বিএনপির আন্দোলন এখন টানেলের শেষ পর্যায়ে এসে পৌঁছেছে,টানেল থেকে বের হতে পারবে,আশা তথ্যমন্ত্রীর

জাহাঙ্গীর আলম ব্যুরো প্রধান চট্টগ্রাম: বিএনপির আন্দোলন এখন টানেলের শেষ পর্যায়ে এসে পৌঁছেছে, এখন টানেলের ভেতর থেকে তারা আলো দেখতে পাচ্ছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মেজর হাফিজ উদ্দিন আহমেদের এমন বক্তব্যের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

মহাসমুদ্রে যখন কেউ থাকে, তখন বাঁচার জন্য তারা একটা আলো দেখার চেষ্টা করে, বিএনপি’র অবস্থাটাও হয়েছে ঠিক সেই রকম। টানেলের অভ্যন্তরে তারা আলো দেখতে পারলে ভালো, আমি আশা করবো বিএনপি টানেল থেকে বের হতে পারবে।

শুক্রবার (৭ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় চিটাগাং উইম্যান চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি আয়োজিত সিএমএসএমই বাণিজ্যমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন। চট্টগ্রাম মহানগরের পাহাড়তলী আমবাগানের শহীদ শেখ রাসেল পার্কে বাণিজ্যমেলার উদ্বোধন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

তিনি বলেন, বেশ কয়েক বছর ধরেই বিএনপি টানেলের ভেতর থেকে আলো দেখছেন, শুধু আলো দেখা নয় আমি আশা করব তারা টানেল থেকেই বের হতে পারবেন এবং বিএনপি সত্যিকার অর্থে একটি রাজনৈতিক দল হিসেবে দেশের গণতন্ত্রকে সংহত করার জন্য ভূমিকা রাখতে পারবেন।

পুলিশের ওপর নির্ভর করে সরকার দেশ চালাচ্ছে, পুলিশই একমাত্র সরকারের শক্তি বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এমন বক্তব্যের বিষয়ে ড. হাছান মাহমুদ বলেন, আওয়ামী লীগ কখনো ষড়যন্ত্রের রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না, কখনো সরকারি শক্তির ওপর বিশ্বাস করে না। বরং বিএনপি অস্ত্রের রাজনীতিতে বিশ্বাস করে। অস্ত্রের ওপর ভর করে ও লাশের ওপর পাড়া দিয়ে জিয়াউর রহমান ক্ষমতা দখল করেছিল, টিকেও ছিল লাশের ওপর পাড়া দিয়ে। বেগম খালেদা জিয়াও ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ক্ষমতায় গিয়েছিলেন এবং ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ক্ষমতায় টিকেছিলেন। আওয়ামী লীগ সেটাতে বিশ্বাস করে না।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ভিত্তি হচ্ছে জনগণ, ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায় সবসময় জনগণের রায় নিয়ে রাষ্ট্রক্ষমতায় গেছে। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বেই দেশের স্বাধীনতা এসেছে বঙ্গবন্ধুর হাত ধরে। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নেতৃত্বেই দেশের সব অর্জন অর্জিত হয়েছে। বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরে বাংলাদেশ আজকে মর্যাদার আসনে আসীন হয়েছে।

এর আগে চট্টগ্রাম উইম্যান চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি আয়োজিত বাণিজ্যমেলার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা একজন নারী। যেভাবে জীবনকে হাতের মুঠোয় নিয়ে দেশের মানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে এগিয়ে এসেছেন সেটি শুধু আমাদের দেশের ইতিহাসে নয়, বিশ্ব ইতিহাসে সেটি একটি উদাহরণ। সাম্প্রতিক সময়ে প্রধানমন্ত্রী যখন ভারত সফরে গিয়েছিলেন, তখন প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর সঙ্গে যখন দেখা হয়, তখন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী শেখ হাসিনাকে জড়িয়ে ধরে বলেন আপনি আমার জীবনের জন্য একটি প্রেরণা।

তিনি বলেন, দেশ এগিয়ে যাবার ক্ষেত্রে নারীরা অনেক ভূমিকা রেখেছেন। আজ থেকে ১০ বছর আগে কখনও ভাবেনি একজন নারী ডিসি, এসপি, ইউএনও হতে পারবেন। নারী রাষ্ট্রদূত, নারী হাইকোর্টে এফিলিয়েট ডিভিশনের বিচারপতি, নারীরাই সচিব হচ্ছেন, জননেত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরেই নারীরা এগিয়ে যাচ্ছেন। প্রাইমারি স্কুলের ৭০ শতাংশই নারী শিক্ষিক দায়িত্ব পালন করছেন। পৃথিবীর ৭০ শতাংশ কাজ করে নারীরা।

চট্টগ্রাম উইম্যান চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্টির সভাপতি মনোয়ারা হাকিম আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরী, চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি’র সভাপতি মাহবুবুল আলম, বাংলাদেশ রাবার বোর্ডের চেয়ারম্যান সৈয়দা সারওয়ার জাহান, নারী উদ্যোক্তা নুরান ফাতিমা, আলী সাবের, বাণিজ্য মেলা কমিটির চেয়ারম্যান রেখা আলম চৌধুরী প্রমুখ।

অনুষ্ঠান শেষে ২০২২ সালে প্রথমবারের মতো ৫জনকে প্রীতিলতা চ্যালেঞ্জ আওয়ার্ড দেওয়া হয়, রাজনীতিতে সাবিহা নাহার বেগম, সমাজ সেবায় সেরিনা তাহের, সংস্কৃতিতে শারমিন হোসাইন, ব্যবসায়া লতিফা হক লুসি,ক্রীড়া ও স্বাস্থ্যসেবায় কামরুন নেসা বেগম।