বিপিএল আজকের ম্যাচ হারের বৃত্ত ভাঙার দিন তিন দলের

নিজস্ব প্রতিবেদক: সাপ্তাহিক বন্ধের দিন শুক্রবার থেকে চট্টগ্রামে যাত্রা শুরু হয়েছে বঙ্গবন্ধু বিপিএলের। অমিক্রনের কারণে মাঠে দর্শক প্রবেশের সুযোগ নেই। তাই আগ্রহী দর্শকদের ভরসা টিভি সেটের সামনেই। যারা শুক্রবার বিপিএলের খেলা দেখতে টিভি সেটের সামনে বসেছিলেন তাদের সেই খেলা দেখাটা স্বার্থক হয়েছে।

দুই সেঞ্চুরির ম্যাচে জয়ী হয়েছে মিনিস্টার গ্রুপ ঢাকা। সিলেট সানরাইজার্স লিন্ডলে সিমন্সের ১১৬ রানের সুবাদে ৫ উইকেটে ১৭৫ রান করেও ম্যাচ জেতা দূরে থাক, লড়াই-ই করতে পারেনি। তাদের এ রকম লড়াই থেকে ছিটকে ফেলে দেন তামিম ইকবাল সিমন্সেরও চেয়েও আগ্রাসী ব্যাটিং করে অপরাজিত ১১১ রানের ইনিংস খেলে। ঘুমের রাজ্যে দর্শকরা ডুব দিয়েছিলেন তৃপ্তির ঢেকুর তুলে। সেই বিপিএল শনিবারও দুইটি খেলা। শুক্রবারের দ্বিতীয় খেলার রেশ নিয়েই শনিবার অনেকেই শনিবারের খেলা নিয়ে আগ্রহী হয়ে উঠবেন। কিন্তু শনিবার যে চারটি দল নিজেদের মাঝে মোকাবেলা করতে নামবে তাদের তিন দলের গায়েই মাখা আছে হারের উপাখ্যান।

দিনের দ্বিতীয় মুখোমুখি হবে ফরচুন বরিশাল ও খুলনা টাইগার্স। একমাত্র খুলনা টাইগার্সই নামবে জয়ের স্মৃতি নিয়ে। চট্টগ্রাম পর্ব তারা শুরু করেছে জয় দিয়ে। যেখানে ঢাকা পর্ব শেষ করেছিল হার দিয়ে। যে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের কাছে তারা হেরেছিল, সেই চট্টগ্রামকে হারিয়েই ফিরেছে জয়ের ধারায়। ফরচুন বরিশাল জয় দিয়ে আবার শুরু করলেও পরের দুইটি ম্যাচেই তারা হেরেছে। একটি মিনিস্টার গ্রুপ ঢাকার কাছে, অপরটি কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানসের কাছে লক্ষণীয় বিষয় যে দুইটি ম্যাচ তারা হেরেছিল, সেই দুইটি ম্যাচেই গেইল খেলেছিলেন। গেইলকে পেয়ে কোথায় আরো শক্তিশালী হয়ে উঠার কথা,সেখানে তারা আছে হারের বৃত্তে।

সাকিবের বরিশালের হারের বৃত্ত ভাঙার পালা। কিন্তু মুশফিকুর রহিমের দলের বিপক্ষে তা আদৌ কতোটা সম্ভব হবে তা দেখার বিষয়। মুশফিকের খুলনাও ছন্দে ফিরেছে। দলপতি নিজে ফিরেছেন রানে। করোনা নেগেটিভ হওয়াতে সৌম্য সরকারও মাঠে ফিরেছেন। যদিও চট্টগ্রামের বিপক্ষে শুক্রবারের ম্যাচে তিনি সুবিধা করতে পারেননি। কিন্তু করোনায় আক্রান্ত হওয়ার আগে দারুণ ছন্দে ছিলেন এ বাহাতি ড্যাসিং ওপেনার।

দিনের দ্বিতীয় ম্যাচে মুখোমুখি হওয়া দুই দলই হারের বৃত্তে আছে। চট্টগ্রাম তো হেরেছে খুলনার কাছে আর সিলেট সানরাইজার্স মিনিস্টার গ্রুপ ঢাকার কাছে। শনিবার যে কোনো একটি দল জয়ে ফিরছে তা নিশ্চিত। ৪ ম্যাচে চট্টগ্রামের পয়েন্ট ৪। এক ম্যাচ কম খেলে সিলেটের পয়েন্ট ২। চট্টগ্রাম অনেক শক্তিশালী দল হলেও সিলেট এবারের আসরের সবচেয়ে দুর্বল দল। কিন্তু মাঠের খেলায় তার ছিটেফোটাও নেই। প্রথম ম্যাচে কুমিল্লার বিপক্ষে মাত্র ৯৬ রান করেও লড়াই করে হেরেছিল ২ উইকেটে। দ্বিতীয় ম্যাচে তো ঢাকাকে উড়িয়েই দিয়েছিল। চট্টগ্রামে নিজেদের প্রথম ম্যাচে সেই ঢাকাকেই আগে ব্যাট করে সিমন্সের (১১৬) সেঞ্চুরিতে ৫ উইকেটে ১৭৫ রান করে বেশ বিপাকেই ফেলে দিয়েছিল। পরে তামিম ইকবালের অপরাজিত ১১১ রানে ইনিংসের কারণে সিলেট লড়াইও করতে পারেনি। কিন্তু এ দল আসরে যে কোনো দলের জন্য বিরাট মাথা ব্যথার কারণে হয়ে উঠবে।