মণিরামপুরে টানা বর্ষণে অর্ধেক সবজির ক্ষেত পানির নীচে বোরো বীজতলা তলিয়ে গেলেও পানিতে ভাসছে ধান

হোসাইন নজরুল হক, মণিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি: ঘূর্ণিঝড় জাওয়াদের প্রভাবে টানা ৩ দিনের বর্ষণে মণিরামপুরে চাষকৃত প্রায় অর্ধেক সবজি ক্ষেত পানিতে তলিয়ে গেছে। সিংহভাগ বোরো বীজতলা এখন পানির নীচে রয়েছে। একই সাথেক্ষেতে কেটে রাখা রোপা আমন পানিতে ভাসছে। পানিতে তলিয়ে গেছে প্রায় সাড়ে ৭শ রবি শস্য। ক্ষতির পরিমান টাকায় নিরুপন করার কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা কৃষি অফিস। সংশ্লি¬ষ্ট কৃষি অফিস সুত্রে জানা গেছে, চলতি আমন মৌসুমে অধিকাংশ ধান কাটা হলেও এখনো অনেক ধান কাটা থেকে গেছে। যা আকস্মিক বর্ষায় ঘরে তুলতে পারেনি কৃষক। চলতি আমন মৌসুমে উপজেলার ২২ হাজার ৬৫০ হেক্টর জমিতে এবার রোপা আমনের আবাদ হয়। এরমধ্যে উপজেলা কৃষি অফিসের হিসেব মতে উপজেলার বিভিন্ন মাঠে ২২৭ হেক্টর জমিতে রোপা আমন থেকে গেছে। যা টানা ৩ দিনের বর্ষণে ক্ষেত তলিয়ে গিয়ে কাটা ধান পানিতে ভাসছে।

উপজেলার জলকর রোহিতা গ্রামের ফটিক দাস, মহিতোষ দাস, অসীম, দাস, ছলেমান বিশ্বাস, আমানত মোড়লসহ একাধিক কৃষক জানান, তাদের কেটে রাখা ধান এখন পানিতে ভাসছে। বিচালি কোনভাবেই করা সম্ভব হবে না। তারা এখন ধান পাওয়া নিয়ে চিন্তিত আছেন।

সূত্র জানায়, উপজেলায় চলতি শীত মৌসুমে এবার ১৫৭৫ হেক্টর জমিতে ফুল কপি, বাঁধাকপি, মূলা, গাজর, পালংশাক, লাল শাকসহ বিভন্ন ধরনের সবজি চাষ হয়। এরমধ্যে ৮০০ হেক্টর জমির সবজি পানিতে তলিয়ে গেছে।

পলাশী গ্রামের মিজানুর রহমান বলেন, তিনি এবার ৩ বিঘা জমিতে গাজরের আবাদ করেছিলেন।কিন্তু সব এখন পানিতে তলিয়ে গেছে। একই সাথে পেয়াজ, মুসরি, মটরসুটি পানিতে তলিয়ে গেছে। রাজ্জাক হোসেন নামের অপর এক চাষী বলেন, তার ২ বিঘা জমির গাজর পনিতে তলিয়ে যাওয়ায় তিনি ক্ষেত থেকে পানি সেচ দিয়ে বের করে দিচ্ছেন। ৩৫ হেক্টর বোরো বীজতলার ২৫ হেক্টর এখন পানির তলে। উপজেলায় ৮০ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ চাষ হলেও ৩০ হেক্টর এখন পানির নীচে। ৮২০ হেক্টর জমিতে রোপিত আলুর ২০৩ হেক্টর পানিতে তলিয়ে গেছে। ১৪০১ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ হলেও ৫০০ হেক্টর পানির নীচে। ৯৯ হেক্টর জমিতে গম চাষ হলেও ২০ হেক্টর পানিতে তলিয়ে গেছে। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা আবুল হাসান বলেন, ২/১ দিন পরে আর্থিকভাবে ক্ষতির পরিমান নিরুপন করা হবে।