ব্যাপক সহিংসতায় আগ্রাখালি ভোটকেন্দ্র স্থগিত

আব্দুল্লাহ আল লোমান, জামালপুর প্রতিনিধি: পুলিশ কর্মকর্তার উপর হামলা, ভোট বাকস ব্যালট পেপার ছিনতাই, ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া, ভাঙ্গচুর, লুটপাট, সর্টগান ফায়ার, টিয়ার সেল নিক্ষেপ, নানা নাশকতামূলক ঘটনায় স্থগিত করা হলো আগ্রাখালি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্র। রোববার. আগ্রাখালি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রিজাইডিং অফিসার. মোঃ আবুল মুন্সুর ভোটকেন্দ্র স্থগিত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

জানা যায়, ইসলামপুর উপজেলার ১১নং চরপুটিমারি ইউনিয়নের একটি ঝুকিপূর্ণ কেন্দ্র আগ্রাখালি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। সকাল থেকে এ কেন্দ্রে স্বাভাবিক ভোটগ্রহণ চল্লেও বিপত্তি দেখা দেয় বেলা বাড়তেই। তখন বেলা সাড়ে ১১টা। ১৮টি ব্যালট পেপারে ভোটগ্রহণ চলছিল। এসময় দুইজন মেম্বার প্রার্থীর মধ্যে ভোটগ্রহণ সংক্রান্ত বাকবিতÐতায় সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। মেম্বারদের দুইপক্ষই ভোটকেন্দ্রে সশস্ত্র ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া চালায়। ভাঙ্গচুর করে ভোটকেন্দ্রের দরজা জানলা কেচিগেইট ও আশপাশের বাড়ি ঘর। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কেন্দ্র ইনচার্য সর্টগানের ফায়ার করলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠে। হামলাকারীরা ভোটকেন্দ্রে হামলা করে দায়িত্বরত কেন্দ্র ইনচার্য এসআই. আতিকুজ্জামান ও আনসার সদস্যদের উপর হামলা করে। এতে বেশ কয়েকজন আহত হন। ভোটকেন্দ্র এক কক্ষে নির্বাচনী কর্মকর্তা কর্মচারী অবরুদ্ধে হয়ে পড়েন। বন্ধ হয়ে যায় ভোট গ্রহণ। এমতবস্থায় সাড়ে ১১টা থেকে ৪টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ স্থগিত থাকে। ৪টার পরে ভোট গগণা শুরু করলে আবারও দুই মেম্বার প্রার্থী ও তাদের কর্মী সমর্থকরা ভোটকেন্দ্রে দায়িত্ব নিয়োজিত কর্মকর্তাদের উপর সশস্ত্র হামলা চালায়। এতে নতুন করে আহত হন পুলিশের ভ্রাম্যমান দলের প্রধান, মাদারগঞ্জ থানার ওসি তদন্ত, রাশেদুজ্জামান। ছিনতাই হয় ৮টি ভোট বাকস। অতঃপর খবব পেয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারি বাহিনীর বিশেষ দল আগ্রাখালি ভোটকেন্দ্রে পৌছে দায়িত্বরতদের উদ্ধার করে নিয়ে যায়। এব্যাপারে আগ্রাখালি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার. মোঃ আবুল মুন্সুর মন্ডল বলেন, ব্যাপক নির্বাচনী সহিংসতা, ভোট বাকস ও ব্যালট পেপার ছিনতাই, ভোটকেন্দ্রে হামলা, ভাঙ্গচুর, ভোটগ্রহণ কাজে নিয়োজিত সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারীদের উপর সশস্ত্র হামলা ইত্যাদি নাশকতার ঘটনায় আগ্রাখালি ভোটকেন্দ্র স্থাগিত করা হয়েছে।