ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মহাসড়কে বাসের সাথে পাল্লা দিয়ে চলে সিএনজি,অধিকাংশের নেই রেজিষ্ট্রেশন 

মোঃ আল মামুন, জেলা প্রতিনিধি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া: উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হাইওয়েতে চলছে ত্রি-হুইলার সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও ব্যাটারি চালিত অটো রিকশা। এসব সিএনজি মহাসড়কে পাল্লা দিয়ে প্রতিযোগিতা করে বাস-ট্রাকের সাথে৷ ফলে একের পর এক দূর্ঘটনায় প্রাণহানীর ঘটনা ঘটছে। সর্বশেষ গত শুক্রবার (১৭ ডিসেম্বর) ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের সরাইল উপজেলার বৈশামুড়ায় সিএনজি চালিত অটো রিকশার তিন যাত্রী ট্রাক চাপায় নিহত হয়। এসব ঘটনায় তৎপরতা নেই হাইওয়ে পুলিশের। এনিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বাস মিনিবাস মালিক সমিতির নেতাকর্মীরা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার আশুগঞ্জ থেকে বিজয়নগর উপজেলার সাতবর্গ পর্যন্ত ৩৩ কিলোমিটার এবং কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়ক খাঁটিহাতা বিশ্বরোড মোড় থেকে কসবা উপজেলার কুটি চৌমুহনী কালামোড়া সেতু পর্যন্ত ৪৩ কিলোমিটার এলাকা খাঁটিহাতা হাইওয়ে থানার অধীনে। এই মহাসড়কে উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে থ্রি-হুইলার সিএনজি চালিত ও ব্যাটারি চালিত অটো রিকশা। এরমধ্যে অধিকাংশই রেজিষ্ট্রেশন বিহীন। এরফলে প্রতিনিয়ত ঘটছে একের পর এক সড়ক দূর্ঘটনা। সর্বশেষ গত ১৭ ডিসেম্বর নাম্বার বিহীন একটি সিএনজি চালিত অটো রিকশাকে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের বৈশামুড়ায় ট্রাক চাপা দিকে ঘটনাস্থলে তিনজন ইটভাটার শ্রমিক নিহত হন। এই ঘটনার আগে গত ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসের দিন ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের আশুগঞ্জের বাহাদুরপুরে এক মুক্তিযোদ্ধার ভাই মহাসড়ক দিয়ে সিএনজিতে যাতায়াত কালে ট্রাক চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই মারা যান। একই দিন কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের রামরাইলে সিএনজি-চালিত অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে একজন নিহত হন।

এরমধ্যে সরাইল-নাসিরনগর উপজেলার যাত্রীদের সুবিধার্থে মহাসড়কের সরাইল কুট্রাপাড়া মোড় থেকে খাঁটিহাতা মোড় পর্যন্ত থ্রি-হুইলার চলার জন্য বিশেষ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। আর সিএনজি ও ট্রাক্টর থেকে মাসিক মাসোহারা ওপেন সিক্রেট।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সিএনজি মালিক সমিতির সহ-সভাপতি কাজী মনির হোসেন আমার সময়কে বলেন, উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞার পর আমরা চালকদের মহাসড়কে গাড়ি চালাতে বারণ করেছি। এরপরও চালকরা পুলিশের সঙ্গে যোগসাজশে হাইওয়েতে গাড়ি চালাচ্ছে। ফলে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ঘটছে।

খাঁটিহাতা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহজালাল আলম বলেন, হাইওয়েতে সিএনজি চলাচলের বিষয়ে আমরা অভিযান অব্যাহত রেখেছি। গত ১৭ তারিখ ৩জন নিহত হওয়ার ঘটনায় মামলা দেওয়া হয়েছে সিএনজি মালিক, চালক ও ট্রাকের বিরুদ্ধে। তিনি হাইওয়েতে সিএনজি চলার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, হাইওয়েতে সিএনজি চলাচল না করলে মারা গেল কিভাবে!

এই বিষয়ে হাইওয়ে পুলিশের সিলেট অঞ্চলের পুলিশ সুপার শহীদ উল্লাহ্ বলেন, মহাসড়কে রেজিষ্ট্রেশন থাকুক বা না থাকুক কোন অবস্থাতেই সিএনজি চলতে পারবে না । রেজিষ্ট্রেশন বিহীন সিএনজি কিভাবে মহাসড়কে চললো এবং এক্সিডেন্ট হলো তার জবাবদিহিতা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা (ওসি) কে করতে হবে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার হাইওয়েতে সিএনজি চলাচল নিয়ে ইতিমধ্যে ওসিকে শোকজ করা হয়েছে। সরকার আমাদের নিয়োজিত করেছে জনগণের জানমাল নিরাপত্তা দিতে। জনগণের জানমাল নিয়ে ছিনিমিনি খেলা যাবে না। বিষয়টি শক্তভাবে দেখা হবে’।