৎসা শিবিরের আয়োজন সহ প্রতি বছর দেশের বিভিন্ন প্রান্তের বন্যা দুর্গত মানুষের জন্য সাধ্য অনুযায়ী সহায়তা করে চলেছি। সর্বশেষ আমি যেটা বিশ্বাস করি, দৌড়ানো এমন একটি কাজ যা মানুষকে ইতিবাচক শক্তি দেয়।
উল্লেখ্য, ২০২০ সালের ১৮ জানুয়ারি কক্সবাজারে প্রথম এই মেরিন ড্রাইভ আল্ট্রা ম্যারাথন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। কক্সবাজারের জীববৈচিত্র্যের প্রতি ইতিবাচক মানসিকতার প্রসার ঘটাতে, এই ম্যারাথন বিশেষ ভূমিকা পালন করবে বলে বিশ্বাস