বিপিএলের হ্যাটট্রিক কথন

নিজস্ব প্রতিবেদক: টি-টোয়েন্টি ম্যাচ মানেই বোলারদের জন্য মৃত্যু ফাঁদ। এ সংস্করণে সব কিছুই করা হয়েছে ব্যাটসম্যানদের জন্য। কীভাবে বোলারদের মেরে রান করা যায়, দর্শকদের বিনোদন দেওয়া যায় আইসিসির ভাবনায় শুধু তাই-ই। তারপরও সেই ফাঁদ থেকে বের হয়ে এসে বোলাররা নিজেদের ক্যারিশমা দিয়ে আলো ছড়ান। আরাধ্য হ্যাটট্রিকের দেখা পান। বিপিএলের এবারের আসরে তেমনই এক হ্যাটট্রিক করেছেন চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের পেসার মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরী।

নিজের অভিষেক ম্যাচ খেলতে নেমেইই তিনি এ হ্যাটট্রিক করেন। যে ম্যাচ ছিল রান বন্যার, সেই ম্যাচেই তিনি করেছেন এ কীর্তি। নিজ দল চট্টগ্রামের ৫ উইকেটে ২০২ রানের জবাবে সিলেট সানরাইজার্সের ৬ উইকেটে ১৮৬ রান।এটি ছিল বিপিএলের ৮ আসরে ষষ্ঠ হ্যাটট্রিক। এ ৬ হ্যাটট্রিকের পাঁচটিই করেছেন পেসাররা। আবার এ ৬ জনের ৩ জন দেশি, ৩ জন বিদেশি। মৃত্যুঞ্জয় ছাড়া বাংলাদেশের বাকি ২ জন হলেন আল আমিন হোসেন ও আলিস ইসলাম। বিদেশি তিন ক্রিকেটার হলেন পাকিস্তানের মোহাম্মদ সামি ও ওয়াহাব রিয়াজ এবং উইন্ডিজের আন্দ্রে রাসেল। এক নজরে বিপিএলের ৬ হ্যাটট্রিক।

মোহাম্মদ সামি

বিপিএলে প্রথম হ্যাটট্রিক করেন পাকিস্তানের মোহাম্মদ সামি। তিনি ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটর্সের হয়ে এ হ্যাটট্রিক করেন। প্রতিপক্ষ ছিল দুরন্ত রাজশাহী। সামির তিন শিকার ছিলেন ড্যারেন স্টিভেনস, আফতাব আহমেদ ও রানা নাভেদুল হাসানকে।

আল-আমিন হোসেন

বরিশাল বুলসের হয়ে ২০১৫ সালে আল-আমিন করেন দ্বিতীয় হ্যাটট্রিক। তার প্রতিপক্ষ ছিল সিলেট সুপার স্টার্স। মুমিনুল হক, রবি বোপারা ও নুরুর হাসান সোহানকে আউট করে আল আমিন এ হ্যাটট্রিক করেন। তিনি ছিলেন প্রথম বাংলাদেশি বোলার।

আলিস আল ইসলাম

আলিস ইসলামের হ্যাটট্রিক ছিল অন্য রকম। ২০১৯ সালে বিপিএলে নিজের অভিষেকেই তিনি এ হ্যাটট্রিক করেন। ঢাকা ডায়নামাইটসের হয়ে রংপুর রাইডার্সের বিপক্ষে আলিস ইসলাম এ হ্যাটট্রিক করেন। মূলত তিনি ছিলেন দলের নেট বোলার। তারপর হঠাৎ করেই সেরা একাদশে সুযোগ পেয়ে যান। তারপর একে একে আউট করেন মোহাম্মদ মিঠুন, মাশরাফি বিন মুর্তজা ও ফরহাদ রেজাকে।

ওয়াহাব রিয়াজ

২০১৯ সালে দ্বিতীয় হ্যাটট্রিক করেন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানসের হয়ে ওয়াহাব রিয়াজ। প্রতিপক্ষ ছিল খুলনা টাইটানস। তিনি একে একে সাজঘরে ফিরিয়েছিলেন ডেভিড ভিসা, তাইজুল ইসলাম ও সাদ্দাম হোসেনকে।

আন্দ্রে রাসেল

২০১৯ সালের আসরে তৃতীয় হ্যাটট্রিক করেন আন্দ্রে রাসেল। ঢাকা ডায়নামাইটসের হয়ে তিনি এ হ্যাটট্রিক করেন। তার শিকার ছিল চিটাগং ভাইকিংসের মুশফিকুর রহিম, ক্যামেরন ডেলপোর্ট ও দাসুন শানাকাকে।

মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরী

মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরীও নিজের অভিষেক ম্যাচে হ্যাটট্রিক করেন। চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের হয়ে তিনি প্রথম খেলতে নামেন। প্রথম ২ ওভারে দিয়েছিলেন ১৭ রান। যে ওভারে হ্যাটট্রিক করেন, সেই ওভারেও প্রথম দুই বলে ১০ রান হজম করেন। এরপর তিনি একে একে এনামুল হক বিজয়, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত ও রবি বোপারাকে আউট করে হ্যাটট্রিক করেন