বিপিএল: মনোমুগ্ধকর চট্টগ্রাম পর্ব

নিজস্ব প্রতিবেদক: শেষ হলো বিপিএলের জমজমাট চট্টগ্রাম পর্ব। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে দর্শকরা যেমনটি করে চান, তেমনটি করেই বিপিএলে আবির্ভূত হয়েছিল চট্টগ্রামে। চার-ছক্কার বাহারি আয়োজন, হাই স্কোরিং ম্যাচ, সেই রান টপকে যাওয়া, সেঞ্চুরির জবাব সেঞ্চুরি, হ্যাটট্রিক সবই হয়েছে। এমনকি দুই শতাধিক রানের ইনিংসও ছিল। এবারের আসরে প্রথম ম্যাচে রান খরা ছিল, যা অব্যাহত ছিল চট্টগ্রামে প্রথম দুইদিনও, পরে সে খরাও দূর হয়েছিল। মোদ্দাকথা, দর্শকরা টিভি সেটের সামনে প্রাণভরে উদযাপন করেছেন চট্টগ্রাম পর্বের চার দিনে আটটি ম্যাচ। চট্টগ্রাম পর্ব শেষে বিপিএল আবার ফিরে এসেছে রাজধানীতে। ঢাকায় টুর্নামেন্ট আবার শুরু হবে ৩ ফেব্রুয়ারি থেকে।

চট্টগ্রাম পর্বে পয়েন্ট টেবিলের উত্থান-পতন হয়েছে। ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম যাওয়ার সময় পয়েন্ট টেবিলের নিচের দিকে দুই দল উঠে এসেছে উপরে। পাঁচে থাকা ফরচুন বরিশাল উঠে এসেছে। ৬ ম্যাচে তাদের পয়েন্ট ৮। সবার নিচে থাকা মিনিস্টার ঢাকার অবস্থান নেট রান রেটে এখন দুইয়ে। তাদের পয়েন্ট ৬। সমান পয়েন্ট নিয়ে নেট রান রেটে তিনে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানস, চারে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স। এই দুই দল চট্টগ্রাম পর্ব শুরু হওয়ার আগে ছিল যথাক্রমে এক ও দুইয়ে। কুমিল্লা ছিল অপরাজিত। চট্টগ্রামে শেষ ম্যাচে তারা ঢাকার কাছে পেয়েছে প্রথম হারের স্বাদ। ঢাকায় তিনে থাকা সিলেট সানরাইজার্স চট্টগ্রামে ২ ম্যাচ খেলে কোনো ম্যাচ জিততে পারেনি। ২ পয়েন্ট নিয়ে সবার নিচে তাদের অবস্থান। চারে থাকা খুলনা টাইগার্স নেমে গেছে পাঁচে। তাদের পয়েন্ট ৪।

বিপিএলে সর্বোচ্চ রানের ইনিংসটি হয়েছে চট্টগ্রামে। সিলেটের বিপক্ষে ৫ উইকেটে ২০২ রান করেছিল চট্টগ্রাম। আগেরটিও ছিল তাদের। ঢাকায় খুলনার বিপক্ষে তারা করেছিল ৭ উইকেটে ১৯০। সবচেয়ে বেশি রান তাড়া করার ঘটনাও ঘটেছে চট্টগ্রামে। সিলেটের ৫ উইকেটে ১৭৫ রান ঢাকা পাড়ি দিয়েছিল ১ উইকেট হারিয়ে ১৭ ওভারে। এই ম্যাচেই পাল্টা-পাল্টি সেঞ্চুরি হয়েছিল। সিলেটের হয়ে লিন্ডলে সিমন্স ১১৬ রান করার পর ঢাকার হয়ে পাল্টা জবাব দেন তামিম ইকবাল অপরাজিত ১১১ রানের ইনিংস খেলে। বঙ্গবন্ধু বিপিএলে এই দুইটি ছিল এবারের আসরের প্রথম ও দ্বিতীয় সেঞ্চুরি। একই ম্যাচে দুই সেঞ্চুরি দেখার পরদিন দেখা মিলেছে হ্যাটট্রিকেরও। এবারও একটি পক্ষ ছিল সিলেট। অপর পক্ষ ছিল চট্টগ্রাম। হ্যাটট্রিক করেছিলেন চট্টগ্রামের বাঁহাতি পেসার মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরী। বিপিএলে নিজের অভিষেক ম্যাচেই তিনি এই কীর্তি গড়েছিলেন। আগে ব্যাট করে চট্টগ্রাম ৫ উইকেটে ২০২ রান করেছিল। সিলেটও তার জবাব দিচ্ছিল বেশ ভালোভাবেই। কিন্তু ১৮ নম্বর ওভারে পরপর তিন উইকেট নিয়ে সিলেটের জয়ের পথে কাঁটা বিছিয়ে দেন। তিনি একে একে আউট করেছিলেন উইকেটে সেট হয়ে চট্টগ্রামের জন্য ক্রমেই হুমকি হয়ে উঠা এনামুল হক বিজয় (৭৮) মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত (০) ও রবি বোপারাকে (১৬)।

পয়েন্ট টেবিলের উত্থান-পতনের মতো সর্বোচ্চ রান সংগ্রহকারীর তালিকায়ও এসেছে পরিবর্তন। নামের পরিবর্তন হলেও দলের কোনো পরিবর্তন হয়নি। আগে সর্বোচ্চ রান ছিল ৪ ম্যাচে ১২৪ রান করে মাহমুদউল্লাহর। এবার সেখানে জায়গা করে নিয়েছেন একই দলের তামিম ইকবাল। এক সেঞ্চুরি ও দুই হাফ সেঞ্চুরিতে তার রান ২৬২। ঢাকা পর্ব শেষে ৪ ম্যাচে ১০৫ রান করে তিনি ছিলেন তৃতীয় স্থানে। এখন তিনে নেমে গেছেন মাহমুদউল্লাহ। তার রান ৬ ম্যাচে ১৯৪। শেষ দিন তিনি চট্টগ্রামের বিপক্ষে খেলেন ৭০ রানের অপরাজিত ইনিংস। ঢাকা পর্বের মতো চট্টগ্রাম পর্ব শেষেও দ্বিতীয় স্থানে বিদেশি ক্রিকেটার। তবে নামে এসেছে পরিবর্তন। আগে ৩ ম্যাচে ১১২ রান করে দুইয়ে ছিলেন চট্টগ্রামের বেনি হাওয়েলের। এবার নামের পরিবর্তন হলেও দলের পরিবর্তন হয়নি। ৭ ম্যাচে ২২৩ রান করে দ্বিতীয় স্থানে আছেন একই দলের উইল জ্যাকস। চলতি আসরের প্রথম সেঞ্চুরিয়ান সিলেটের লিন্ডল সিমন্স ৩ ম্যাচে ১৪১ রান করে আছেন সাতে।

ঢাকা পর্ব শেষে বোলিংয়ে উপরের তিনজনই ছিলেন দেশি। এবার সেরা তিনে পরিবর্তনের পাশাপাশি একজন বিদেশি বোলারও আছেন। আগে ৭ উইকেট নিয়ে সবার উপরে ছিলেন সিলেটের নাজমুল ইসলাম অপু। এবার ১০ উইকেট নিয়ে সবার উপরে উঠে এসেছেন বরিশালের দলপতি সাকিব আল হাসান। ১০টি করে উইকেট আছে বরিশালেরই ডুয়াইন ব্রাভো ও খুলনা টাইগার্সের কামরুল ইসলাম রাব্বির।এরা আছেন দুইয়ে ও তিনে। এ ছাড়া ৯টি করে উইকেট আছে চট্টগ্রামের তিন বোলার মেহেদী হাসান মিরাজ, নাসুম আহমেদ ও শরিফুল ইসলামের। এর আছেন চার থেকে ছয়ে। হ্যাটট্রিকম্যান মৃত্যুঞ্জয় ৩ ম্যাচে ৭ উইকেট নিয়ে আছেন দশে।

ম্যান অব ম্যাচের ক্ষেত্রে দেশিদের দাপট ছিল অব্যাহত। ৮ ম্যাচের ৬টিতেই দেশি ক্রিকেটাররা হয়েছেন ম্যাচ সেরা। এর মাঝে সাকিব হয়েছেন পরপর দুই ম্যাচে সেরা। দুই বিদেশি ম্যাচ সেরা হলেন খুলনার আন্দ্রে ফ্লেচার ও কুমিল্লার ডু প্লেসি।

ম্যাড়ম্যাড়ে ঢাকা পর্ব শেষে চট্টগ্রাম পর্বের মুগ্ধতা সবাইকে বিমোহিত করেছে। এখন দেখার বিষয় রাজধানীতে ফিরে আসার পর সেই মুগ্ধতা অব্যাহত থাকে কি না!