মাইলেজ ইস্যুতে সারা দেশে ট্রেন চালকদের মধ্যে চরম ক্ষোভ, ট্টেন চলাচলে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা

জাহাঙ্গীর আলম চট্টগ্রাম ব্যুরো: বাংলাদেশ রেলওয়ের লোকমাস্টার (ট্রেন চালক ) ট্রেন অপারেশন এর সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত । রাত দিন ঝড় বৃষ্টি মহামারী উপেক্ষা করে রেলওয়ে কে গতিশীল রাখতে জীবনের ঝুকি নিয়ে দেশের এ প্রান্ত থেকে ওপর প্রান্তে ট্রেন চালিয়ে যাত্রী সেবা সহ দেশের অর্থনীতিতে সম্মুখ সারীর যোদ্ধা হিসাবে কাজ করে আসছে।

বাংলাদেশ রেলওয়ের Establishment code volume। এর Chapter V এর প্যারা নং -৫০৯ এবং Locomotive এবং Running shed mannual এর Chapter -Xiii এর ১০৩৯ মোতাবেক ১০০ মাইল বা প্রতি ৮ ঘন্টা ট্রেন পরিচালনার জন্য রানিং স্টাফগণ ১ দিনের মূল বেতনের সমপরিমান অর্থ রানিং ভাতা / মাইলেজ হিসাবে প্রাপ্য হবেন।

রেলওয়ে আইন-১৮৯০ এর Chapter V।A এর অনু : 71C অনুযায়ী একজন রেলওয়ে কর্মচারী সপ্তাহে সর্বোচ্চ ৮৪ ঘন্টার বেশি ডিউটি করবে না। Chapter V।A (71D) অনুচ্ছেদ এ সাপ্তাহিক রবিবার বিশ্রামের দিন ও উল্লেখ আছে। অর্থাৎ রবিবার বা সাপ্তাহিক যেকোনো বন্ধের দিনে ডিউটি করলে Holiday মাইলেজ প্রাপ্তির বিধান আছে।যা বর্তমানে বিলুপ্ত। হোল্টেজ মাইলেজ ও বিলুপ্ত।

এ হিসাবে একজন রানিং স্টাফ দৈনিক ১২ ঘন্টা করে মাসে সর্বোচ্চ ৩৬০ ঘন্টা (৪৫ দিন মাইলেজ ) কর্মঘন্টার বিধান আছে। কিন্তু বাংলাদেশ রেলওয়ে তে ট্রেন চালক স্বল্পতাঁর কারণে প্রতি মাসে লোকোমাস্টার দের ৪৮০ ঘন্টা (৬০ দিন মাইলেজ ) থেকে ৫৬০ ঘন্টা (৭০ দিন মাইলেজ ) বা তাঁর অধিক হয়ে থাকে।

বর্তমানে অর্থ মন্ত্রণালয় ঘোষিত IBAS++ সিস্টেমে রানিং কর্মচারীদের মাইলেজ তথ্য ইনপুটের ক্ষেত্রে Error জটিলতা দেখা দিয়েছে।

মাইলেজ ইস্যুতে সারা দেশে ট্রেন চালকদের (লোকোমাস্টার) মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। প্রায় প্রতিদিনই কোনো না কোনো সংগঠনের ব্যানারে আন্দোলনে করছেন তারা। এতে ট্রেন চলাচলে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা দেখছেন রেলওয়ে সংশ্লিষ্টরা।

শুধু সশরীরে আন্দোলনে নয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও চলছে সমালোচনার ঝড়। প্রতিনিয়তই রেলওয়ে সম্পর্কিত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের বিভিন্ন গ্রুপে আবেগঘন স্ট্যাটাস দিচ্ছেন তারা। সেখানে আবার রেলওয়ে লোকোমাস্টাররা কমেন্ট করছেন তাদের দাবি নিয়ে।

গত ৩০ নভেম্বর মঙ্গলবার গভীর রাতে ঢাকা থেকে ট্রেন নিয়ে এসে চট্টগ্রাম স্টেশনে বসে নিজের ফেইসবুক ওয়ালে আবেগঘন স্ট্যাটাস দিয়েছেন আব্দুল আওয়াল রানা নামের এক লোকোস্টার। যা মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়। সেখানে তার সহকর্মীরাও কমেন্ট বক্সে তাদের আবেগের কথা জানান।

গত ২৮-৩০ নভেম্বর পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন স্থানে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষকে তাদের বেতন দেওয়ার জন্য লিখিত আবেদন করেছেন। গত ৩০ নভেম্বর লালমনিরহাট, গাইবান্ধা ও পাবনা জেলার ঈশ্বরদীতে বাংলাদেশ রেলওয়ে রানিং স্টাফ ও শ্রমিক কর্মচারী সমিতির ব্যানারে বিভাগীয় যন্ত্র প্রকৌশলীর কাছে নিয়মিত বেতন বিল দেওয়ার জন্য আবেদন করেছেন। বিক্ষোভ করেছেন রেলওয়ের বিভিন্ন দফতরে সামনে।

জানা গেছে, রেলওয়ের সংস্থাপন কোডের বিধানের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ রেলওয়ের ট্রাফিক রানিং স্টাফ এবং লোকোমোটিভ রানিং স্টাফদের ১৯৯৭ সালের ১ জুলাই থেকে মূল বেতনের ভিত্তিতে রানিং অ্যালাউন্স দেওয়ার প্রস্তাব হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ১৯৯৮ সালের ২৮ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রানিং স্টাফদের বিশেষ এ ভাতা দেওয়ার প্রস্তাব অনুমোদন করেন। কিন্তু সম্প্রতি ইএফটির মাধ্যমে বেতন-ভাতা প্রদান প্রক্রিয়ার অন্তর্ভুক্তিতে বিশেষ ভাতা সীমিত হয়ে যাওয়ার ঘোষণা মানছেন না রানিং স্টাফরা।

রেলওয়ের রানিং কর্মচারীদের মধ্যে রয়েছেন ট্রেনচালক (লোকোমাষ্টার) গার্ড (ট্রেন পরিচালক), টিটিই (ট্রাভেলিং টিকিট এক্সামিনার)। সম্প্রতি মহামান্য আদালতের রায়ে মাইলেজ অধিকারপ্রাপ্ত হয়েছেন ক্যারেজ অ্যাটেন্ডেন্টরাও।

বাংলাদেশ রেলওয়ে রানিং স্টাফ ও শ্রমিক কর্মচারী সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. মজিবুর রহমান মজিব আমার সময়কে বলেন, রেলওয়ে প্রতিষ্ঠার পর থেকে রেলওয়ে রানিং স্টাফরা মাইলেজ পাচ্ছেন। রেলওয়ে অ্যাক্ট অনুযায়ী পরিচালিত হচ্ছেন তারা। হঠাৎ করে অর্থ মন্ত্রণালয় একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে, যেখানে আমাদের বেতন-ভাতা সীমাবদ্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এই নিয়মে নির্ধারিত সময়ের পর কর্মীরা কাজ বন্ধ করে দেবেন। এতে বিঘ্ন হতে পারে রেলের স্বাভাবিক চলাচল।

বাংলাদেশ রেলওয়ে রানিং স্টাফ ও শ্রমিক কর্মচারীরা বলেন, আমরা কষ্ট করি সে কষ্টের মূল্যায়ন আমাদের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দিয়ে গেছেন। তার সুযোগ্য উত্তরসূরি দেশরত্ন শেখ হাসিনা দিচ্ছেন।

মাইলেজ হলো ‘পার্ট অব পে’। কাজ করলেই পাই। না করলে পাই না। এটি ব্রিটিশ আমল থেকে চালু। একজন রানিং কর্মচারী রেলওয়ে স্টাবলিশমেন্ট কোড ভলিয়ম-১ এর চ্যাপ্টার-৫ এবং লোকোমোটিভ অ্যান্ড রানিং শেড ম্যানুয়াল জিআই চ্যাপ্টার-১২ অনুযায়ী ১০০ মাইল বা প্রতি ৮ ঘণ্টা ট্রেন পরিচালনার জন্য এক দিনের মূল বেতনের সমপরিমাণ অর্থ রানিং ভাতা বা মাইলেজ প্রাপ্য হবেন। সাপ্তাহিক ও সরকারি যে কোনো বন্ধের দিনে ডিউটি করলে ‘হলিডে মাইলেজ’ প্রাপ্তির বিধানও রয়েছে। কিন্তু হঠাৎ অর্থমন্ত্রণালয়ের এমন সিদ্ধান্তে আমরা বিব্রত।