বরিশাল-কুমিল্লা প্লে অফে সিলেটের বিদায়

নিজস্ব প্রতিবেদক: বরিশাল-কুমিল্লা প্লে অফে সিলেটের বিদায়
প্রথম ম্যাচে লো-স্কোরিং, দ্বিতীয় ম্যাচে হাই স্কোরিং এই ধারাতেই বঙ্গবন্ধু বিপিএলের সিলেট পর্বের ম্যাচগুলো শেষ হয়েছে। ঢাকা ও চট্টগ্রামের সঙ্গে সিলেটের ম্যাচ আয়োজনে কিছুটা পার্থক্য ছিল। ঢাকা ও চট্টগ্রামে দুই দিন ম্যাচের পর একদিন বিরতি ছিল। কিন্তু সিলেটে টানা তিন দিন ম্যাচ আয়োজন করে পর্ব শেষ করা হয়েছে।

ঢাকা প্রকাশে লেখা হয়েছিল সিলেট পর্ব শেষে প্লে অফ রাউন্ডের একটা মোটামুটি দৃশ্য পাওয়া যাবে। সেটা কিছুটা অনেকটা পাওয়া গেছে। ৬ দলের মাঝে ৩ দল ভিন্ন প্রেক্ষাপটে নিজেদের অবস্থান নিশ্চিত করেছে। ফরচুন বরিশাল ও কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানস প্লে অফ রাউন্ড খেলা নিশ্চিত করেছে। ৯ ম্যাচে ১৪ পয়েন্ট নিয়ে বরিশাল সবার উপরে। সিলেট এসেছিল তারা দুইয়ে থেকে। ৮ ম্যাচে ১১ পয়েন্ট নিয়ে কুমিল্লা আছে দ্বিতীয় স্থানে। কুমিল্লা ছিল একে। এই দুই দলের পাশাপাশি স্বাগতিক হিসেবে সিলেট সানরাইজার্স একমাত্র দল, যারা আসর থেকে বিদায় নিয়েছে। ৯ ম্যাচে তাদের পয়েন্ট মাত্র ৩। বাকি তিন দল মিনিস্টার গ্রুপ ঢাকা, খুলনা টাইগার্স ও চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের মাঝে লড়াই হবে প্লে অফ রাউন্ডের পরের দুইটি স্থানের জন্য। ঢাকার ৯ ম্যচে ৯, খুলনার ৮ ম্যাচে ৮ ও চট্টগ্রামের ৯ ম্যাচে ৮ পয়েন্ট। এই তিন দলের পয়েন্ট টেবিলে স্থানের হেরফের হয়নি। ঢাকায় ফিরে খুলনা দুইটি ম্যাচই খেলবে কুমিল্লার বিপক্ষে। ঢাকা খেলবে বরিশাল ও চট্টগ্রাম খেলবে সিলেটের বিপক্ষে।

সিলেটে প্রথম ম্যাচে যে রান খরা ছিল, তা সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে ক্রমেই কমে এসেছে। যেমন প্রথম ম্যাচে বরিশাল ৫ উইকেটে ১৫৫ রান করে কুমিল্লার (১২৩/৯) বিপক্ষে ম্যাচ জিতেছিল ৩২ রানে। দ্বিতীয় দিন প্রথম ম্যাচে রান কমে আসে। ঢাকার (১৪৫/৬) বিপক্ষে চট্টগ্রাম ৬ উইকেটে ১৪৮ রান করে টানটানর উত্তেজনার পর ম্যাচ জিতেছিল ৩ রানে। তৃতীয় ও শেষ দিন সেই রান নেমে আসে মাত্র ৮ উইকেটে ১২৯ রানে। খুলনাকে এ রানে আটকে ঢাকা (১৩১/৫) ম্যাচ জিতেছিল ৫ উইকেটে। তিন দিনই দ্বিতীয় ম্যাচ ছিল যথারীতি হাইস্কোরিং। প্রথম দিনের দ্বিতীয় ম্যাচে সিলেটের (১৬৭/৬) বিপক্ষে খুলনা ৩ উইকেটে ১৮২ রান করে জয়ী হয়েছিল ১৫ রানে। দ্বিতীয় দিন বরিশাল ৪ উইকেটে ১৯৯ রান করেও সিলেটের বিপক্ষে স্বস্তিতে ছিল না। সিলেট জবাব দিয়েছিল ৬ উইকেটে ১৮৭ রান করে। শেষ দিনও সিলেট আগে ব্যাটি করে ৫ উইকেটে ১৬৯ রান করে কুমিল্লার (১৭৩/৬) কাছে ম্যাচ হেরেছিল ১ বল বাকি থাকতে ৫ উইকেটে।

ব্যাটিংয়ে শীর্ষ স্থান ফিরে পেয়েছেন তামিম ইকবাল। ঢাকায় ফিরে সিলেটে আসার আগে ঢাকার একটি ম্যাচ বৃষ্টিতে ভেসে গেলে তামিম ইকবাল ব্যাটিং করার সুযোগ পাননি। শীর্ষে উঠে এসেছিলেন চট্টগ্রামের উইল জ্যাক। সিলেটে দুই ম্যাচ খেলে একটিতে খেলেছিলেন অপরাজিত ৭৩ রানের ইনিংস। অপরটি ছিল ৬ রানের। ৮ ম্যাচে ৩৪১ রান করে তামিম এখন সবার উপরে। একটি সেঞ্চুরির সঙ্গে তার হাফ সেঞ্চুরি তিনটি। তামিম দুই থেকে একে উঠে যাওয়াতে দুইয়ে উঠে এসেছেন সিলেটের কলিন ইনগ্রাম। সিলেটে তিন ম্যাচ তার তিনটি ইনিংস ছিল ৩৭, ৯০ ও ৮৯। তার মোট রান ৩০৯। দুইয়ে থাকা চট্টগ্রামের উইল জ্যাক সিলেটে খেলেছেন একটি ম্যাচ। ঢাকার বিপক্ষে সেই ম্যাচ তিনি করেছিলেন ২৬ রান। তার মোট ৩০৬। চার ও পাঁচে আছেন ২৫২ রান করে ঢাকার মাহমুদউল্লাহ ও ২৪৮ রান করে সিলেটের এনামুল হক বিজয়। সিলেট পর্বে কোনো সেঞ্চুরি হয়নি। তবে বড় হাফ সেঞ্চুরি হয়েছে বেশ কয়েকটি। কলিন ইনগ্রামের ৯০ ও ৮৯, সৌম্য সরকারের অপরাজিত ৮২,তামিম ইকবালের অপরাজিত ৭৩ রান করেন। এ ছাড়াও সিকান্দার রাজা ৬৪, মুশফিকুর রহিমের অপরাজিত ৬২ ক্রিস গেইল ৫২, শামীম হোসেন ৫২, মুনিম শাহরিয়ার ৫১, সাকিব আল হাসান ৫০ রান করেন।

পয়েন্ট টেবিলের পরিবর্তন এসেছে। সর্বোচ্চ রান সংগ্রহকারীতেও এসেছে পরিবর্তন। কিন্তু সর্বাধিক উইকেট শিকারিতে আসেনি কোনো পরিবর্তন। সিলেটে আসার আগে ১১ উইকেট নিয়ে সবার উপরে ছিলেন কুমিল্লার মোস্তাফিজুর রহমান। সিলেট পর্ব শেষে ১৫ উইকেট নিয়ে তিনি নিজের অবস্থান ধরে রেখেছেন। তবে তার এই অবস্থান নড়বড়ে হয়ে গিয়েছিল। ১৪ উইকেট নিয়ে তার উপরে ছিলেন বরিশালের দুই বোলার সাকিব ও ডুয়াইন ব্রাভো। কিন্তু শেষ ম্যাচে সিলেটের বিপক্ষে ৩ উইকেট নিয়ে তিনি আবার উপরে চলে আসেন। সাকিব ও ব্রাভো নেমে যান দুই ও তিনে। তিনে থাকা খুলনার কামরুল ইসলাম রাব্বি নেমে গেছেন সাতে। সিলেটে তিনি একটি ম্যাচ খেলেননি। এ ছাড়া ১১ উইকেট করে আছে আরও ৪ জনের। তারা হলেন সিলেটের নাজমুল ইসলাম অপু, কুমিল্লার তানভির ইসলাম, খুলনার থিসারা পেরেরা এবং চট্টগ্রামের শরিফুল ইসলাম।

সিলেট পর্বে কোনো দল অলআউট হয়নি। সবচেয়ে বেশি উইকেট পড়েছে বরিশালের বিপক্ষে কুমিল্লার ৯টি। এরপর ৮ উইকেট পড়েছিল ঢাকার বিপক্ষে খুলনার।

সিলেটে বরিশাল দুইটি ম্যাচ খেলে দুইটিতেই সাকিব আল হাসান ম্যাচ সেরা হন। এটি ছিল তার চলতি আসরে টানা চতুর্থবারের মতো ম্যাচ সেরা হওয়া। বিপিএলের সময় যতো গড়াচ্ছে, এ নম্বর ওয়ান ততোই নিজের দ্যুতি বিচ্ছুরণ করে চলেছেনই।