মির্জাপুরের এম.পি একাব্বর হোসেনের ইন্তেকাল

মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি: টাঙ্গাইল-০৭ আসনের সংসদ সদস্য এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. একাব্বর হোসেন ইন্তেকাল করেছেন। (ইন্নালিল্লহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রজিউন)। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় সে মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স
হয়েছিলো ৬৫ বছর। মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন, তার পুত্রকেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক ব্যারিস্টার তাহরীম হোসেন সীমান্ত। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, এক ছেলে, দুই মেয়ে ও আত্মীয়- স্বজনসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। পরিবার সুত্রে জানা যায়, কিডনি জনিত অসুস্থ্যতার কারণে কিডনি ডায়ালাইসিস করতে গত মাসে রাজধানীর আনোয়ার খান মডার্ণ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় এমপি একাব্বর হোসেনকে। ডায়ালাইসি করার পরদিন হঠাৎ অসুস্থ্য হয়ে পড়লে তাকে ওই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বেশকিছু পরীক্ষা- নিরীক্ষা করার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, তার ব্রেইনস্ট্রোক হয়েছে। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বৃহস্পতিবারসন্ধ্যায় সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) ভর্তি করা হয়। মঙ্গলবার দুপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

এমপি একাব্বর হোসেনের মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী, নানা পেশাজীবী, রাজনৈতিক সংগঠনসহ সব শ্রেণিপেশার মানুষ তার শোক সন্তপ্তপরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেছেন। একাব্বর হোসেন টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার পৌর সদরের পোষ্টকামুরী গ্রামের মৃত ওয়াজ উদ্দিনের ছেলে। সে টাঙ্গাইল-০৭ মির্জাপুর আসন থেকে ২০০১, ২০০৮ (নবম), ২০১৪ (দশম) ও ২০১৮ (একাদশ) সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে এমপি নির্বাচিত হন। তিনি ১৯৭৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) থেকে বিএসএস (সম্মান) ও ১৯৭৮ সালে এমএসএস ডিগ্রী অর্জন করেন। এছাড়াও তিনি ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতি শুরু করেন। ১৯৭৩ সালে সরকারি তিতুমীর কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক, ১৯৭৬ সালে ঢাবি’র মহসিন হল শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক, ৭৮ সালে একই শাখার সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯০ সালে তিনি মির্জাপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। এরপর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, জাতীয় সংসদে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমটির সভাপতি এবং ভূমি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি মির্জাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্বও পালন করছিলেন।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জাতীয় সংসদ ভবনে তার প্রথম নামাজের জানাযা অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং আজ বুধবার বাদ জোহর মির্জাপুর সরকারি এস.কে.পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের (শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম) মাঠে অনুষ্ঠিত হবে।