ভূয়া ল্যান্ড ম্যাজিস্ট্রেট প্রতারক চক্রের সক্রিয় সদস্য গ্রেফতার

মাসুদ রানা: সিআইডি ঢাকা মেট্রো দক্ষিণ একটি সংবাদ পায় একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্র “ল্যান্ডম্যাজিস্ট্রেট ও বাংলাদেশ মেরিন একাডেমিতে ট্রেনিং করিয়ে অস্ট্রেলিয়া পোর্টে চাকুরীতে নিয়োগের নামেঅর্থ আদায় করে আসছে। উক্ত সংবাদের ভিত্তিতে সিআইডি ঢাকা মেট্রো-দক্ষিণের একটি টিম গত ইং১৮ জানুয়ারী ২২ ইং তাং ভাটারা থানাধীন বাড়ী নং-৪৩৫ ২য় তলা, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকাডিএমপি, ঢাকা এর বাসায় অভিযান পরিচালনা করে প্রতারক চক্রের সক্রিয় সদস্য ০১ নম্বর আসামীমির্জা মুকুল’বি-বাড়িয়াকে আটক করে। এই সময় আসামী নিকট হতে, বাংলাদেশ মেরিন একাডেমিতেট্রেনিং করিয়ে অস্ট্রেলিয়া পোর্টে চাকুরীতে নিয়োগের জন্য ১. ২৬(ছাব্বিশ)টি পাসপোর্ট, ২.০৩ (তিন)টিঅটো সিল,বাংলাদেশ মেরিন একাডেমি ট্রেনিং পাশ এর কার্ড ৩৫(পয়ত্রিশ)টি,বাংলাদেশ মেরিনএকাডেমি ট্রেনিং এর ভুয়া যোগদান পত্রের কপি ৭(সাত)টি,প্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার ইমিগ্রেশন ওপাসপোর্ট অধিদপ্তর লেখা ও ছবি সম্বলিত পাসপোর্ট এর আবেদন ফরম ২৫ (পঁচিশ)টি,মেরিন একাডেমিচট্টগ্রামের বিভিন্ন স্থির চিত্র ১৫ (পনের)টি,প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ০১(এক)টি উদ্ধারকরা হয়। আসামীকে জিজ্ঞাসাবাদে ও তদন্তকালে জানা যায় যে, গ্রেফতারকৃত আসামী ও পলাতকঅন্যান্য আসামীগন একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্র।তারা দীর্ঘদিন যাবৎ বাংলাদেশ মেরিন একাডেমিতেট্রেনিং করিয়ে অস্ট্রেলিয়া পোর্টে চাকুরীতে নিয়োগ পত্র সৃজন করতঃ উহা আসল হিসাবে সরবরাহ করে, প্রতারণার মাধ্যমে গ্রামঞ্চলের সহজ সরল লোকজনদের প্রতারিত করে অনুমান ৮২,০০,০০০/-(বিরাশিলক্ষ) টাকা আত্মসাৎ করে।

উক্ত আসামী বসুন্ধরা অভিজাত এলাকায় অবস্থান করে ভুক্তভোগী আবদুল কাদেরের ভাটারা থানাধীননগনা আজিজ সড়কে “বড় মা” জেনারেল স্টোরে প্রায়ই কেনা কাটা করার সুবাধে বাদী আবদুল কাদেরেরসাথে এক পর্যায়ে খনিষ্ট হয়, এই সময় আসামী মির্জা মুকুল (৪৫) প্রকাশ কামাল নিজেকে ল্যান্ডম্যাজিস্ট্রেট হিসাবে পরিচয় দেয় এবং বাদীকে জানায় যে, তার সাথে সরকারের উচ্চ পর্যয়ে জানা শুনাআছে।তার নিকট সরকারীভাবে

অস্ট্রেলিয়ায় লোক পাঠানোর নির্ভরযোগ্য মাধ্যম আছে এবং এই বিষয়ে বাদীর পরিচিত বন্ধু ওস্বজনদেরকে সরকারী খরচে পাঠানোর প্রস্তাব করে। আসামী যাদেরকে পাঠানো হবে তারা মেরিন টু মেরিনঅর্থাৎ অস্ট্রেলিয়ার শিফিং পোর্টে কাজ করবে।অস্ট্রেলিয়া পৌছা মোট ৮০০০০০/- (আট লক্ষ) টাকাখরচ হবে। যাদেরকে পাঠবে তাদের প্রথমে চট্টগ্রাম মেরিন (এক) মাসের ট্রেনিং করতে হবে এবং ট্রেনিং, ব্যাংক একাউন্ট ও অন্যান্য খরচ বাবদ জন প্রতি ১ ২০ টাকা করে প্রথমে দিতে হবে।বাদী আসামীরপ্রতারনার বিষয়টি বুঝতে পেরে তার পরিচিত,জুয়েল,বারিকদারদের বললে তারাও তাদের আত্মীয় স্বজনপরিচিতদের আসামীর প্রস্তাব মতে পাঠাতে রাজি হয়।বাদী আসামীর প্রস্তাব মতে তাদেরকে নিয়ে গত ১৮জুলাই ২০২১ খ্রিঃ তারিখ অনুমান ৫ ঘটিকার সময় ভাটারা থানাধীন মেহেদী মার্টের সামনে গেলেআসামীর সাথে দেখা হয়।আসামীর অপরাধ প্রতারনার একটি নব কৌশল, আসামী প্রতারনার উদ্দেশ্যেকখন প্রবাসী কল্যান মন্ত্রনালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, কখন ল্যান্ড মাজিট্রেট, অবসর মেজর পরিচয় সূত্রব্যবহারের মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়া, কানাডা,গমন ইচ্ছুক যুবকদের এইভাবে প্রলুব্ধ করে যে, মেরিন ট্রেনিংয়েরমাধ্যমে খুব সহজে বৈধভাবে উল্লেখিত দেশ সমূহে যাওয়া যায়, আসামীর এই সকল উদ্দিপ্ত মূলক কথায়সহজেই স্বপ্নবাজ বেকার যুবকরা সুন্দর ভবিষ্যতে আশায় প্রতারনার ফাঁদে পড়ে প্রতারিত হয়।

উল্লোখিত আসামীসহ তাহার অজ্ঞাতনামা সহযোগীদের উত্তরূপ ঘটনার বিষয়ে ডিএমপি ভাটারা থানায়সূত্রে উল্লেখিত মামলা রুজু হয়। প্রতারক চক্রের অন্যান্য সদস্য গ্রেফতার ও প্রতারনার টাকা উদ্ধারেরচেষ্টায় মামলা তদন্ত অব্যাহত আছে।