ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিটেবাড়ির জায়গা দখল নিয়ে সংঘর্ষ, আহত ৫

মোঃ আল মামুন,জেলা প্রতিনিধি,ব্রাহ্মণবাড়িয়া: ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শহরের সি-অফিসের নোঁয়াপাড়া এলাকায় বিটেবাড়ির ১.৭৫ শতাংশ যায়গা নিয়ে দু-পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এ ঘটনায় একই পরিবারের ৫ জন আহত হয়েছে।
সোমবার (২৯ নভেম্বর) দলিল সূত্রে মালিক মৃত ফরিদ আহমেদ চৌধুরীর স্ত্রী রিনা আখতার চৌধুরী বিটেবাড়ির জায়গা দখলের বিষয়টি সংবাদকর্মীদের নিশ্চিত করেন।
গত শুক্রবার রাতে ও রোববার বিকেলে মেড্ডা সি-অফিস নোঁয়াপাড়া এলাকার আমিনুল ইসলামের ভাতিজা ও তার ভাই সুফিকুল ইসলামের ছেলে নাজমুল হোসেন ও তাজুল ইসলামের ছেলে ইহসানের বিরুদ্ধে বিটেবাড়ির ১.৭৫ শতাংশ জায়গা দখল করতে গিয়ে মৃত ফরিদ আহমেদ চৌধুরী বাড়ির বাউন্ডারি ভাংচুর ও তার পরিবারের সদস্যদের উপর সন্ত্রাসী হামলার অভিযোগ উঠেছে।
আহতরা হলেন, রিনা আখতার চৌধুরী (৪২), খাদিজা চোধুরী (২৪), রুবিনা আখতার মুক্তা (২২), সোহেল মিয়া (৩৫), সামিনা বেগম (৫০)।
এদিকে রুবিনা আখতার মুক্তা ও খাদিজা আখতার গুরুত্ব ভাবে আহত হয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে।
আহত রিনা আখতার চৌধুরী জানান, গত ২৫ আগস্টে তার স্বামী মৃত ফরিদ আহমেদ চৌধুরীর সৎ ছেলে জোবাইর চৌধুরী তাদের বিটেবাড়ির ১.৭৫ শতাংশ যায়গা তার আরও চার ছেলে-মেয়েকে না জানিয়ে স্থানীয় নোঁয়াপাড়ার মৃত নিজাম উদ্দিনের ছেলে আমিনুল ইসলামের কাছে ১৭,৫০,০০০ টাকায় বিক্রি করেন। কিন্তু এই যায়গার দলিল সূত্রে মালিক মৃত ফরিদ আহমেদ। রিনা আখতারের অন্যান্য ছেলে-মেয়েদের সাথে কথা না বলে আমিনুল কেন তার সৎ ছেলে জোবাইয়ের কাছ থেকে ১.৭৫ শতাংশ যায়গা ক্রয় করলো সে-বিষয়ে প্রতিবাদ করেন। তারপর আমিনুল যায়গা দখলে গেলে তাকে বাঁধা প্রদান করায় রিনা আখতারের পরিবারের সাথে আমিনুলের দ্বন্দ্ব তৈরি হয়। পরবর্তীতে রিনার পরিবারের সদস্যরা বিটেবাড়ির যায়গা উদ্ধারের জন্য তার ছেলে লিটন চৌধুরী ব্রাহ্মণবাড়িয়া যুগ্ন জেলা জজ প্রথম আদালতে বাদি হয়ে একটি দেওয়ানী মামলা দায়ের করেন, যার মামলা নং (১২৫/২১)। চলতি বছরের ২৫ আগস্ট মৃত ফরিদ মিয়ার মেয়ে রুবিনা আখতার মুক্তা ব্রাহ্মণবাড়িয়া বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সদর আদালতে বাদি হয়ে আরও একটি ফৌজদারি মামলা দায়ের করেন, যার মামলা নং (সিআর-১২২৯/২১)।
গত শুক্রবার ও রোববার দু’দিন, আমিনুল ইসলামের ভাতিজা নাজমুল হোসেন ও তাজুল ইসলামের ছেলে ইহসানসহ আরও ২০-২৫ দুর্বৃত্ত নিয়ে বিটেবাড়ির ১.৭৫ শতাংশ যায়গা দখল করতে এসে বিটে-বাড়ির বাউন্ডারি গুড়িয়ে দেন। এসব বিষয়ে প্রতিবাদ করার পর রিনা আখতারের বাড়িতে ঢুকে নাজমুল ও ইহসান অতর্কিত ভাবে হামলা করেন। যায়গার লোভ সামলাতে পারেনি বলেই, মৃত নিজাম উদ্দিনের ছেলে আমিনুল ইসলাম, এড. সিরাজুল ইসলাম, তাজুল ইসলাম ও রফিকুল ইসলামের সাথে তাদের বিরোধ দেখা হয়। এখন নাজমুল ও ইহসানের আতংক ও ভয়ে তারা বাড়িতে যায়তে পারেনা।
দেওয়ানী মামলার ব্যাপারে জানতে চাইলে, এ মামলার এডভোকেট আবুল বাশার চৌধুরী জানান, এ মামলা আদালতে বিচারাধীন আছে। আগামী ৫ ডিসেম্বর এ মামলা প্রথম শুনানি হবে। ওয়ারিশদ্বয়ের যায়গা বন্টন ও জোরপূর্বক ভাবে অন্যের যায়গা দখলের ভিত্তিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া যুগ্ন জেলা জজ প্রথম আদালতে বাদি হয়ে রিনা আখতার চৌধুরী ও তার ছেলে লিটন চৌধুরী দেওয়ানি মামলাটি করেন।
বিটে-বাড়ির যায়গা দখল ও দেয়াল ভাংচুর অভিযোগটি মিথ্যে, দাবি করে এড. মুহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম বলেন, ১.৭৫ শতাংশ যায়গা জোবাইয়ের নামের খারিছ করা ছিল। তার পৈত্তিক সম্পত্তি বলেই জোবাইয়ের কাছ থেকে তার-ভাই আমিনুল ইসলাম ১.৭৫ শতাংশ যায়গা ক্রয় করেন। এ যায়গায় নিয়ে একাধিকবার শালিশিও হয়েছিল। স্থানীয় কাউন্সিলর জামাল উদ্দিনসহ এলাকার ময়-মুরুব্বিরা বিষয়টি সমাধান করেছিল। কিন্তু মৃত ফরিদ মিয়ার পরিবারের কেউ তা মানতে রাজি না। বর্তমানে দলিল সূত্রে এ যায়গার মালিক আমিনুলই।
এব্যাপারে সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ এমরানুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, বিটেবাড়ির জায়গা নিয়ে দীর্ঘদিন যাবত দ্বন্দ্ব চলছে।ব্রাহ্মণবাড়িয়া আদালতে দু’পক্ষেরই একাধিক মামলাও চলমান আছে।