মুক্তিযুদ্ধের শহীদের সংখ্যা নিয়ে কটুক্তি করেও বহাল তবিয়তে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড সচিব

আল আমিন হোসেন, রাজশাহী:  গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র জাহাঙ্গীর আলম বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধের বীর  শহীদদের নিয়ে মন্তব্যের অপরাধে দল থেকে বহিষ্কার হয়েছেন, ঠিক একই অপরাধ করেও  বহাল তবিয়তে রয়েছে রাজশাহী শিক্ষাবোর্ড সচিব ড. মোয়াজ্জেম হোসেন।  গত ২০২০ সালে মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে রাজশাহী শিক্ষাবোর্ড আয়োজিত একট অনুষ্ঠানে নিজেকে ইতিহাসের শিক্ষক উল্লেখ করে মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদের সংখ্যা নিয়ে কটুক্তি করেন ড. মোয়াজ্জেম হোসেন। তিনি বলেন, আমি গবেষণা করে দেখেছি মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সংখ্যায় একটি শূণ্য বাড়ানো হয়েছে। অর্থাৎ  শহীদের সংখ্যা হবে তিন লাখ উক্ত সভায় উপস্থিত ছিলেন শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোহ. মকবুল  হোসেন সহ সাংবাদিক ও সুধীজন। ড. মোয়াজ্জেম হোসেনর মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সংখ্যা নিয়ে এমন বিভ্রান্তিকর বক্তব্য জাতীয় দৈনিকে ফলাও করে সংবাদ প্রকাশ করা হয়। শুধু তাই নয় রাজশাহীর বিভিন্ন মহল থেকে এর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির  দাবী উঠে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে বোর্ড সচিবের মুক্তিযুদ্ধের সংখ্যা  নিয়ে এমন কটুক্তিমূলক তথ্যটি লিখিতভাবে তৎকালীন জেলা প্রশাসক হামিদুল  হককে জানান রাজশাহী  শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোহা. মকবুল হোসেন বিভিন্ন মহলের দাবীর প্রেক্ষাপটে শিক্ষামন্ত্রণালয় বোর্ড সচিবের বিরুদ্ধে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন। সেই কমিটি পুংখানুপুংখভাবে তদন্ত করে বোর্ড সচিবের বক্তব্যটির সত্যতা পান। এরপরেও তদন্তের এক বছর পার হলেও রাজশাহী শিক্ষাবোর্ড সচিব বহাল তবিয়তে (ডেপুটেশনে) রয়েছেন। আরও আশ্চর্যের বিষ  রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের অডিনেন্স অনুযায়ী বোর্ড চেয়ারম্যান ছাড়া কো পদেই ডেপুটেশনের দ্বায়িত্ব দেওয়ার কথা নয়।
যে অপরাধে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের মেয়রকে দল থেকে বহিষ্কার করা  হয়েছে। ঠিক একই অপরাধ করে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের সচিব ড. মোয়াজ্জেম হোসেন কিভাবে বহাল রয়েছেন এই প্রশ্নের উত্তর এখন ধুয়াশা?

এ বিষয়ে কথা বলতে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে সচিব ড. মোয়াজ্জেম হোসেনকে ফোন দিলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমারা কিছুই বলার নাই বলে কথা শেষ না হতেই ফোনটি কেটে দেন।

শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মোহা. মোকবুল হোসেন বলেন, এখানে
আমার করণীয় কিছুই নাই। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি দেখবে।