মলম পার্টির খপ্পরে পড়ে সর্বস্বান্ত কাতার প্রবাসী যুবক

জাহাঙ্গীর আলম চট্টগ্রাম ব্যুরো: বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে অনন্য ভূমিকা রাখায় বীর শহীদরা মুক্তিযোদ্ধা খেতাব পেয়েছেন। তেমনি দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে গিয়ে দেশের বাইরে  অক্লান্ত পরিশ্রম করে দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখছে প্রবাসের বীর রেমিট্যান্স যোদ্ধারা। সেই প্রবাসীরা যখন স্বল্প সময়ে দেশে ছুটিতে এসে নিরাপত্তাহীনতায় ভোগে সর্বস্বান্ত হয়ে যায় এর দায়ভার কে নিবে?

গত ২৪ শে জুন শুক্রবার চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার কাতার প্রবাসী মোহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম, পিতা: মোহাম্মদ ইসলাম ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে সকাল ৮টায় ঢাকা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন।

বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন পর্ব সমাপ্ত করে বাহিরে আসার পর উনার ভাতিজা তানভীর (সেনা সদস্য) সকাল ৯:৩০ মিনিটে চাচা রাশেদকে রিসিভ করে একটি সিএনজি যোগে ঢাকা আব্দুল্লাহপুর বিআরটিসি বাস কাউন্টারে নিয়ে যান এবং ঢাকা টু চট্টগ্রাম এর বিআরটিসি এসি বাসের টিকেট করে দিয়ে সকাল ১১টার বাসে তুলে দিয়ে বিদায় নেন।

বাসটি ছাড়ার মুহূর্তে রাশেদের পাশের সিটের অপর যাত্রী চট্টগ্রাম যাবে বলে পাশে বসেন এবং তিনি নিজেকে প্রবাসী পরিচয় দেন।

পথিমধ্যে বাস কুমিল্লা খন্দকার হোটেলে যাত্রা বিরতি করলে ওই সময় রাশেদ সহ তার পাশের যাত্রী দুপুরের খাওয়া শেষে পুনরায় বাসে চড়ে বসেন। এরইমধ্যে মলম পার্টির সদস্য উক্ত প্রতারক পাশের সিটের যাত্রী(০১৭১৯৮১৬১৩৫) রাশেদকে বেহুশ করে তার কাতারের ভিসা লাগানো পাসপোর্ট, ব্যাগের টোকেন ও বিমান টিকেট নিয়ে কুমিল্লা পদুয়া বিশ্ব বাজার এলাকায় নেমে পড়েন।এই সময় বাসের সুপারভাইজার আলম হঠাৎ কুমিল্লা নেমে যাওয়ার কারণ জানতে চাইলে প্রতারক ব্যক্তি নাকি জানান তার শাশুড়ির ব্রেইন স্ট্রোক করেছে তাকে সেখানে যেতে হবে। ঐ সময় মলম পার্টি সদস্য যাত্রী বেশী ঐ প্রতারক রাশেদের পাসপোর্ট (BX0100017) বিমান  টিকেট,কাতারের আকামা, ইন্সুরেন্স কার্ড ও ব্যাগেজ টোকেন বদল করে সব মালামাল নিয়ে শটকে পড়ে। বাসটি যখন সন্ধ্যা ৬:৩০ মিনিটে চট্টগ্রাম বিআরটিসি কদমতলী স্টেশনে পৌঁছে তখন সকল যাত্রী নেমে পড়লেও বাসের সুপারভাইজার আলম বাস চেক করতে উঠে দেখে এক যাত্রী  সিটে অচেতন অবস্থায় পরে আছে। সুপারভাইজার আলম জানান তার পরিবার সাথে যোগাযোগ করার জন্য কোন ধরনের মোবাইল নাম্বার বা ঠিকানা খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিলো না। আধা ঘন্টা পরে রাশেদের ভাই মোঃ শাহেদ কাউন্টারে খোঁজ করতে এসে দেখেন তার ভাই অচেতন অবস্থায় পড়ে আছেন, এ বিষয়ে ভিকটিমের ভাই শাহেদ জানান আমার ভাই রাশেদ ঢাকা এয়ারপোর্ট থেকে বাহির হয়ে যখন ঢাকা আব্দুল্লাহপুর বিআরটিসি বাস কাউন্টারে এসে পৌঁছায় তার কিছুক্ষণ পর আমাকে যাত্রী বেশী মলম পার্টির সদস্য প্রতারকের উক্ত নাম্বার থেকে কল দিয়ে জানান বাস ছেড়েছে সন্ধ্যার মধ্যে চট্টগ্রাম পৌঁছে যাব। পরবর্তীতে উক্ত নাম্বারে বারবার কল দেওয়ার সত্বেও নাম্বারটি বন্ধ পায়। কোন উপায়ান্তর না পেয়ে ভাইয়ের খোঁজ নেওয়ার জন্য আমি সোজা চট্টগ্রাম কদমতলী বিআরটিসি বাস কাউন্টারে এসে আমার ভাইয়ের খোঁজ নিতে গেলে বাসে সুপারভাইজার আমাকে বিস্তারিত জানান পরবর্তীতে আমার ভাইকে আমি উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করি বর্তমানে সে অসুস্থ হয়ে পাগলের মত প্রলাপ বকছে। শাহেদ আরো জানান তার ভাইয়ের হাত ব্যাগে ৩ ভরি ওজনের স্বর্ন, পকেটে থাকা ২ টি এনড্রোয়েড মোবাইল সেট,ও ৪০ কেজি ওজনের ব্যাগেজে থাকা ট্যাং,নিডো দুধ সহ উপহারের সকল সামগ্রী নিয়ে গিয়ে আমার ভাইকে সর্বশান্ত করে দিয়েছে। একজন প্রবাসী যদি নিজ দেশে এসে নিজের নিরাপত্তা না পায় তাহলে প্রবাসীরা কেমনে প্রবাস জীবন করবে। আমার ভাই এখনো অসুস্থ বিধায় থানায় অভিযোগ করতে পারিনি।

এই বিষয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করছি।