ভারুয়াখালীর সাবেক চেয়ারম্যান আবু শামা সওদাগরের জানাজায় মানুষের ঢল

মোঃ রেজাউল করিম, ঈদগাঁও, কক্সবাজার: কক্সবাজার সদর উপজেলার ভারুয়াখালী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান, সমাজ সেবক আলহাজ্ব আবু শামা সওদাগরের জানাজায় হাজারো শোকার্ত মানুষের ঢল নামে। ৩১ জানুয়ারি সোমবার বিকেল ৪:৪৫ মিনিটের সময় ভারুয়াখালী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এ জানাজা অনুষ্টিত হয়। এতে ইমামতি করেন স্থানীয় মাওলানা শাহজাহান। সাবেক এ জনপ্রতিনিধির মৃত্যূতে সর্বত্র শোকের ছায়া নেমে আসে। ৩০ জানুয়ারি রবিবার ঢাকার আল মানার হাসপাতালে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে তিনি ইন্তেকাল করেন (ইন্নালিল্লাহি– রাজিউন)। জানাজা পূর্ব সমাবেশে মরহুমের বর্ণাঢ্য কর্মময় জীবনের স্মৃতিচারণ করেন কক্সবাজার সদর-রামু আসনের এমপি সাইমুম সরওয়ার কমল, কক্সবাজার জেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান-২ সোহেল জাহান চৌধুরী, কক্সবাজার সদর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান রশিদ মিয়া, চৌফলদন্ডী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান, ভারুয়াখালী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আমিনুল হক ও শফিকুর রহমান সিকদার, খুরুশকুল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহজাহান সিদ্দিকী, মরহুমের জামাতা, অবসরপ্রাপ্ত প্রফেসর মোস্তাক আহমদ, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ঈদগাঁও উপজেলার শাখার আহবায়ক আবু তালেব,  কক্সবাজার সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক মাহমুদুল করিম মাদু, জেলা বারের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট ছলিম উল্লাহ সেলিম, এডভোকেট নেজামুল হক, অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম,

জেলা যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক শহীদুল হক সোহেল, আইডিয়াল গ্রুপের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান মিজান, ভারুয়াখালী ৬ নং ওয়ার্ডের মেম্বার ফিরোজ আহমদ প্রমুখ।

পরে তাকে ভারুয়াখালী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় জামে মসজিদ সংলগ্ন পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। স্থানীয় চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিনের সঞ্চালনায় স্মৃতিচারণে মরহুম আবু শামা চেয়ারম্যানের নানা কৃতিত্বের কথা উঠে আসে। স্মৃতিচারণকারীরা বলেন, মরহুম চেয়ারম্যান ছিলেন অবিভক্ত চৌফলদন্ডী- ভারুয়াখালী ইউনিয়নের সাবেক মেম্বার। ভারুয়াখালী ইউনিয়নের সর্বপ্রথম ও একাধিকবার নির্বাচিত চেয়ারম্যান। শিক্ষাক্ষেত্রে  ভারুয়াখালীতে তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। তিনি বেশ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও মসজিদ প্রতিষ্ঠা করেন। ভারুয়াখালী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়, নিজ নামে প্রতিষ্ঠিত আবু শামা সওদাগর প্রাথমিক বিদ্যালয় ও পিতার নামে আলী হোসেন সিকদার প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সাথে তিনি জড়িত ছিলেন। মরহুম ভারুয়াখালীর অজ পাড়া-গাঁয়ে জঙ্গল কেটে অনেক ছোট-বড় রাস্তা সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখেন। আলোচকরা তাকে আধুনিক ভারুয়াখালীর স্বপ্নদ্রষ্টা উল্লেখ করে বলেন, তিনিই ভারুয়াখালীতে উন্নয়নের ভিত গড়েছিলেন। তিনি এলাকার মাটি ও মানুষের মাঝে চিরদিন জাগরুক থাকবেন।

কৃতজ্ঞতা প্রকাশঃ

এদিকে জানাজায় অংশগ্রহণ করে মরহুমের রুহের মাগফেরাত কামনা ও শোকাহত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করায়

বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনিক কর্মকর্তা, শিক্ষক, সাংবাদিক, ব্যবসায়ীসহ সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানো হয়েছে। মরহুমের পরিবারের পক্ষ থেকে এ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন মেয়ে শিক্ষক মিনুন নাহার বেগম, ছেলে মাস্টার নুরুল কবির, মাস্টার নুরুল আফসার, নুরুল হক, সুমন ও রিপন।